কৃষক-ছাত্র-যুবদের এক মঞ্চে আনতে টিকাইতের সঙ্গে বৈঠক সিজেপি-র, ছকলেন আন্দোলনের রণকৌশল
স্রেফ ছাত্র আন্দোলনে সীমাবদ্ধ না থেকে কৃষক ও যুব সমাজকে এক ছাতার তলায় আনতে উদ্যোগী ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দিল্লিতে রাকেশ টিকাইতের সঙ্গে বৈঠক সিজেপি নেতাদের।
ছাত্র আন্দোলনের গণ্ডি পেরিয়ে এবার কৃষক ও যুবকদের সঙ্গে যৌথ মঞ্চ গড়ার উদ্যোগ নিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার দিল্লিতে রাকেশ টিকাইত (Rakesh Tikait)-এর সঙ্গে বৈঠক করেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রানকা-সহ অন্য নেতারা এবং ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (BKU)-এর প্রতিনিধি।
বৈঠকে কৃষক, ছাত্র এবং যুবসমাজকে একত্রিত করে ভবিষ্যতের আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছে সিজেপি। সংগঠনের বক্তব্য, শিক্ষা-সংক্রান্ত ইস্যুর পাশাপাশি কৃষক ও যুবকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা এখন তাদের লক্ষ্য।
বৈঠকের পর আশুতোষ রানকা দাবি করেন, দেশের কৃষক, ছাত্র এবং যুবকদের একসঙ্গে এনে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সর্বভারতীয় স্তরে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন স্থগিত করার কয়েক দিনের মধ্যেই এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষা-সংক্রান্ত দাবির বাইরেও আন্দোলনের পরিধি বাড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে।
সিজেপির অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলনের সময় কেন্দ্র এবং কয়েকটি রাজ্য সরকার যে আশ্বাস দিয়েছিল, তার অনেকটাই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। সংগঠনের দাবি, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। রাজস্থানের মতো রাজ্যে এখনও এফআইআর করা হচ্ছে ছাত্রদের বিরুদ্ধে।
বৈঠকে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতেও টিকাইতের সমর্থন চাওয়া হয় বলে খবর। সিজেপি হুঁশিয়ারি দেয়, এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না করলে কৃষক সংগঠন এবং যুব সংগঠনগুলিকে সঙ্গে নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আন্দোলন শুরু হতে পারে।
উল্লেখ্য, দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় একাধিকবার সেখানে গিয়ে সমর্থন জানিয়েছিলেন রাকেশ টিকাইত। ২০ জুলাই সিজেপির ডাকা 'সংসদ চলো' কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়া মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। পরে সেই আন্দোলন দেশের একাধিক রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবাদকারীদের অন্যতম দাবি ছিল, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ২৫ জুলাই আন্দোলন স্থগিত হলেও ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি সরকার রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ তুলে ফের সর্বভারতীয় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)