দুর্যোগ মোকাবিলায় পুজোর আগেই রাজ্যে ‘অর্জুন বাহিনী’! অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের নিয়ে চমক মুখ্যমন্ত্রীর
প্রাকৃতিক ও পরিকাঠামোগত বিপর্যয় রুখতে রাজ্যে সম্পূর্ণ নতুন উদ্ধারকারী দল গঠন করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০ সদস্যের ‘অর্জুন বাহিনী’র (Arjun Bahini) সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
প্রাকৃতিক ও পরিকাঠামোগত বিপর্যয় রুখতে রাজ্যে সম্পূর্ণ নতুন উদ্ধারকারী দল গঠন করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০ সদস্যের ‘অর্জুন বাহিনী’র (Arjun Bahini) সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আপাতত কলকাতা (Kolkata), পাহাড় ও সুন্দরবনের দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলিতে এই বাহিনীকে মোতায়েন করা হলেও ভবিষ্যতে এনডিআরএফ (NDRF)-এর আদলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে এই বাহিনীকে আরও বৃহৎ আকারে সাজিয়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাহিনীর বণ্টন, ভাতা ও বিমা সুরক্ষা
রাজ্য সৈনিক বোর্ডের আওতায় থাকা ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণ ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের নিয়ে প্রাথমিকভাবে এই বাহিনীর যাত্রা শুরু হল। নতুন এই বাহিনীর বিন্যাস ও সুযোগ-সুবিধাগুলো হল,
কাজের ক্ষেত্র: ২০০ জন সদস্যের মধ্যে কলকাতার জন্য ১০০ জন, পাহাড়ের (দার্জিলিং) জন্য ৫০ জন এবং সুন্দরবন এলাকার জন্য ৫০ জন সদস্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পরবর্তীতে দিঘা, মান্দারমণি, মুকুটমণিপুর, তারাপীঠ এবং তরাই-ডুয়ার্সের মতো প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলিতেও এই বাহিনীর কন্টিনজেন্ট রাখা হবে।
পদবি ও বেতন: বাহিনীর সদস্যদের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বীর’ এবং দলপ্রধানদের ‘বীর নায়ক’। ‘বীর’দের মাসিক সাম্মানিক ২৫,০০০ টাকা এবং ‘বীর নায়ক’দের ৪০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বছর ৩ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাবেন সদস্যরা।
বিমা কভারেজ: বিপদসংকুল এলাকায় কাজ করার দরুন গুরুতর আহত বা প্রাণহানির ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা এবং স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভারেজ থাকবে।
সংরক্ষণ ও নিয়োগ: ২০২৭-এর জানুয়ারি থেকে আসা অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচ এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের পুলিশ, ফায়ার, ফরেস্ট ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই ডিসিপ্লিন্ড সংস্থাগুলিতে প্রায় ২০ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকছে।
অতীতের শিক্ষা, কেন্দ্রীয় অর্থ ও কড়া হুঁশিয়ারি
আমফানের সময়ে গাছ সরাতে ওড়িশা (Odisha) থেকে দল আনা কিংবা পোস্তা ও মাঝেরহাট উড়ালপুল (Majherhat Flyover) ভেঙে পড়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে জলাজমি বুজিয়ে ভবন তৈরি, সয়েল টেস্ট না করে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন এবং ফ্লাইওভারের ভার বহন ক্ষমতা পরীক্ষা না করার ফলে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তারাতলায় সম্প্রতি ভবন ভেঙে পড়ার দুর্ঘটনায় অর্জুন বাহিনীর সদস্যরা প্রায় ২০ জন মানুষকে জীবন্ত উদ্ধার করেছেন। সেই কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উদ্ধারকারী দল ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়ে আগে অবহেলা করা হয়েছিল। তবে এখন অর্থের কোনও অভাব নেই। ভারত সরকার পর্যাপ্ত টাকা দিয়ে রেখেছে।” তিনি জানান, সেই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার করে আধুনিক সরঞ্জাম ও গাড়ি কেনা হবে।
পাহাড় নিয়ে যৌথ সমীক্ষা ও সমন্বয়
নেপালের সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দার্জিলিং পাহাড়ের স্থায়িত্ব নিয়ে লোকসভার সাংসদ রাজু বিস্তার পাঠানো প্রস্তাব ও ‘হিমালয়ান স্টাডি’র চিঠি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবটি মুখ্যসচিবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে পাহাড়ের ভৌগোলিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি সমীক্ষা চালাবে এবং সেই রিপোর্ট দ্রুত সর্বজনীন করা হবে।
দুর্যোগ সামলাতে সিভিল ডিফেন্স, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, রাজ্য পুলিশ, সেনাবাহিনী, আধা-সামরিক বাহিনী, দমকল এবং পুরসভার মধ্যে সমন্বয় রেখে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)