'রোজ গীতা পড়ত, পুলিশ হতে চেয়েছিল,' ছেলের 'মৃত্যুদণ্ডে'র শাস্তি মানতে পারছেন না প্রহ্লাদের মা
ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে ছেলের নামে। স্বাভাবিকভাবেই মা হিসেবে চেয়েছিলেন ছেলের যেন যোগ্য শাস্তি হয়, তবে এতটা ভাবেননি। তিনি বলেন, 'আমি চেয়েছিলাম ওর সাজা হোক, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড চাইনি। তবু তো বলতে পারতাম যে, আমার ছেলে বেঁচে আছে।'
গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণকাণ্ডে (Gaighata Rape and Murder Case) অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয়েছে পুলিশি এনকাউন্টারে (Gaighata Encounter Case)। ছেলে এই মারাত্মক অন্যায় করে থাকলে তার শাস্তি হোক, এমনটাই চেয়েছিলেন বাবা-মা। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড তো চাননি। ছেলের মৃত্যুর পর কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিযুক্তের মা।
তিনি বলেন, প্রহ্লাদ ভাল ছাত্র ছিল। ঠাকুর-দেবতায় ভক্তি ছিল। পুলিশের চাকরি করারও ইচ্ছে ছিল তার। সেই ছেলের এই মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না মা।
অভিযুক্তের মায়ের কথায়, 'ও ভাল ছাত্র ছিল। কম্পিউটারের সব পারত।' শুধু তাই নয়, প্রহ্লাদের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, 'রোজ রাতে ও গীতা পড়ত। ঠাকুর-দেবতা নিয়ে আমাদের কত কথা শোনাত। আমি আর পারছি না থাকতে।'
ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে ছেলের নামে। স্বাভাবিকভাবেই মা হিসেবে চেয়েছিলেন ছেলের যেন যোগ্য শাস্তি হয়, তবে এতটা ভাবেননি। তিনি বলেন, 'আমি চেয়েছিলাম ওর সাজা হোক, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড চাইনি। তবু তো বলতে পারতাম যে, আমার ছেলে বেঁচে আছে।'
কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রহ্লাদের মা জানান, ছেলের ইচ্ছে ছিল পুলিশের চাকরি করবে। পুলিশকে খুব শ্রদ্ধা করত সে। কিন্তু এমন ছেলের এমন পরিণতিতে নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ধৃত প্রহ্লাদ দাসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল (Gaighata Rape and Murder Case)। সেখান থেকে ফেরার পথে এক পুলিশ আধিকারিকের রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালাতে হয় আধিকারিকদের। তাতেই গুলিবিদ্ধ হয় প্রহ্লাদ। পরে তাকে বনগাঁ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কী ঘটেছিল গাইঘাটায়?
লক্ষ্মীপুজোর দিন সকালে গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। শনিবার রাতে বান্ধবীদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিল সে। তারপর থেকে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পর দিন সকালে এক আত্মীয়ের বাড়ির পিছনে, শৌচাগারের কাছ থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়।
নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার ভোরে তাকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল তদন্তকারীরা। আর সেখান থেকে ফেরার পথেই এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0