এভার্টনের বিরুদ্ধে ধরা পড়ল ম্যান ইউয়ের পুরনো রোগ! ১৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড কি তবে জলে গেল?

১৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সেই পুরনো রোগ। এভার্টনের বিরুদ্ধে জঘন্য পারফরম্যান্সের পর কাঠগড়ায় মাইকেল ক্যারিকের দলের মিডফিল্ড ও রক্ষণ।

Sep 07, 2026 - 19:19
0 0
এভার্টনের বিরুদ্ধে ধরা পড়ল ম্যান ইউয়ের পুরনো রোগ! ১৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড কি তবে জলে গেল?

গ্রীষ্মকালীন দলবদলে শুধুমাত্র মিডফিল্ড গুছিয়ে নিতে এই বিপুল অর্থ ঢেলেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (Manchester United)। উদ্দেশ্য ছিল মাঝমাঠের দখল নেওয়া। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে এভার্টনের বিরুদ্ধে ফের সেই পুরনো রোগ প্রকট। মাইকেল ক্যারিকের দলের মাঝমাঠে সেই পরিচিত খামতি। নড়বড়ে রক্ষণভাগ। লড়াই করার মানসিকতার চূড়ান্ত অভাব।

সুযোগের অপচয়

বিরতির ঠিক পরই ব্রায়ান এমবিউমোর গোলে লিড নেয় ইউনাইটেড। প্রথমার্ধের ম্যাড়ম্যাড়ে ফুটবলের পর যা হতে পারত টার্নিং পয়েন্ট। বিপক্ষ এভার্টনের (Everton FC) অবস্থাও তথৈবচ। দলবদলের শেষ দিনে সেরা তারকা ইলিমান এনডিয়ায়ে সহ দু'জন ফরোয়ার্ডকে বিক্রি করেছে তারা। পরিবর্ত হিসেবে কাউকে নেয়নি। জেমস গার্নারও চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। দলে বলতে গেলে মাত্র একজন স্বীকৃত স্ট্রাইকার। সমর্থকদেরও বিশেষ উচ্ছ্বাস ছিল না।

এমন একটা দলকে চেপে ধরার এটাই ছিল আদর্শ সময়। কিন্তু ইউনাইটেডের খেলায় সেই তাগিদের লেশমাত্র দেখা যায়নি।

নড়বড়ে রক্ষণ ও গেম ম্যানেজমেন্টের অভাব

খেলার শেষ বাঁশি বাজার সাত মিনিট আগে প্রথম সমতা ফেরায় এভার্টন। এমবিউমোর গোলের পর ইউনাইটেড যে মাত্রায় রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিল, তাতে এই গোল হজম করাটা একপ্রকার অবধারিতই ছিল। ম্যান ইউ রক্ষণ ইতিমধ্যে তিন ম্যাচে ছ'টি গোল হজম করেছে। বেঞ্জামিন সেসকোর শেষদিকের গোলে ফের লিড ফিরে পাওয়ায় মনে হচ্ছিল যেন ফাঁড়া কাটল। কিন্তু গেম ম্যানেজমেন্টের চূড়ান্ত অভাব। আর তার ফায়দা লুটে মেইটল্যান্ড-নাইলসের রকেটের মতো শটে জয়সূচক গোল ছিনিয়ে নেয় এভার্টন (Premier League)। যে জায়গা থেকে ইউনাইটেডের হারার কথা ছিল না, সেখান থেকেই ম্যাচ খোয়াতে হয় তাদের।

র‍্যাশফোর্ড-শ'র দাপট, বাকিদের ব্যর্থতা

অ্যাটাকে মার্কাস র‍্যাশফোর্ড (Marcus Rashford) এবং লুক শ-র যুগলবন্দি কিছুটা আলো ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। এভার্টনের মেকশিফট রাইট-ব্যাক মার্লিন রোহলকে কার্যত ঘোল খাইয়েছেন ইংরেজ উইঙ্গার। ২২ মিনিটের মাথায় রোহলকে বোকা বানিয়ে বাইলাইন ধরে উঠে দুরন্ত কাটব্যাক। বল পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন ম্যাথিউস কুনহা (Matheus Cunha)।

শেষ ২০ মিনিটে র‍্যাশফোর্ড চোট পেয়ে উঠে যেতেই ইউনাইটেডের আক্রমণের ধার কমে যায়। কুনহা এবং এমবিউমো বারবার বলের দখল হারিয়েছেন। ব্রুনো ফার্নান্দেজের (Bruno Fernandes) দিনটা একেবারেই ভাল যায়নি। কোবি মাইনো নজর কাড়লেও, তাঁর পাশে ইউরি টিলেমান্স একেবারে নিষ্প্রভ। লেফট উইংয়ে লুক শ অবশ্য দুরন্ত দৌড়ে সেসকোর গোলের বলটি সাজিয়ে দেন।

ক্যারিকের সাফাই ও আসন্ন কঠিন লড়াই

র‍্যাশফোর্ড ও শ-র বোঝাপড়ার প্রশংসা করেছেন খোদ ক্যারিক। তাঁর কথায়, 'দলের মধ্যে আমরা পার্টনারশিপ এবং কম্বিনেশন গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। ওরা দু'জন বেশ কিছুদিন ধরে একসঙ্গে খেলছে। ওদের বোঝাপড়াটা ভাল। সব জায়গাতেই এই কম্বিনেশনগুলো গড়ে তোলাটা আমাদেরই দায়িত্ব।' ম্যাচের শুরুটা 'খুব একটা খারাপ ছিল না' বলেও দাবি করেন ইউনাইটেড বস। তবে রক্ষণের খামতির কথাও স্বীকার করে নেন তিনি (Football News)।

তিন ম্যাচে মাত্র চার পয়েন্ট নিয়ে এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে (Champions League) নামছে ইউনাইটেড। তিন বছর পর এই আসরে প্রত্যাবর্তন। বৃহস্পতিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রতিপক্ষ আজারবাইজানের অখ্যাত ক্লাব সাবাহ এফসি। তারপর রবিবার ঘরের মাঠেই ম্যানচেস্টার সিটির (Manchester City) বিরুদ্ধে মহারণ। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দুই ম্যাচে সিটি ও আর্সেনালকে হারিয়েছিলেন ক্যারিক। এবার সিটির বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ইউনাইটেডকে খোলনলচে বদলাতেই হবে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User