মায়ের উপসর্গ না থাকলেও বিপদে পড়তে পারে সন্তান, গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস বি পরীক্ষা অতি আবশ্যক
গর্ভাবস্থায় নিয়মিত পরীক্ষার তালিকায় হেপাটাইটিস বি স্ক্রিনিংও থাকা জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। সময়মতো সংক্রমণ ধরা পড়লে মায়ের থেকে সন্তানের শরীরে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার উপরই জোর দেন অধিকাংশ হবু মা। তবে এই সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থেকে যায়। সেটি হল হেপাটাইটিস বি স্ক্রিনিং। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থার শুরুতেই এই পরীক্ষা করালে মায়ের থেকে নবজাতকের শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি প্রায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
হেপাটাইটিস বি কী, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
হেপাটাইটিস বি একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা মূলত লিভারে আক্রমণ করে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি অল্প সময়ের অসুস্থতা তৈরি করলেও, অনেকেই কোনও লক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘদিন এই ভাইরাস বহন করেন। দীর্ঘমেয়াদে এই সংক্রমণ লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এমনকি সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
আগ্রার পুষ্পাঞ্জলি হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডাঃ শালিনী শর্মার মতে, গর্ভাবস্থায় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল প্রসবের সময় মায়ের শরীর থেকে শিশুর শরীরে ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা। যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে নবজাতক দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হতে পারে।
কেন প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলার পরীক্ষা করানো উচিত?
হেপাটাইটিস বি-র সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, বহু আক্রান্ত মানুষের শরীরে কোনও উপসর্গই দেখা যায় না। ফলে সংক্রমণ থাকলেও তা অজানা থেকে যেতে পারে। সেই কারণেই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রথম প্রসবপূর্ব (প্রি-নেটাল) স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়ই প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলার হেপাটাইটিস বি সারফেস অ্যান্টিজেন (HBsAg) পরীক্ষা করা উচিত।
প্রাথমিক পর্যায়েই সংক্রমণ ধরা পড়লে চিকিৎসকেরা মা ও শিশুর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা এবং পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করতে পারেন। এতে প্রসবের সময় সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সংক্রমণ ধরা পড়লে কি শিশুও আক্রান্ত হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস বি ধরা পড়া মানে শিশুও আক্রান্ত হবে, এমন নয়। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে এমন একাধিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে জন্মের সময় এবং জন্মের পর নবজাতককে সংক্রমণের হাত থেকে কার্যকরভাবে রক্ষা করা সম্ভব। সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা হলে মা থেকে সন্তানের শরীরে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় সম্পূর্ণভাবে এড়ানো যায়।
চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থার নিয়মিত পরীক্ষার তালিকায় HBsAg স্ক্রিনিংকে সেজন্যই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এই একটি পরীক্ষাই শুধু মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, নবজাতকের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)