তিব্বত থেকে আসা দানবীয় ঢেউয়ে এক পলকে তছনছ সবকিছু! নেপাল হড়পা বানের ভয়ঙ্কর ভিডিও প্রকাশ্যে

প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভয়াবহ এই বন্যায় ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক, যার মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (NRI) রয়েছেন।

Aug 26, 2026 - 19:21
0 0
তিব্বত থেকে আসা দানবীয় ঢেউয়ে এক পলকে তছনছ সবকিছু! নেপাল হড়পা বানের ভয়ঙ্কর ভিডিও প্রকাশ্যে

বুধবার তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন নেপালের রসৌয়া জেলায় এক ভয়াবহ ও বিধ্বংসী হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) তৈরি হয়েছে চরম বিপর্যয়। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভয়াবহ এই বন্যায় (Nepal Flood) ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক, যার মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (NRI) রয়েছেন।

তিব্বতের জিরোং পোর্ট (Gyirong Port) এলাকা থেকে পাওয়া সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে দেখা গিয়েছে, তিব্বতের দিক থেকে কাদা, পাথর ও পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষের এক বিশালাকার জলচ্ছ্বাস প্রবল বেগে নীচের দিকে ধেয়ে আসছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা নাগাদ এই ভয়ঙ্কর হড়পা বান সীমান্ত পেরিয়ে নেপালের রসৌয়া জেলায় প্রবেশ করে এবং ভোট কোশি (Bhote Koshi River) নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলিতে চরম তাণ্ডব চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে আরও দেখা যায়, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কাদার স্রোত একটি পার্কিং লটে আছড়ে পড়ে একাধিক গাড়ি ও পরিকাঠামো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। উপস্থিত মানুষজন প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে ছুটতে শুরু করলেও মুহূর্তের মধ্যে পুরো সীমান্ত এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের (Nepal Tourism Board) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বানভাসি অঞ্চলগুলি থেকে নিখোঁজ ৩৮৪ জন ভ্রমণার্থীর মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। এই পর্যটকদের তালিকায় ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক ও ৩৭ জন এনআরআই ছাড়াও আমেরিকা, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকরা রয়েছেন। ট্রাভেল এজেন্সি সূত্রের খবর, নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে অন্তত ৫৯ জন কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রার (Kailash Manasarovar Yatra) পুণ্যার্থী ছিলেন, যাঁরা ওই রুটে যাত্রা করছিলেন।

তিব্বত সীমান্তবর্তী রসৌয়া ও ধাদিং (Dhading) জেলার পাশাপাশি রাজধানী কাঠমান্ডুর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নুওয়াকোট (Nuwakot) জেলায় এই বিপর্যয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। পাহাড়ী নদী উপত্যকায় ধেয়ে আসা কাদা-জলের প্রবল স্রোত একাধিক সেতু, রাস্তা ও বসতি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পুরো পরিমাণ এখনও সঠিকভাবে মেপে ওঠা সম্ভব হয়নি, তবে বন্যার মাত্রা অত্যন্ত প্রবল। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে সেনা, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল একযোগে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নেপালের পরিস্থিতির উপর নয়াদিল্লি নজর রাখছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চলাকালীন কাঠমান্ডুর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রাখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে নেপালের মানুষের পাশে রয়েছে ভারত। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

মানস সরোবর যাত্রা চলছিল। পুণ্যার্থীদের অনেকেই হড়পা বানে ভেসে যান। তার মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয় বলে জানা যায়। দ্রুত উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজও শুরু করেছে ভারতীয় দূতাবাস। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, নেপাল সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়দের পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে দিল্লি।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User