অনন্ত আম্বানির চুল দানের পর চর্চায় তিরুপতির রীতি, কেন এমন কিছু ভগবানকে উৎসর্গ করেন ভক্তরা?
অনন্ত আম্বানির চুল দানের পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে তিরুমালা শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দিরের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য। কিন্তু কেন ভক্তরা এখানে এসে মাথা মুণ্ডন করেন?
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুমালার শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দিরে সম্প্রতি পুজো দিতে গিয়ে প্রাচীন ধর্মীয় প্রথা মেনে চুল দান করলেন রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানি। তাঁর এই পদক্ষেপের পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে তিরুপতি মন্দিরের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় আচার এই 'চুল দান'। কেন ভক্তরা মাথার চুল কেটে ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরকে উৎসর্গ করেন? অনেকে বলছেন, শুধু বিশ্বাস নয়, এই রীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাচীন পৌরাণিক কাহিনি।
হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই প্রথার সূত্রপাত ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরকে ঘিরে। জ্যোতিষাচার্য দেবের বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় এক গোয়ালা ভুলবশত কুঠার দিয়ে ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের মাথায় আঘাত করেছিলেন। সেই আঘাতে তাঁর মাথার একাংশের চুল নষ্ট হয়ে যায়। এই ঘটনার কথা জানতে পেরে ভগবানের একনিষ্ঠ ভক্ত নীলা দেবী নিজেই নিজের চুল কেটে তাঁকে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন।
কথিত আছে, নিজের তপস্যা ও ভক্তির শক্তিতে নীলা দেবী তাঁর চুল ভগবানকে নিবেদন করেন। ভক্তির এই নিঃস্বার্থ প্রকাশে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান তাঁকে আশীর্বাদ করেন। সেই ঘটনার স্মৃতিতেই পরবর্তী সময়ে ভক্তদের মধ্যে চুল দানের প্রথা চালু হয়। বিশ্বাস করা হয়, আন্তরিক ভক্তিভরে এই আচার পালন করলে ভগবান ভেঙ্কটেশ্বর ভক্তের মনস্কামনা পূরণ করেন।
তবে এই রীতির গুরুত্ব শুধু পৌরাণিক কাহিনিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মানুষের চুল অহংকার, আত্মমর্যাদা ও জাগতিক আসক্তির প্রতীক। তাই ভগবানের সামনে মাথার চুল উৎসর্গ করা মানে নিজের অহং ত্যাগ করে সম্পূর্ণ বিনয়ের সঙ্গে ঈশ্বরের শরণাপন্ন হওয়া। একে আত্মসমর্পণ, নম্রতা এবং আধ্যাত্মিক শুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়।
প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত তিরুমালা মন্দিরে এসে এই আচার পালন করেন। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পপতি, ক্রীড়াবিদ কিংবা চলচ্চিত্র জগতের বহু পরিচিত মুখ বাদ যায় না। অনন্ত আম্বানির সাম্প্রতিক চুল দান সেই দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকেই আবারও সামনে এনে দিয়েছে।
আর আজও তিরুপতিতে চুল দান শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় রীতি নয়, বরং বিশ্বাস, কৃতজ্ঞতা, আত্মসমর্পণ এবং ঈশ্বরের প্রতি অটল ভক্তির এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়েও এই প্রথার জনপ্রিয়তা এতটুকুও কমেনি।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)