মাত্র ১৮ বছরে RTI লড়াই থেকে যন্তর মন্তরের মঞ্চ, আলোচনায় থাকা 'ককরোচ'দের সৌরভ দাসকে চেনেন?
যন্তর মন্তরের আন্দোলনে অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস। আরটিআই কর্মী থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিক, কীভাবে তৈরি হল তাঁর পথচলা? জেনে নিন।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলন যত এগিয়েছে, ততই সামনে এসেছে একটি মুখ- সৌরভ দাস। সংবাদমাধ্যমের সামনে আন্দোলনের দাবি তুলে ধরা, সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করা কিংবা আলোচনার টেবিলে প্রতিনিধিত্ব করা—সব ক্ষেত্রেই অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। সামলাচ্ছেন দলের সোশ্যাল মিডিয়ার টুকিটাকিও। হুট করে স্পটলাইটে উঠে আসা এই তরুণের পরিচয় নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। কে এই সৌরভ দাস?
পেশায় ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট সৌরভ দাস দীর্ঘদিন ধরেই আইন, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, স্বচ্ছতা এবং তথ্যের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করে আসছেন। দিল্লিভিত্তিক এই সাংবাদিক বর্তমানে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফ্রন্ট-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সৌরভের সাংবাদিকতার পথচলা শুরু হয় কলেজজীবনে। অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে পড়াশোনার সময় থেকে এই বিষয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি তথ্যের অধিকার (RTI) আইনের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি দফতরের কাছে তথ্য চাওয়া শুরু করেন। জনস্বার্থে একাধিক তথ্য প্রকাশ্যে আনায় তাঁর কাজ সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছিল।
২০২০ সালে পেশাদার সাংবাদিকতা শুরু করার পর দ্য ক্যারাভান, আর্টিকেল ১৪, আল জাজিরা, দ্য ওয়্যার, দ্য হিন্দু এবং নিউ লাইনস ম্যাগাজিন-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমে লিখেছেন সৌরভ।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি তাঁর কাজের অন্যতম প্রধান বিষয়। তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হলে আইনি পথে লড়াই করেছেন তিনি একাধিকবার। কোভিড-১৯ অতিমারির সময় তথ্য পাওয়ার আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হওয়ায় একটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর সেই উদ্যোগের পর জরুরি তথ্য সংক্রান্ত একাধিক আপিলের নিষ্পত্তির গতি বাড়ে বলে দাবি করা হয়। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয়েও আইনি পদক্ষেপ করেছেন তিনি।
তবে জাতীয় স্তরে সৌরভ দাস সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পাচ্ছেন ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে। নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং সরকারি জবাবদিহি এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনে নিয়মিত সংবাদমাধ্যমের সামনে দলের অবস্থান তুলে ধরছেন। আন্দোলন চলাকালীন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে আলোচনায় যাওয়া প্রতিনিধিদলেরও সদস্য ছিলেন সৌরভ।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি একটি বইও লিখছেন তিনি। ‘Complicit Silence: The Court’s Role in India's Quiet Suffering’ শীর্ষক বইটিতে বিচারব্যবস্থা, ন্যায়বিচারে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
আরটিআই কর্মী থেকে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট, সেখান থেকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একটি আন্দোলনের মুখপাত্র—এই পথচলাই বর্তমানে সৌরভ দাসকে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রে এনে দাঁড় করিয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)