১০ হাজার গাছ লাগিয়ে ‘গ্রিন ম্যান’ পুলিশ কর্মী নিশীথ বিশ্বাস, এএসআইয়ের চোখে সবুজ ভবিষ্যতের স্বপ্ন
খাকি পোশাকে তাঁর পরিচয় আইনরক্ষক হিসেবে। কিন্তু পুলিশের দায়িত্বের বাইরেও তাঁর আরও একটি পরিচয় তৈরি হয়েছে, তিনি গাছের বন্ধু। তাঁর হাতে কোদাল, কাঁধে গাছের চারা কিংবা বীজ ভর্তি ব্যাগ, আর চোখে সবুজ ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
খাকি পোশাকে তাঁর পরিচয় আইনরক্ষক হিসেবে। কিন্তু পুলিশের দায়িত্বের বাইরেও তাঁর আরও একটি পরিচয় তৈরি হয়েছে, তিনি গাছের বন্ধু। তাঁর হাতে কোদাল, কাঁধে গাছের চারা কিংবা বীজ ভর্তি ব্যাগ, আর চোখে সবুজ ভবিষ্যতের স্বপ্ন। ডিউটির ফাঁকে কিংবা অবসর সময় পেলেই গাছ লাগাতে বেরিয়ে পড়েন কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এএসআই নিশীথ বিশ্বাস। নিজের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার গাছ লাগিয়ে ফেলেছেন তিনি। আর সেই কারণেই পুলিশ মহলে এখন তাঁর পরিচয় ‘গ্রিন ম্যান’।
গাছ লাগানো নিশীথবাবুর কাছে নিছক শখ নয়, বরং এক ধরনের নেশা এবং দায়বদ্ধতা। কর্মসূত্রে যে এলাকাতেই থাকুন না কেন, খালি জায়গা দেখলেই তাঁর নজর চলে যায় সেখানে। কোথাও দীর্ঘদিনের জঙ্গল পরিষ্কার করে তৈরি করেন ছোট্ট সবুজ পরিসর, কোথাও আবার পড়ে থাকা জমিতে রোপণ করেন গাছের চারা। আম, জাম, কাঁঠাল-সহ বিভিন্ন ফলের গাছ যেমন তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে, তেমনই তিনি লাগান নানা ধরনের ফুলের গাছ।
বছরের পর বছর ধরে এই কাজ করতে করতে সংখ্যাটা পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ১০ হাজারে। তবে এই মাইলস্টোনে পৌঁছেও থামতে রাজি নন নিশীথবাবু। তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য আরও বড়—এক লক্ষ গাছ লাগানো। কর্মস্থল বদলালেও সেই লক্ষ্য বদলাবে না। বরং নতুন জায়গায় নতুন করে সবুজ গড়ে তুলতে চান তিনি।
নিজের হাতে লাগানো একটি চারার ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠা, তারপর সেই গাছে ফুল ফোটা বা ফল ধরা—এই দৃশ্যই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার। শুধু তাই নয়, গাছের ডালে পাখি এসে বসলে কিংবা নতুন প্রাণের আনাগোনা শুরু হলে তাঁর আনন্দ আরও বেড়ে যায়। তাঁর কথায়, 'নিজের হাতে লাগানো গাছকে বড় হতে দেখা এবং তার ছায়ায় অন্য প্রাণীদের আশ্রয় নিতে দেখা এক গভীর তৃপ্তির বিষয়।'
আজকের দিনে যেখানে দ্রুত নগরায়ন এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, সেখানে একজন পুলিশকর্মীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্যরকম বার্তা দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশের প্রতি একজন নাগরিকের দায়বদ্ধতাও যে গুরুত্বপূর্ণ, নিশীথবাবু যেন সেটাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
তাঁর এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে পুলিশ মহলে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি কৌশিক বসাকও নিশীথবাবুর এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, "সমাজের প্রতি নিশীথবাবুর চিন্তাভাবনা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর এই কর্মকাণ্ড আগামী দিনে আরও অনেক পুলিশকর্মীকে পরিবেশ রক্ষার কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।"
পুলিশের কাজ যে শুধুমাত্র অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কিংবা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তা নিজের কাজের মাধ্যমেই দেখিয়ে চলেছেন নিশীথ বিশ্বাস। দশ হাজার গাছ তাঁর কাছে শেষ গন্তব্য নয়, বরং বড় এক যাত্রার শুরু। তাঁর স্বপ্ন একদিন সেই সংখ্যা এক লক্ষে পৌঁছবে। আর যতদিন হাতে কোদাল তুলে নেওয়ার শক্তি থাকবে, ততদিন নতুন নতুন জায়গায় সবুজের বীজ বুনে যাওয়ার ইচ্ছাটাও থাকবে তাঁর।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)