ভারত-জাপান থ্রিলারে 'ওয়াইড' বিতর্ক! অক্ষরের ডেলিভারি কেন বৈধ ঘোষণা করলেন আম্পায়ার?
সানোতে ভারত বনাম জাপান টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অক্ষর প্যাটেলের ওয়াইড বল নিয়ে চরম বিতর্ক। কেন আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বদল করলেন? কী বলছে আইসিসি-র নিয়ম? জানুন বিস্তারিত।
সানোতে মাত্র ৫ ওভারের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জাপানকে ২ রানে হারিয়েছে ভারত। কিন্তু রেশ রয়ে গেছে মাঠের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে (India vs Japan)। ম্যাচের একেবারে শেষ ওভারে অক্ষর প্যাটেলের একটি ডেলিভারিকে প্রথমে 'ওয়াইড' দিয়েও পরে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন আম্পায়ার। তা নিয়েই ক্রিকেটমহলে জোর চর্চা। সাধারণ দর্শকদের মনেও প্রশ্ন, আম্পায়ার কি আদৌ এভাবে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন? আর কেনই বা ওই বলটিকে ওয়াইড দেওয়া হল না?
যাবতীয় অস্পষ্টতা দূর করতে আসরে নামলেন খোদ আইসিসি আম্পায়ার।
শেষ ওভারে ঠিক কী ঘটেছিল?
শেষ ওভারে জাপানের জয়ের জন্য দরকার ছিল আট রান। প্রথম বলে রান আসেনি। দ্বিতীয় বলে এক রান। এরপর স্ট্রাইকে আসেন আলেকজান্ডার শিরাই-প্যাটমোর। অক্ষর প্যাটেল (Axar Patel) লেগ স্টাম্পের বাইরে বল ফেলেন। রিভার্স-সুইপ মারার চেষ্টা করেন প্যাটমোর। বল তাঁর ব্যাটে না লাগায় আম্পায়ার ওয়াইড দেন। পরের বলটিও লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। প্যাটমোর ফের রিভার্স-সুইপ করার চেষ্টা করেন। আম্পায়ার ক্রিস থারগেট আবারও দু'হাত প্রসারিত করে ওয়াইডের সঙ্কেত দেন।
কিন্তু এবার আর চুপ থাকেননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা। অক্ষর এবং উইকেটকিপার সঞ্জু স্যামসন সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানান। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ছুটে গিয়ে স্কোয়ার-লেগ আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউনের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর দুই আম্পায়ার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ওয়াইডের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। বলটি ডট বল হিসেবে গ্রাহ্য হয়। শেষমেশ ভারত ম্যাচ জেতে মাত্র ২ রানে (T20I Cricket)।
আইসিসি-র নিয়ম কী বলছে?
ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত বদল একশো শতাংশ সঠিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইসিসি আম্পায়ার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'শুরুতেই বলটাকে ওয়াইড দেওয়া উচিত হয়নি। কারণ ব্যাটার রিভার্স-সুইপ মারার চেষ্টা করেছিলেন। ব্যাস, ওখানেই ওয়াইডের যাবতীয় যুক্তির শেষ।'
ওই আম্পায়ারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনও ব্যাটার যখনই সুইচ-হিট বা রিভার্স-সুইপ মারার চেষ্টা চালান, তখন ক্রিজে তাঁর অবস্থানের জ্যামিতি পালটে যায়। তখন আর লেগ সাইড বলে কিছু থাকে না। ক্রিজের দু'দিককেই 'অফ-সাইড' হিসেবে ধরা হয় (ICC Rules)। এই পরিস্থিতিতে ওয়াইড মাপার মাপকাঠি হল ১৭ ইঞ্চির দাগ। বল যদি সেই ১৭ ইঞ্চির দাগের বাইরে দিয়ে না যায়, তবে তা সম্পূর্ণ বৈধ ডেলিভারি। অক্ষরের বলটি লেগ সাইডের দিকে থাকলেও তা ওই ১৭ ইঞ্চির গণ্ডি পেরোয়নি। তাই তা কিছুতেই ওয়াইড হতে পারে না।
শট না খেললেও কি একই নিয়ম?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, ব্যাটার যদি রিভার্স-সুইপ মারার জন্য পজিশন নিয়েও শেষ মুহূর্তে শট না খেলেন? তাহলেও কি নিয়মটা একই থাকবে?
আইসিসি আম্পায়ারের স্পষ্ট উত্তর, 'হ্যাঁ। ব্যাটার তাঁর গ্রিপ বা পজিশন বদলালেন কি না, সেটা বড় কথা নয়। একবার রিভার্স-সুইপের মতো শট মারার চেষ্টা করলেই দু'দিক অফ-সাইড হয়ে যাবে।' প্যাটমোরের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছিল। তিনি আগে থেকেই রিভার্স-সুইপের পজিশনে চলে যান। তাই আম্পায়ারকে বাধ্য হয়েই রিভার্স-সুইপের ওয়াইড-লাইন বিচার করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে (Cricket News)।
আম্পায়ার কি সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন?
এমসিসি-র (মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব) ২.১২ নম্বর আইন অনুযায়ী, কোনও আম্পায়ার চাইলে তাঁর দেওয়া সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন। তবে শর্ত একটাই। সেই বদল অবিলম্বে হতে হবে। এক্ষেত্রে অক্ষর ও সঞ্জু সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাই আম্পায়াররা আলোচনা করে দ্রুত নিজেদের ভুল শুধরে নেন। শেষ বলে জাপানের জয়ের জন্য দরকার ছিল চার রান। কিন্তু তারা মাত্র একটি লেগ-বাই পায়। আম্পায়ারের ওই নির্ভুল সিদ্ধান্তই কার্যত নিশ্চিত করে ভারতের জয়।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)