দাবদাহ কাটিয়ে বর্ষার ‘কামব্যাক’, মেঘের চাদরে ঢাকল উত্তর ভারত! ইসরোর উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ল ছবি
বুধবার ইসরো প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, মধ্য ভারত থেকে শুরু করে গঙ্গা সমভূমি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন বর্ষার মেঘে ঢেকে গিয়েছে।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে স্বস্তির খবর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উত্তর ভারতের আকাশে সক্রিয় হল বর্ষা (Monsoon comeback)। ইসরোর সর্বশেষ উপগ্রহ (ISRO satellite images) চিত্রে দেখা গিয়েছে, ঘন কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিল্ল এনসিআর-সহ একাধিক রাজ্যে জোরকদমে ঢুকে পড়বে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (ISRO weather update)। তাতে যেমন কমবে তাপপ্রবাহের (heatwave) দাপট, তেমনই স্বস্তি পাবেন কৃষকরাও।
বুধবার ইসরো প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, মধ্য ভারত থেকে শুরু করে গঙ্গা সমভূমি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন বর্ষার মেঘে ঢেকে গিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নতুন আবহাওয়া ব্যবস্থা এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর জেরে উত্তর ভারতে দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে বর্ষা।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, ১ জুলাই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের অধিকাংশ এলাকা এবং পূর্ব হরিয়ানার কিছু অংশে প্রবেশ করেছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের পরই বর্ষার এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি-এনসিআর, চণ্ডীগড়, হরিয়ানার আরও বিস্তীর্ণ অংশ এবং পঞ্জাবে বর্ষা পৌঁছে যাবে। প্রথমে বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হবে। পরে ধীরে ধীরে তা বিস্তৃত আকার নেবে।
উপগ্রহ চিত্রে আরও দেখা গিয়েছে, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর- দুই দিক থেকেই জলীয় বাষ্পে ভরা বাতাস উত্তর ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে। পাশাপাশি মৌসুমি অক্ষরেখাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরছে। ফলে আগামী কয়েকদিন উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে দিল্লি-এনসিআরের বাসিন্দাদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর। জুন মাসজুড়ে তীব্র গরম, তাপপ্রবাহ এবং অস্বস্তিকর আর্দ্রতায় নাজেহাল হতে হয়েছিল মানুষকে। বর্ষা ঢুকে পড়লে তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি কমবে এবং আবহাওয়া অনেকটাই মনোরম হবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
তবে রাজস্থানের বেশ কিছু এলাকায় এখনও সক্রিয় বর্ষার প্রভাব নেই। যদিও উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, দ্রুত পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মেঘের বিশাল অংশ। তাই আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজস্থানের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় বর্ষা প্রবেশ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে, যা ১৯০১ সালের পর পঞ্চম শুষ্কতম জুন হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খরিফ চাষেও। পর্যাপ্ত মাটির আর্দ্রতা না থাকায় অনেক জায়গায় বপনের কাজ পিছিয়ে গিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, জুলাইয়ের প্রথমার্ধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় যদি পূর্বাভাস অনুযায়ী ভাল বৃষ্টি হয়, তাহলে বৃষ্টির ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে এবং কৃষি ও সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)