আত্মীয়রাও স্ক্যানারে! টাকা-সোনা উদ্ধারের ঘটনায় টুলু মণ্ডলের শ্বশুরবাড়িতেও হানা এসটিএফের

বুধবার সকালে এসটিএফের সদস্যরা আচমকাই হাজির হন টুলু মণ্ডলের শ্যালক মিন্টু শেখ ওরফে মহম্মদ সামসুল আলমের বাড়িতে। তবে শুধু মিন্টুর বাসভবনেই নয়, একই সঙ্গে অভিযান চালানো হয় তাঁর আরও এক শ্যালক নুরুল ইসলামের বাড়িতেও। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশ যখন অভিযানের জন্য মিন্টুর বাড়িতে পৌঁছয়, তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

Aug 05, 2026 - 17:47
0 0
আত্মীয়রাও স্ক্যানারে! টাকা-সোনা উদ্ধারের ঘটনায় টুলু মণ্ডলের শ্বশুরবাড়িতেও হানা এসটিএফের

বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং সোনা উদ্ধারের পর এবার তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করল রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসটিএফ (STF)। বীরভূমের দাপুটে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর থেকেই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ওপর কড়া নজর রাখছিলেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই বুধবার সকালে একযোগে টুলু মণ্ডলের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বাড়িতে হানা দিল এসটিএফের একটি বিশেষ দল।

অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ এই বিতর্কিত ব্যবসায়ীর কালো টাকার উৎস কোথায় এবং সেই বিপুল অর্থ আর কোথায় কোথায় ছড়িয়ে রাখা রয়েছে, তা খুঁজে বের করতেই পুলিশের এই জোরদার পদক্ষেপ বলে জানা যাচ্ছে। হঠাৎ এই অভিযানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়।

বুধবার সকালে এসটিএফের সদস্যরা আচমকাই হাজির হন টুলু মণ্ডলের শ্যালক মিন্টু শেখ ওরফে মহম্মদ সামসুল আলমের বাড়িতে। তবে শুধু মিন্টুর বাসভবনেই নয়, একই সঙ্গে অভিযান চালানো হয় তাঁর আরও এক শ্যালক নুরুল ইসলামের বাড়িতেও। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশ যখন অভিযানের জন্য মিন্টুর বাড়িতে পৌঁছয়, তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

তদন্তকারীরা তাঁর জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও মিন্টু শেখের কোনও হদিস মেলেনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর অনুপস্থিতিতেই বাড়ি জুড়ে তল্লাশি প্রক্রিয়া শুরু করেন আধিকারিকরা। ঘরে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি মিন্টুর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁরা কোথায় গেছেন বা সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক লেনদেন কীভাবে চলত, তা জানার চেষ্টা করেন আধিকারিকরা।

পুলিশের দাবি, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি এবং অর্থ উপার্জন করেছেন ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল। আর এই সমস্ত অর্থই আদতে সাধারণ মানুষের এবং বেআইনি কারবারের মাধ্যমে অর্জিত। কিছুদিন আগেই বীরভূমের সিউড়ির সুভাষপল্লিতে টুলুর নিজস্ব বাসভবনেও বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছিল।

তদন্তকারীদের অনুমান, নিজের অর্জিত এই বিশাল পরিমাণ কালো টাকা সরাতে এবং লুকিয়ে রাখতে নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের ব্যবহার করতেন টুলু। সেই কারণেই একের পর এক আত্মীয়ের ডেরায় হানা দিচ্ছে পুলিশ। মিনার মণ্ডলের কাছে থাকা কোটি কোটি টাকার সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, কিংবা অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে টাকা গচ্ছিত রাখা হয়েছে কি না - তা বিস্তারিত জানতে আপাতত তল্লাশি প্রক্রিয়া জারি রেখেছেন গোয়েন্দারা।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User