'এমন হোটেলের অনুমতি কীভাবে? তদন্তে বিশেষ দল গঠন হবে!' নিউ মার্কেটের ঘটনায় কড়া অগ্নিমিত্রা
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হোটেলের আবাসিকদের প্রায় সকলেরই দাবি, সেখানে কোনওরকম যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি আগুন লাগার পর ফায়ার অ্যালার্মও বাজেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে আগুনের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়েনি বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কলকাতার নিউ মার্কেট (New Market Hotel Fire) এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাতের এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। আগুন কী ভাবে লাগল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, হোটেলের স্যুইচ বোর্ড অথবা এসি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালানো হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফরেন্সিক দলের সদস্যরা। আগুনের উৎস কোথায় ছিল এবং কী ভাবে তা দ্রুত হোটেলের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ল, তা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। একই সঙ্গে হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা ছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এই ঘটনার পর সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন - এমন একটি হোটেলকে কী ভাবে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়েছিল? ঘটনাস্থলে গিয়ে এই প্রশ্নই তুলেছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। তাঁর বক্তব্য, হোটেলটির অনুমোদনের ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভা, ইলেকট্রিক ডিপার্টমেন্ট এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্ট কী ভাবে ছাড়পত্র দিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পুরমন্ত্রী জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এই ঘটনা তদন্তের জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করা হবে। তাঁর প্রশ্ন, হোটেলটিকে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কী ভাবে। একই সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স কী ভাবে দেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা দরকার বলে জানিয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে নাম না করে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দিকেও আঙুল তুলেছেন পুরমন্ত্রী।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, কেএমসি, ইলেকট্রিক ডিপার্টমেন্ট এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তরফে কী ভাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা জানা জরুরি। শুধু তাই নয়, হোটেলটির ট্রেড লাইসেন্স কী ভাবে দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্নও রয়েছে। অর্থাৎ অগ্নিকাণ্ডের তদন্তের পাশাপাশি হোটেলটির অনুমোদন এবং প্রশাসনিক ছাড়পত্রের বিষয়টিও এখন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিনিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে পুরমন্ত্রী তারাপীঠের উদাহরণও দেন। তাঁর বক্তব্য, তারাপীঠের প্রায় সব হোটেলেই অত্যন্ত ভালভাবে এক্সিটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সমস্ত পথ অনেক সময় বন্ধ রাখা হত। তাঁর দাবি, গ্রাহক টাকা না দিয়ে যাতে চলে যেতে না পারেন, সেই আশঙ্কা থেকেই এমনটা করা হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে ব্যবসা এবং নিরাপত্তা—দুই দিকই বজায় থাকে।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হোটেলের আবাসিকদের প্রায় সকলেরই দাবি, সেখানে কোনওরকম যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি আগুন লাগার পর ফায়ার অ্যালার্মও বাজেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে আগুনের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়েনি বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। আগুনে ঝলসে গিয়ে কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
দমকলকর্মীদের প্রাথমিক অনুমান, হোটেলের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। পরে সেখান থেকেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘন ধোঁয়ায় হোটেলের ভিতরে থাকা মানুষজন বিপদের মধ্যে পড়েন। উদ্ধারকার্য চালানোর সময়ও দমকলকর্মীদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
এদিকে, নিউ মার্কেটের এই হোটেলকাণ্ডে হোটেলের মালিক পলাতক বলে জানা গিয়েছে। ফলে তাঁকে খুঁজে বের করাও পুলিশের তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে হোটেল মালিকের কোনও গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গের যোগ রয়েছে কি না, তা জানার জন্য তাঁর বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে মাত্র একজনের দেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের পরিচয় জানার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি কী কারণে এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ল, হোটেলের ভিতরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, ফায়ার অ্যালার্ম কেন কাজ করেনি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার যথাযথ ব্যবস্থা ছিল কি না - এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ ও ফরেন্সিক দল।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)