বর্ষায় ডেঙ্গি- চিকুনগুনিয়ায় ছেয়ে যাচ্ছে দেশ, আক্রান্ত আড়াই হাজারের বেশি, উপসর্গ চিনে সাবধান হোন
বর্ষার মরশুমে দিল্লিতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গি এবং এইচ১এন১ (সোয়াইন ফ্লু) সংক্রমণ। এখনও পর্যন্ত রাজধানীতে ২৭০০-র বেশি মানুষ এই জোড়া ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
দিল্লিতে বর্ষার মাঝেই বাড়ছে ডেঙ্গি ও এইচ১এন১ সংক্রমণ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত সেখানে ১,১৭৯ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বাইরের রাজ্যের আরও ২১০ জন। ফলে দিল্লির হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসাধীন মোট ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৩৮৯। একই সময়ে এইচ১এন১ বা সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১,৩৪৪ জন। তবে স্বস্তির খবর, এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গি বা এইচ১এন১—কোনও সংক্রমণেই মৃত্যুর খবর মেলেনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গি মূলত এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্তদের কোনও উপসর্গ দেখা যায় না বা উপসর্গ মৃদু থাকে। সাধারণত সংক্রমণের চার থেকে দশ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং তা দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
ডেঙ্গির সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, প্রবল মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, পেশি ও গাঁটে ব্যথা, বমিভাব বা বমি, লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং শরীরে র্যাশ। বেশিরভাগ রোগী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠলেও, কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গি গুরুতর আকার নিতে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পর যদি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, বমি বা মলে রক্ত, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে ত্বক, চরম দুর্বলতা বা অস্থিরতার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গির নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ নেই। WHO-র পরামর্শ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে, প্রচুর জল বা তরল খেতে হবে এবং জ্বর বা ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলি রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
মশার কামড় এড়াতে শরীর ঢাকা পোশাক পরা, মশা প্রতিরোধক ব্যবহার, জানালায় জালি লাগানো, মশারি ব্যবহার, মশার কয়েল বা ভেপারাইজার ব্যবহার এবং বাড়ির আশপাশে কোথাও যাতে জল জমে না থাকে, সেদিকে নজর রাখতে বলেছে WHO।
অন্যদিকে, দিল্লিতে এইচ১এন১ আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে হয়েছে ১,৩৪৪। এই ভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জা এ-র একটি উপপ্রকার, যা অত্যন্ত সংক্রামক এবং সহজেই এক ব্যক্তি থেকে অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত হঠাৎ জ্বর, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, পেশি ও গাঁটে ব্যথা, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া এবং প্রবল দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা যায়। বেশিরভাগ মানুষ এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠলেও গর্ভবতী মহিলা, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু, ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তি এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে জটিলতার আশঙ্কা বেশি থাকে।
হালকা উপসর্গ থাকলে বাড়িতে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত জল পান এবং অন্যদের সংক্রমণ এড়াতে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে WHO। তবে গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে বা ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধ দেওয়া হতে পারে, যা উপসর্গ শুরুর প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুরু করলে সবচেয়ে কার্যকর হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে অ্যান্টি বায়োটিক কার্যকর নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি ফ্লু-র টিকা নেওয়া, নিয়মিত হাত ধোওয়া, কাশি বা হাঁচির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখা, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানো এবং অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে থাকাই সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। WHO-র মতে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রতি বছর ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়া উচিত।
সংক্রমণ বাড়লেও এখনও পর্যন্ত দিল্লিতে ডেঙ্গি বা এইচ১এন১—কোনও রোগেই মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)