জিএসটি'তে বড় পরিবর্তন আসছে,‌ কর ফাঁকির অভিযোগে আদালতের অনুমতি ছাড়া গ্রেফতার করা যাবে না

গত বছর জিএসটির হারে বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছিল। তখন অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উপর জিএসটির হার উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়। জিএসটি চালুর পর সেটাই ছিল কর হারে বড় ধরনের সংস্কার।

Oct 05, 2026 - 12:43
0 0

আগামিকাল মঙ্গলবার জিএসটি (GST) কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে যে সমস্ত প্রস্তাব বিবেচনার জন্য পেশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলি পাস হয়ে গেলে জিএসটি-তে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য পরিবর্তনকে জিএসটির দ্বিতীয় প্রজন্মের সংস্কার বলে উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর জিএসটির হারে বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছিল। তখন অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উপর জিএসটির হার উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়। জিএসটি চালুর পর সেটাই ছিল কর হারে বড় ধরনের সংস্কার। এবার জিএসটি সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং ব্যবসায়ীদের কর প্রদানের ব্যবস্থা আরও সরলীকরণের লক্ষ্যে বড় সংস্কার করতে চলেছে জিএসটি কাউন্সিল।

মঙ্গলবারের বৈঠকের আলোচ্য সূচির অন্যতম বিষয় হল, জিএসটি কর্মকর্তাদের সাধারণ বা রুটিন গ্রেপ্তারের ক্ষমতা সীমিত বা বাতিল করা। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কর ফাঁকি বা জিএসটি সংক্রান্ত অন্যান্য ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে আধিকারিকেরা সরাসরি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবেন না। গ্রেপ্তারের জন্য আদালতের অনুমোদন নিতে হবে। ‌

সংস্কারের দ্বিতীয় প্রস্তাবটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হল, আইনি পদক্ষেপের সীমা। বলা হয়েছে, ফৌজদারি মামলা শুরুর জন্য ন্যূনতম আর্থিক সীমার পরিমাণ ১ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে পাঁচ কোটি টাকা করা। অর্থাৎ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত কর ফাঁকির অভিযোগের ক্ষেত্রে মামলা করা হবে না। এই সমস্ত ক্ষেত্রে জিএসটি আধিকারিকেরা তাদের হাতে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে অভিযোগের নিষ্পত্তি করবেন।

সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে জিএসটি'কে কেন্দ্র করে শিল্প ও বণিক সমাজের নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনে এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল মনে করছে আগামীকালের প্রস্তাবিত জিএসটি বৈঠকে সংশোধনীগুলি পাস হয়ে গেলে শিল্প ও বণিক সমাজে কেন্দ্রীয় সরকার এবং শাসকদলের অবস্থা মজবুত হবে।

অবশ্য জিএসটি কাউন্সিলের এই প্রস্তাবগুলি অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিও আগেই অনুমোদন করেছে। কাউন্সিলের বৈঠকে সাধারণত রাজ্যগুলির অর্থমন্ত্রী উপস্থিত থাকেন। তার আগে বিষয়ভিত্তিক কমিটি প্রস্তাব নির্ধারণ করে। সেই কমিটিগুলিতেও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। দলনির্বিশেষে একাধিক রাজ্য সরকার অতীতে জিএসটি নিয়ে ব্যবসায়ী মহলের ক্ষোভের কথা কাউন্সিলে উত্থাপন করে। তার জেরে  অপরাধমূলক ব্যবস্থা বা শাস্তির বিধান শিথিল করার (decriminalization) ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় প্রস্তাবটিও শিল্প এবং বণিক সমাজের জন্য বড় সুখবর হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তাতে পণ্য বা পরিষেবার শ্রেণিবিন্যাস (classification), মূল্যায়ন বা ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC) সংক্রান্ত বিরোধগুলোকে ফৌজদারি মামলার আওতা থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

মঙ্গলবারের বৈঠক নিয়ে অর্থমন্ত্রী সীতারামন এক নিবন্ধে বলেছেন 'বিকশিত ভারত' গড়ে তোলার যে লক্ষ্য ভারত ধার্য করেছে, তা অর্জনের জন্য এমন একটি অর্থনীতির প্রয়োজন যেখানে ছোট-বড় সব ধরনের উদ্যোগ বিকশিত হতে পারে। গত বারো বছর ধরে আমাদের সরকার সেই অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার কাজ করে চলেছে। ২০১৭ সালে জিএসটি  সূচনার মাধ্যমে পরোক্ষ কর ব্যবস্থার জন্য অভিন্ন একটি জাতীয় কাঠামো তৈরি করা হয়। 'পরবর্তী প্রজন্মের জিএসটি' সেই উদ্যোগকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে  গত নয় বছরের করদাতা ও রাজ্যগুলির অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হয়েছে।

তিনি আরও লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী চিন্তাধারার আলোকে মূলত দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে 'পরবর্তী প্রজন্মের জিএসটি'-র পরিকল্পনা করা হয়। এগুলি হল করের হার কমানো ও  কর-সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলার প্রক্রিয়াকে সহজতর করা। করের হারের এই পরিবর্তনগুলি ২০২৫ এর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রক্রিয়াগত সংস্কারের পরবর্তী পর্যায়টি শীঘ্রই জিএসটি পরিষদের বিবেচনার জন্য পেশ করা হবে। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য হল—পরিবারিক স্তরে সকলকে স্বস্তি দেওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরও নিশ্চয়তা বজায় রাখা এবং করদাতাদের জন্য এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে তাঁরা কোনও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ছাড়াই তাঁদের কর-সংক্রান্ত দায়িত্বগুলি পালন করতে পারেন।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User