১ হাজার শয্যার প্রস্তাব দিয়েছিল আদানি গোষ্ঠী, শুভেন্দু চিঠি দিয়ে বলেন ২ হাজার করতেই হবে!
নিউ টাউনের ৫১.৭৫ একর জমিতে প্রস্তাবিত হাসপাতালকে ঘিরে স্বাস্থ্যশিক্ষা, গবেষণা, দক্ষ কর্মী তৈরি এবং চিকিৎসা পর্যটনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নিউ টাউনে হাসপাতাল গড়ার প্রাথমিক পরিকল্পনায় আদানি গোষ্ঠী রেখেছিল ১ হাজার শয্যা। তার মধ্যে ৫০০ শয্যায় রাজ্যের রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চেয়েছিলেন হাসপাতাল আরও বড় হোক। গত ১৩ অগস্ট আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানিকে চিঠি লিখে শয্যাসংখ্যা ২ হাজার করার প্রস্তাব দেন তিনি। দ্য ওয়াল আগেই জানিয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রীর সেই প্রস্তাব মেনে প্রকল্পের পরিকল্পনা বদলেছে আদানি গোষ্ঠী।
শয্যা দ্বিগুণ হলে রাজ্য কী পেতে পারে? আগের অনুপাত বজায় থাকলে ২ হাজার শয্যার মধ্যে ১ হাজার শয্যায় বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ মিলবে বাংলার মানুষের। তবে ঠিক কারা সেই সুবিধা পাবেন এবং কী ভাবে রোগী ভর্তি করা হবে—এসব চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির উপর নির্ভর করবে।
বিনামূল্যের চিকিৎসার মূল্য কত?
১ হাজার শয্যার পুরনো পরিকল্পনায় ৫০০টি বিনামূল্যের শয্যার ভিত্তিতে বছরে প্রায় ৮১৭ কোটি টাকার রোগীকল্যাণমূলক সুবিধা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নে অনুমান করা হয়েছিল। তার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা; বিনামূল্যের বহির্বিভাগীয় পরিষেবায় ৬২ কোটি এবং রোগ নির্ণয়ের পরিষেবায় ২৫ কোটি টাকা।
এই হিসাব তৈরি হয়েছিল কয়েকটি অনুমান ধরে—বিনামূল্যের শয্যায় গড়ে ৮০ শতাংশ রোগী ভর্তি থাকা, রোগীপিছু পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকা এবং চিকিৎসার গড় ব্যয় আড়াই লক্ষ টাকা। নতুন পরিকল্পনায় সত্যিই ১ হাজার বিনামূল্যের শয্যা নিশ্চিত হলে অনেক বেশি রোগী পরিষেবার সুযোগ পাবেন। তবে পুরনো ৮১৭ কোটি টাকার হিসাব সরাসরি দ্বিগুণ করে নতুন প্রকল্পের নিশ্চিত লাভ বলা যাবে না; পরিষেবার ধরন ও রোগী ভর্তির প্রকৃত হার অনুযায়ী অঙ্ক বদলাবে।
হাসপাতালের বাইরেও কী প্রাপ্তি?
নিউ টাউনের ৫১.৭৫ একর জমিতে প্রস্তাবিত হাসপাতালকে ঘিরে স্বাস্থ্যশিক্ষা, গবেষণা, দক্ষ কর্মী তৈরি এবং চিকিৎসা পর্যটনের পরিকল্পনাও রয়েছে। দ্য ওয়ালের আগের রিপোর্টে উদ্ধৃত মূল্যায়ন অনুযায়ী, ১ হাজার শয্যার প্রাথমিক প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৪,০৮৫ কোটি টাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। এটি চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য সুবিধার আর্থিক মূল্যায়ন—সরকারের হাতে আসা নগদ রাজস্ব নয়। শয্যা বাড়লে নতুন করে সেই মূল্যায়ন করাও প্রয়োজন।
অন্য দিকে, জমির চরিত্র বদল ও আনুষঙ্গিক ছাড় বাবদ রাজ্যের এককালীন আর্থিক ব্যয় বা ছেড়ে দেওয়া রাজস্বের হিসাবও রয়েছে। ফলে প্রকল্পের লাভ বিচার করতে হলে শুধু হাসপাতালের আকার দেখলেই চলবে না—কত শয্যায় বিনামূল্যে চিকিৎসা মিলছে, পরিষেবা কবে চালু হচ্ছে এবং প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান কতটা তৈরি হচ্ছে, সেটাও দেখতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রকল্পের ভূমিপুজো শুরু হয়ে গেছে। সকাল সকাল সস্ত্রীক কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন গৌতম আদানি। নবান্ন জানিয়েছে, প্রকল্প সময় ধরে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে সরকারও নজর রাখবে। আশা করা হচ্ছে, ৩ বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করে পুরোদস্তুর শুরু হয়ে যাবে হাসপাতাল।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)