ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে কঙ্কনা সেন শর্মা, জ্বর কমলেও সুস্থতার পথে কেন বাড়তি সতর্কতা?

ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অভিনেত্রী কঙ্কনা সেন শর্মা। আপাতত বাড়িতে বিশ্রামে। জ্বর কমার পরও ডেঙ্গির পর কেন বাড়তি নজর ও বিশ্রাম জরুরি, বললেন চিকিৎসকরা।

Sep 22, 2026 - 11:31
0 0

ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন অভিনেত্রী কঙ্কনা সেন শর্মা। সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়ে সমাজমাধ্যমে। সঙ্গে সতর্ক করেছেন সকলকে। হাসপাতাল থেকে ফেরার পরও কিছুদিন বিশ্রামে রয়েছেন। গোটা ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে, ডেঙ্গির জ্বর কমে গেলেই যে শরীর পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যায়, এমনটা নয়।

চিকিৎসকরা বলে থাকেন, ডেঙ্গিতে জ্বর কমার সময়টাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের ক্ষেত্রে এই সময়েই রোগের জটিল পর্যায় শুরু হতে পারে। সেই ধাপ পেরিয়ে গেলেও শরীরের হারানো শক্তি ফিরে পেতে সময় লাগে। দুর্বলতা, ক্লান্তি, গা-হাত-পায়ে ব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা খাওয়ার ইচ্ছে কমে যাওয়ার মতো সমস্যা কয়েক দিন, কখনও আরও বেশি সময় থাকতে পারে।

জল ও খাবারে নজর জরুরি

ডেঙ্গির সময় জ্বর, বমি বা খেতে না পারার কারণে শরীরে জলের ঘাটতি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত জল, ওরাল রিহাইড্রেশন দ্রবণ, স্যুপ বা উপযুক্ত তরল খাওয়া জরুরি। তবে অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার জন্য যদি তরল খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মানতে হবে।

খিদে ধীরে ধীরে ফিরলে হালকা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। পর্যাপ্ত প্রোটিনও শরীরের হারানো শক্তি ফেরাতে সাহায্য করতে পারে।

জিমে ফেরার তাড়া নয়

যাঁরা নিয়মিত কোনও কঠোর ডায়েট মেনে চলেন বা শারীরিক বিভিন্ন কসরত করেন, তাঁদের এই সময় একটু থামার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। জ্বর নেই মানেই শরীর কঠিন পরিশ্রমের জন্য তৈরি—এমন ভাবা ঠিক নয়। ডেঙ্গির পর কিছুদিন বিশ্রাম প্রয়োজন, সকলের। জিম, ভারী ওজন তোলা কিংবা অন্য কোনও কঠিন শরীরচর্চায় দ্রুত ফিরে গেলে ক্লান্তি আরও বাড়তে পারে।

শরীরের শক্তি ও স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরে ফিরলে, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তবেই কাজকর্ম ও ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো উচিত।

প্লেটলেটই সব নয়

ডেঙ্গির ক্ষেত্রে প্লেটলেটের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বেশি থাকলেও শুধু একটি রক্তপরীক্ষার ফল দেখে সুস্থতার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, রক্তের অন্যান্য মাত্রা, শরীরে জলের ভারসাম্য এবং উপসর্গ—সবকিছু মিলিয়েই চিকিৎসক পরিস্থিতি বিচার করেন।

জ্বর কমার পরও যদি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, বমি বা মলে রক্ত, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা-স্যাঁতসেঁতে ত্বক কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

তাই ডেঙ্গি থেকে সুস্থ হওয়ার পথটা জ্বর নামার সঙ্গে শেষ হয় না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, জল, পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-পর্যবেক্ষণ—সবকিছুরই গুরুত্ব রয়েছে। শরীর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সময় দিলে তবেই ধীরে ধীরে আগের রুটিনে ফেরা নিরাপদ।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User