‘আমরা অতিরিক্ত সুবিধা চাই না, শুধু সুযোগটা দিন’: ফ্রিডম বিয়ন্ড মিডনাইটে -এ অগ্নিমিত্রা পাল

১৪ আগস্ট রাতে ‘দ্য ওয়াল’-এর উদ্যোগে কলকাতায় আয়োজিত হয় মহিলাদের বিশেষ ওয়াকথন তথা পদযাত্রা ‘ফ্রিডম বিয়ন্ড মিডনাইট’ (Freedom Beyond Midnight)। বালিগঞ্জ শিক্ষা সদনের সামনে থেকে শুরু হয়ে গড়িয়াহাট ফ্লাইওভার ও গোলপার্ক হয়ে ফের বালিগঞ্জ শিক্ষা সদনের সামনে এসে শেষ হয় এই ওয়াকথন। প্রায় ৫ হাজার মহিলা এই পদযাত্রায় অংশ নেন।

Aug 15, 2026 - 18:48
0 0
‘আমরা অতিরিক্ত সুবিধা চাই না, শুধু সুযোগটা দিন’: ফ্রিডম বিয়ন্ড মিডনাইটে -এ অগ্নিমিত্রা পাল

দেশ স্বাধীন হয়েছে ৭৯ বছর আগে। কিন্তু মহিলাদের স্বাধীনতার লড়াই কি শেষ হয়েছে? স্বাধীনতা দিবসের প্রাক রাতে কলকাতার রাজপথে দাঁড়িয়ে সেই প্রশ্নই তুললেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘মহিলারা কোনও অতিরিক্ত সুবিধা চান না, তাঁরা চান সম্মান, সমান সুযোগ এবং নিজের জীবন সম্পর্কে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার।

১৪ আগস্ট রাতে এর উদ্যোগে কলকাতায় আয়োজিত হয় মহিলাদের বিশেষ ওয়াকথন তথা পদযাত্রা ‘ফ্রিডম বিয়ন্ড মিডনাইট’ (Freedom Beyond Midnight)। বালিগঞ্জ শিক্ষা সদনের সামনে থেকে শুরু হয়ে গড়িয়াহাট ফ্লাইওভার ও গোলপার্ক হয়ে ফের বালিগঞ্জ শিক্ষা সদনের সামনে এসে শেষ হয় এই ওয়াকথন। প্রায় ৫ হাজার মহিলা এই পদযাত্রায় অংশ নেন।

এই ওয়াকথনের ফ্ল্যাগ অফ করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুধু ফ্ল্যাগ অফ করেই থেমে থাকেননি তিনি। শুরু থেকেই জানিয়েছিলেন, গোটা পথ মহিলাদের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটবেন। সেই মতোই রাতের কলকাতার রাস্তায় অন্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে হেঁটে তিনি বার্তা দেন—মহিলাদের স্বাধীনতা কোনও স্লোগান নয়, এটি তাঁদের অধিকার।

‘স্বাধীনতার লড়াই এখনও চলছে’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল প্রথমেই স্মরণ করেন স্বাধীনতা সংগ্রামের সেইসব মহিলাদের, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু ভারতবর্ষের মহিলাদের, পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের স্বাধীনতা নিয়ে লড়াই ক্রমাগত চলছে।”

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, মাতঙ্গিনী হাজরা, কল্পনা দত্ত, বীণা দাস, অরুণা আসফ আলি-সহ অসংখ্য মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামে যে আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের কথা স্মরণ করে অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, আজকের স্বাধীনতার ভিত তৈরি হয়েছে তাঁদের লড়াইয়ের উপরেই। তবে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের পাশাপাশি বর্তমান সময়ের মহিলাদের লড়াইকেও সমান গুরুত্ব দেন তিনি।

কলকাতায় এটিই ছিল মহিলাদের জন্য প্রথম কোনও ওয়াকথন। সে দিক থেকে মাইলফলক তৈরি করেছে দ্য ওয়ালের এই উদ্যোগ।এডিটর ইন চিফ শঙ্খদীপ দাসকে এ জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান অগ্নিমিত্রা। সেই সঙ্গে বলেন, গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মহিলাদের আত্মবিশ্বাসে। তিনি বলেন,“বদল হলো আজ মহিলাদের কনফিডেন্স এসেছে। আমরা মাথা তুলে বলছি, না, আমরাও পারি।” তাঁর বক্তব্য, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহিলাদের সক্ষমতা নিয়ে আর প্রশ্ন তোলার সময় নেই। একজন ছেলে যা করতে পারে, একজন মহিলাও তা করতে পারেন। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন সমান সুযোগ এবং সম্মান।

অগ্নিমিত্রার কথায়, “আমাদের সেই সম্মানটুকু চাই। সেই প্ল্যাটফর্মটা আমাদের চাই। আমরা এক্সট্রা অ্যাডভান্টেজ চাই না। শুধু সুযোগটা দিন।” এই একটি বক্তব্যেই যেন ‘Freedom Beyond Midnight’-এর মূল সুরটি ধরা পড়ে—মহিলাদের জন্য আলাদা কোনও বিশেষাধিকার নয়, বরং সমান অধিকার এবং সমান সুযোগ।

‘আমি কী পরব, কী খাব—সেটা আমি ঠিক করব’

মহিলার স্বাধীনতার প্রশ্নে ব্যক্তিগত পছন্দ ও সিদ্ধান্তের অধিকারকেও সামনে আনেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, একজন মহিলা কী পরবেন, কী খাবেন, কখন বাড়ি থেকে বেরোবেন বা কখন বাড়িতে ফিরবেন—সেই সিদ্ধান্ত অন্য কেউ চাপিয়ে দিতে পারেন না। অগ্নিমিত্রার কথায়,“আমি কী পড়ব সেটা আমাকে কেউ বলে দেবে না। আমি কী খাবো আমাকে কেউ বলে দেবে না। আমি কখন বেরোবো, কখন ঢুকব, আমাকে কেউ বলে দেবে না। এটা আমার জীবন।”

তবে সেই স্বাধীনতার সঙ্গে সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নিজের জীবন নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার থাকবে, একইসঙ্গে সমাজের প্রতি সম্মানও বজায় থাকবে। অর্থাৎ স্বাধীনতা মানে বেপরোয়া হওয়া নয়। স্বাধীনতা মানে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার অধিকার।

‘একজন মহিলা এগিয়ে গেলে গোটা সমাজ এগিয়ে যায়’

‘Freedom Beyond Midnight’-এর মঞ্চ থেকে মহিলাদের একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান অগ্নিমিত্রা। তাঁর কথায়, একজন মহিলা যখন এগিয়ে যান, তখন তাঁর সঙ্গে শুধু তাঁর নিজের পরিবার নয়, আশপাশের আরও বহু মহিলা এগিয়ে যান। পাশের বাড়ির কাকিমা, মাসিমা থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রজন্মের মেয়েরাও সেই অগ্রগতির অংশ হয়ে ওঠেন।
অগ্নিমিত্রার বার্তা, তাই লড়াইটা একার নয়। একজন মহিলার সাফল্যকে অন্য মহিলার সাফল্য হিসেবেই দেখতে হবে। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আয়োজিত এই ওয়াকথনকে সেই সংহতির প্রতীক হিসেবেই দেখেছেন তিনি।

তাঁর কথায়, আগামী দিনে ভারতবর্ষের মহিলারা আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবেন—এই প্রত্যাশাই থাকা উচিত। আর সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই ১৪ আগস্ট রাতে কলকাতার রাজপথে প্রায় ৫ হাজার মহিলা একসঙ্গে হাঁটলেন। তাঁদের হাতে ছিল না কোনও রাজনৈতিক পতাকা। ছিল না কোনও দলীয় স্লোগান। ছিল একটি স্পষ্ট দাবি—স্বাধীনতা যেন দিনের আলোতেই সীমাবদ্ধ না থাকে। রাত নামলেও একজন মহিলার অধিকার যেন বদলে না যায়।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User