চুল কাটলেই ফর্মের দফারফা? হালান্ডের কদমছাঁট উসকে দিল বাইবেলে স্যামসনের দুঃস্বপ্ন
চুল কাটলেই কি ফর্ম হারান ক্রীড়াতারকারা? লম্বা সোনালি চুল কাটার পর প্রথম ম্যাচেই গোল পাননি হালান্ড। রোনাল্ডো থেকে জকোভিচ, চুল কাটার পর কে কেমন খেলেছেন? জানুন বিস্তারিত।
বাইবেলের স্যামসনের গল্প মনে আছে? যাঁর সমস্ত শক্তি লুকিয়ে ছিল লম্বা চুলে! প্রলোভনে পড়ে দিলাইলা সেই চুল কেটে দিতেই স্যামসন যাবতীয় তেজ হারিয়ে ফেলেন।
ফুটবল মাঠেও কি তবে সেই অভিশাপ ফিরে এল? প্রশ্নটা উসকে দিলেন আর্লিং হালান্ড৷ নিজের ট্রেডমার্ক লম্বা সোনালি চুল কেটে ফেলার পর প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমে গোল পেলেন না ম্যানচেস্টার সিটির (Manchester City) নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার।
ইব্রাহিমোভিচের সেই সতর্কবার্তা
২০২৬ সালের বিশ্বকাপের সময় জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ হালান্ডকে ঠিক এই স্যামসনের গল্প শুনিয়েই সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের পর সেই লম্বা চুল ছেঁটেছুঁটে একেবারে 'বাজকাট' করে ফেলেছেন বছর ছাব্বিশের তারকা। যিনি রবিবার বোর্নমুথের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জেতা ম্যাচে পাঁচবার শট নিয়েও ফিরলেন খালি হাতে (Erling Haaland)।
অথচ এর আগে খেলা প্রতিটি প্রিমিয়ার লিগের ওপেনিং ম্যাচেই গোলদাতা তিনি (চার ম্যাচে সাত গোল)। চুল কাটার পর ইব্রাহিমোভিচকে ভিডিও কলও করেছিলেন হালান্ড। নরওয়েজীয় তারকার মাথা দেখে ৪৪ বছরের প্রাক্তন সুইডিশ স্ট্রাইকার মশকরা করে জানতে চান, তিনি কোনও বাজি হেরেছেন কি না!
চুল কাটার সুফল: রোনাল্ডো থেকে জকোভিচ
তবে ক্রীড়াবিশ্বের ইতিহাস বলছে, চুল কাটার ফল সবসময় খারাপ হয়নি। বরং, অনেকেই ন্যাড়া হওয়ার পর সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছেন।
* রোনাল্ডো: ২০০২ বিশ্বকাপের (2002 World Cup) আগে চোট ও ফিটনেস নিয়ে জেরবার হচ্ছিলেন ২৫ বছরের ব্রাজিলীয় তারকা। সেমিফাইনালের আগে হঠাৎই মাথার সামনের একটু অংশ ছাড়া বাকিটা ন্যাড়া করে ফেলেন তিনি। যাতে সাংবাদিকদের নজর ফিটনেস থেকে চুলের দিকে ঘোরে। টোটকা দারুণ কাজ করেছিল। ফাইনালে জোড়া গোল-সহ টুর্নামেন্টে মোট আট গোল করে বিশ্বকাপ জেতেন রোনাল্ডো।
* নোভাক জকোভিচ: ২০১০ সালে সার্বিয়ার হয়ে ডেভিস কাপ জেতার পর কথা অনুযায়ী মাথা মোড়ান ২৩ বছরের জকোভিচ। এরপর ২০১১ সালের শুরুতেই টানা ৪১টি ম্যাচ জিতে নেন তিনি। তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম (Grand Slam) জিতে প্রথমবারের জন্য পৌঁছন বিশ্ব ক্রমতালিকায় ১ নম্বরে।
* আন্দ্রে আগাসি: ১৯৯৫ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগে ২৪ বছরের আগাসি তাঁর নকল চুল ফেলে দিয়ে মাথা কামিয়েছিলেন। এরপর একটিও সেট না খুইয়ে ফাইনালে ওঠেন এবং পিট সাম্প্রাসকে হারিয়ে ছিনিয়ে নেন খেতাব।
এর বাইরে আসবে বেকহ্যামের কথা। ২০০০ সালে চুল ছোট করার পর তিনি ম্যান ইউয়ের জার্সিতে দাপটের সঙ্গে লিগ জিতে নেন। ২০১৭ সালে চুল কামিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও পঞ্চম ব্যালন ডি'অর হাতে তোলেন (Football News)। বাস্কেটবলে কোবি ব্রায়ান্ট বা মাইকেল জর্ডনরাও চুল ছোট করে চূড়ান্ত সাফল্য পেয়েছেন। সাইক্লিংয়ে তাদেজ পোগাকারও চুল ছোট করে এবছর তুর দে ফ্রান্স জিতেছেন।
চুল কাটার কুফল: হোঁচট খেয়েছেন যাঁরা
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। অনেকেই চুল কাটার পর ফর্ম হারিয়েছেন বা হোঁচট খেয়েছেন।
* প্যাট্রিক মাহোমস: কানসাস সিটি চিফসের ২৯ বছরের কোয়ার্টারব্যাক সুপার বোল জেতার পর চুল ছোট করেন। তারপরই তাঁর দল খারাপ খেলতে শুরু করে এবং ১৩ বছরের মধ্যে প্রথমবার লুজিং সিজনের মুখ দেখে (Sports News)।
* ক্রিস লুইস: ১৯৯৪ সালে ইংল্যান্ডের এই ক্রিকেটারের মাথা মুড়িয়ে দিয়েছিলেন সতীর্থ ডেভন ম্যালকম। এরপর সানস্ট্রোক হয়ে প্রথম ম্যাচেই মাঠের বাইরে চলে যান লুইস।
* জোসে মোরিনহো: ২০০৬ সালে চুল ছোট করে চেলসিতে ফেরা মোরিনহো বলেছিলেন তিনি 'যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত'। কিন্তু সেবার চেলসি মুখ থুবড়ে পড়ে। পারেনি টানা তৃতীয় লিগ খেতাব জিতে নিতে।
হালান্ডের এই বাজকাট এক্সপেরিমেন্টের আয়ু মাত্র ৯০ মিনিট। এখনই উপসংহার টানা ঠিক নয়। তবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার পর বোর্নমুথের বিরুদ্ধে তাঁর খালি হাতে ফেরাটা অন্তত স্যামসনের সেই অভিশাপের জল্পনাকেই উসকে দিয়েছে!
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)