মোদীকে নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান! 'প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা মেয়ের নতুন জন্ম', জানালেন অভিযুক্ত কিশোরীর মা

পরীক্ষার প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ায় বিতর্কে জড়িয়েছিল এক ১৫ বছরের কিশোরী। পরে ইনস্টাগ্রামে ভিডিও পোস্ট করে ক্ষমা চায় সে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করে দেওয়ায় কিশোরীর মা ধন্যবাদ জানিয়ে একে 'নতুন জীবন' বলেছেন।

Aug 02, 2026 - 15:26
0 0
মোদীকে নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান! 'প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা মেয়ের নতুন জন্ম', জানালেন অভিযুক্ত কিশোরীর মা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ভাইরাল ভিডিওতে অশালীন স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় হয় দেশ। সেই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ১৫ বছরের কিশোরীর মা এবার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করে দেওয়ায় তাঁর মেয়ে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে ওই কিশোরীর মা হাত জোড় করে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, "যে মেয়ে এত নোংরা এবং অশালীন কথা বলেছে, তাঁকে ক্ষমা করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মহানুভবতা দেখিয়েছেন। আজ আমার মেয়ের জন্মদিন। প্রধানমন্ত্রী ওকে জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার অর্থাৎ 'জীবনদান' দিয়েছেন। আজ এই মেয়ের নতুন জন্ম হল।"

ঠিক কী ঘটেছিল?

সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন স্লোগান তোলার অভিযোগ ওঠে ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার সেই ঘটনার একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে সংযত হওয়ার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যারা তাঁকে গালিগালাজ করেছেন, তাঁদের ‘পথভ্রষ্ট’ বলে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, এর প্রতিবাদে ক্ষোভ বা প্রতিশোধ নেওয়ার পক্ষপাতী তিনি নন।

এর কিছুক্ষণ পরেই ওই কিশোরীর একটি ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও সামনে আসে। ভিডিওতে সে নিজের বয়স ১৫ বছর বলে উল্লেখ করে এবং নিজের কাজের অপরাধবোধ স্বীকার করে নেয়। সে জানায়, কনট প্লেস ঘুরে বন্ধুদের সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল সে। আশেপাশের মানুষের প্ররোচনাতেই সে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই স্লোগান দেয়। এটিকে জীবনের "প্রথম ও শেষ ভুল" বলে ক্ষমা চেয়ে সে বলে, "আমি যা করেছি তা ক্ষমার যোগ্য নয়। আমি দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছি। আমার ভীষণ লজ্জা করছে।"

আইনি জটিলতা ও পরিবারের আবেদন

ভিডিওতে ক্ষমা চাওয়ার আগেই গত ২৩ জুলাইয়ের ওই প্রতিবাদের জেরে নয়েডা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়। নয়েডা পুলিশ জিরো এফআইআর (Zero FIR) রুজু করে তা পরে দিল্লির সংসদ মার্গ থানায় স্থানান্তরিত করে। অভিযোগকারীর দাবি ছিল, ওই কিশোরীর মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর পদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং এর ফলে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারত।

যদিও কিশোরীর মায়ের দাবি, তাঁরা বারংবার ক্ষমা চেয়েছেন এবং এফআইআর তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, এফআইএরে মেয়ের বয়স ভুলভাবে ২৫ বছর দেখানো হয়েছে, অথচ সে মাত্র ১৫ বছরের এক কিশোরী।

সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনীতি নিয়ে সতর্কবার্তা

নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে আমার অনুরোধ, দয়া করে কুড়ি বছরের কম বয়সীদের জন্য ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক বন্ধ করে দিন। ওদের শুধু পড়াশোনা করতে দেওয়া হোক, আন্দোলনে নামতে দেওয়া উচিত নয়। এই সমস্ত মানুষগুলো শিশুদের ব্যবহার করে নিজেদের ফায়দা তোলে এবং যা খুশি তাই বলিয়ে নেয়।"

রাজনৈতিক বিতর্ক

অন্যদিকে, এই পুলিশি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রীর ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর কমেন্টে কটাক্ষ করে লেখেন, "শুধু রিলেই ক্ষমা করবেন, নাকি কেসগুলোও তুলে নেবেন?" প্রধানমন্ত্রীর উদারতা যেমন এক দিকে প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনই আইনি প্রক্রিয়া ও কম বয়সিদের রাজনৈতিক প্রতিবাদে ব্যবহারের প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই ঘটনা।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User