'পুরসভার ভোটে ১৭০-১৮০টি আসন পাব, সনাতনী মেয়র পাবে কলকাতা', দায়িত্ব পেয়েই বললেন সুকান্ত
ভোটের প্রচার, সংকল্পপত্র (ইস্তেহার) তৈরি এবং প্রার্থী ঝাড়াই-বাছাইয়ের জন্য বিজেপির তরফ থেকে একটি বিশেষ কমিটি ও সাংগঠনিক পদের তালিকাও বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী স্বাক্ষরিত এক অফিসিয়াল সার্কুলার প্রকাশ করা হয়।
কলকাতা পুরসভা (KMC Election) নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ এখনও সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরে ফেলেছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। কলকাতা পুরসভার ভোটের জন্য ইনচার্জ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে (Sukanta Majumder)। আর দায়িত্ব পাওয়ার পরই তিনি জেতার ব্যাপারে আশাপ্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে ১৭০-১৮০ আসন পাবে বিজেপি।
সূত্রের খবর, আগামী নভেম্বরেই হতে পারে কলকাতা পৌরসভার (KMC) নির্বাচন এবং আগামী সাত ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বোর্ড গঠন করার বিষয়ে একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। এই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই কৌশল সাজাচ্ছে শাসক শিবির। সেই প্রেক্ষিতেই সুকান্তর বক্তব্য, ১৪৪টি ওয়ার্ডের হিসেবে বিগত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে বিজেপি ১০১ আসনে এগিয়ে রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২০৯টি আসন হলে দল অনায়াসে ১৭০-১৮০টি আসনে জিতবে। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, বিজেপি জিতলে আগামী দিনে সনাতনী মেয়র পাবে কলকাতাবাসী।
বিধানসভা নির্বাচনের পর কলকাতা পুরসভাতেও কি বিজেপি ঝড় দেখা যাবে? সুকান্ত মজুমদার কিন্তু এই বিষয়ে ভীষণ আশাবাদী। তাঁর কথায়, এই ভোটে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপিই হতে চলেছে, অন্য কোনও দল নয়। কারণ বিধানসভা ভোটের নিরিখে পুরসভায় ১০১ আসনে এগিয়ে থাকলেও এবার সেই সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, ভোটের প্রচার, সংকল্পপত্র (ইস্তেহার) তৈরি এবং প্রার্থী ঝাড়াই-বাছাইয়ের জন্য বিজেপির তরফ থেকে একটি বিশেষ কমিটি ও সাংগঠনিক পদের তালিকাও বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী স্বাক্ষরিত এক অফিসিয়াল সার্কুলার প্রকাশ করা হয়।
পুরসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার জন্য নতুন ইন-চার্জ, কনভেনর ও কো-কনভেনর নিয়োগ করা হয়েছে।
কলকাতা পুরসভা (KMC)
ইন-চার্জ: ডঃ সুকান্ত মজুমদার (কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী, ভারত সরকার)
কো ইন-চার্জ: শ্রী অনিন্দ্য ব্যানার্জী (রাজু) (রাজ্য সহ-সভাপতি)
কনভেনর: শ্রী তাপস রায় (এমআইসি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার)
কো-কনভেনর: শ্রী রীতেশ তিওয়ারি (কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক)
হাওড়া পুরসভা (HMC)
ইন-চার্জ: শ্রী রাহুল সিনহা (রাজ্যসভার সাংসদ)
কনভেনর: শ্রী সংঞ্জয় কুমার সিংহ (বালির বিধায়ক)
এই নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই রাজ্য বিধানসভায় দু'টি বিল পাশ করানো হয়েছে। মূলত হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ ও কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত খসড়া রিপোর্ট ইতিমধ্যেই পুরসভায় জমা পড়েছে। ফলে, কী হাওড়া, কী কলকাতা পুরসভা, এই দুই যমজ শহরের যমজ পুরসভার জন্য এক বিশাল সংখ্যক পৌর প্রতিনিধির খোঁজ করতে হচ্ছে বিজেপিকে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)