কেউ চিবোচ্ছেন ঘাস, কেউ স্নান সারছেন দুধে! খেতাব জিতে চ্যাম্পিয়নদের এ কেমন পাগলামি?

আনন্দে ঘাস খাচ্ছেন জোকোভিচ! দুধের স্নান থেকে টার্কির ঠ্যাঙ— খেলার দুনিয়ার অবাক করা সব সেলিব্রেশনের খোঁজ রইল।

Sep 18, 2026 - 11:30
0 0

বিশ্বকাপের ময়দান। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে রুদ্ধশ্বাস জয়। সে দিন আনন্দে আত্মহারা হয়ে মাঠের খানিকটা ঘাস চিবিয়ে খাওয়া উচিত ছিল! ইংল্যান্ডের ম্যানেজার টমাস টুখেলের মুখে এমনই আক্ষেপ।

ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যচিত্রে তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি, 'ম্যাচের পর এক বন্ধুকে টেক্সট করি। লিখেছিলাম, একটু ঘাস খেয়ে নেওয়া উচিত ছিল। আজীবন এই মুহূর্তটা শরীরের ভিতর থেকে যেত।' তবে টুখেল একা নন। খেলার দুনিয়ায় এমন অনেক অদ্ভুত সেলিব্রেশন রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়েছে রীতিতে (Sports Winning Rituals)।

জোকোভিচের ঘাস-ভোজ

ঘাস খাওয়ার অদ্ভুত শখ নোভাক জোকোভিচের। উইম্বলডনের সেন্টার কোর্টে ট্রফি জিতলে ঘাস মুখে পোরেন তিনি। ২০১১ সালে প্রথমবার এই কাজ করেছিলেন। এরপর আরও ছ'বার উইম্বলডন জিতে একই রীতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন। বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টেনিস তারকার ব্যাখ্যা, 'ছোটবেলায় উইম্বলডন জেতার স্বপ্ন দেখতাম। সব বাচ্চার মতো ভাবতাম, চ্যাম্পিয়ন হলে অদ্ভুত কিছু একটা করব। ঘাস খাওয়াটা সেই তালিকার অন্যতম।' ম্যাচের আগে ঘাস চিবোনোর অভ্যাস রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলার ম্যাট রাওয়েলের। প্রাক্তন আমেরিকান ফুটবল কোচ লেস মাইলস আবার খেলা চলাকালীন ঘাস খেতেন!

ইন্ডি ৫০০ এবং দুধের স্নান

১৯১১ সালে শুরু। মোটর রেসিংয়ের জগতে অন্যতম সম্মানজনক প্রতিযোগিতা ইন্ডি ৫০০ (Indy 500)। ট্রিপল ক্রাউনের অংশ। টানা ৫০০ মাইল রেস করার পর তৃষ্ণা মেটাতে কী চাই? ১৯৩৬ সালে তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে এক গ্লাস বাটারমিল্ক চেয়েছিলেন লুই মেয়ার। ব্যস, সেই শুরু। এখন চ্যাম্পিয়নদের হাতে ঠান্ডা দুধের বোতল তুলে দেন স্থানীয় কৃষকরা। ফ্যাট-ফ্রি, টু-পার্সেন্ট নাকি হোল মিল্ক—আগে থেকে জেনে নেওয়া হয় চালকদের পছন্দ। সবচেয়ে বেশি কদর হোল মিল্কের। ঢকঢক করে কিছুটা খেয়ে, বাকিটা মাথায় ঢেলে রীতিমতো স্নান সারেন বিজয়ীরা। বুন্দেসলিগায় বিয়ার স্নানের চেয়ে যা নি:সন্দেহে বেশি স্বাস্থ্যকর (Motorsports)!

অলিম্পিক্সের ট্যাটু

খেলার দুনিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্যাটুর নকশা সম্ভবত অলিম্পিক্সের রিং। আঁকিয়ে ফরাসি নাগরিক পিয়েরে দে কুবেরত্যাঁ। পদকজয়ীদের কাছে এই ট্যাটু এক বিশেষ ক্লাবের সদস্যপদ পাওয়ার মতো। ১৯৮৮ সালের সিওল অলিম্পিক্সে জোড়া সোনা ও একটি রুপো জিতে এই চল শুরু করেন মার্কিন সাঁতারু ক্রিস জেকবস। তাঁর কথায়, 'জীবনের ওই বিশেষ সময়টাকে আমি ধরে রাখতে চেয়েছিলাম।' এরপর সিমোন বাইলস, মাইকেল ফেল্পস বা নোয়া লাইলসের মতো তারকারাও এই ট্যাটু করিয়েছেন (Olympic Games)।

টার্কির ঠ্যাঙ ও বাস্কেট কাটা

আমেরিকায় থ্যাঙ্কসগিভিং মানে রোস্ট টার্কি। আর সেই দিনে এনএফএল (NFL) ফুটবলের ম্যাচ হলে তো কথা নেই। ১৯৮৯ সাল থেকে সেরা খেলোয়াড়দের টার্কির লেগ বা পা উপহার দেওয়ার চল শুরু কিংবদন্তি কোচ জন ম্যাডেনের সৌজন্যে। মাঠের মধ্যে প্রমাণ সাইজের ঠ্যাঙ চিবিয়ে উদযাপনে মাতেন ফুটবলাররা। ১৯৯৭ সালে এর সঙ্গে টারডাকেন (টার্কির পেটে হাঁস ও মুরগির মাংস) যোগ করেন তিনি। প্রাক্তন ফুটবলার জর্জ টিগের কথায়, 'খেলোয়াড়দের কাছে এটা পরম সম্মানের। আমাকে কখনও ডাকা হয়নি। হয়তো আমার খেলা ততটা ভাল ছিল না।'

​বাস্কেটবল কোর্টও এমন অদ্ভুত কাণ্ডের সাক্ষী৷ ট্রফি জিতলে বাস্কেট কেটে স্মারক হিসেবে বাড়িতে নিয়ে যান খেলোয়াড় এবং কোচরা (College Basketball)। ১৯৪৭ সালে নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট প্রথম এই প্রথা শুরু করেছিল। ২০১৬ সালে বাস্কেটের জাল কাটতে গিয়ে আঙুল কেটে ফেলেছিলেন কোচ রয় উইলিয়ামস।

​গল্ফ কোর্সে আবার পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ার রীতি বেশ জনপ্রিয়। ১৯৮৮ সালে শেভরন চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে সোজা ১৮ নম্বর গর্তের পাশের পুকুরে লাফ দেন অ্যামি অ্যালকট (Golf Tournament)। সেই থেকে এটাই চ্যাম্পিয়নের প্রথা। নতুন কোর্সে লাখ লাখ টাকা খরচ করে কৃত্রিম জলাশয় তৈরি করেছেন আয়োজকরা। কারণ চ্যাম্পিয়নকে জলে ঝাঁপ দিতে হবে যে!

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User