সাহিলের মৃত্যুতে অধ্যাপক দুল্লাকে ছুটিতে পাঠাল IIT বম্বে, জিজ্ঞাসাবাদ আজই
আইআইটি বম্বের বিটেক পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোড়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে ছুটিতে পাঠাল কর্তৃপক্ষ। গঠিত হল ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। জিজ্ঞাসাবাদ আজই।
আইআইটি বম্বের বিটেক পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যুর ঘটনায় অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে ছুটিতে পাঠাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে গোটা ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে আইআইটি বম্বের পরিচালন পর্ষদ। এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।
এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন আইআইটি পালাক্কাড়ের পরিচালন পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রমেশ ভেঙ্কটেশ্বরন। কমিটিতে রয়েছেন তিন পড়ুয়াও। তাঁদের মধ্যে একজন হস্টেল বিষয়ক সাধারণ সম্পাদক আদিত্য যোশী, ছাত্র মেন্টর কর্মসূচির সমন্বয়কারী দেব অরোরা এবং গবেষক দেবী লাল। এছাড়াও কমিটিতে রাখা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আমলা-সহ আরও কয়েকজন সদস্যকে।
ক্রাইম ব্রাঞ্চের জেরার মুখে অধ্যাপক
এদিকে সাহিলের মৃত্যুর ঘটনায় মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্ত চলছে পুরোদমে। অধ্যাপক দুল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে আজ। সাহিলের বাবা-মায়ের বয়ানও রেকর্ড করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ঘটনার দিন পরীক্ষার হল এবং হস্টেলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সাহিলের গতিবিধির ধারাবাহিকতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বর্ষের বিটেক পড়ুয়া সাহিলকে পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নেওয়ার অভিযোগে পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনও পদক্ষেপ করেনি আইআইটি কর্তৃপক্ষ। এর কিছু পরে হস্টেল থেকেই তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তবে ঠিক কী কারণে মৃত্যু, তার সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রের ঘটনার কী সম্পর্ক ছিল—তা এখনও তদন্তের বিষয়।
জাতিগত হেনস্থার অভিযোগ পরিবারের
সাহিলের পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের ছেলে ক্যাম্পাসে জাতিগত হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন। ছেলে জাতপাতের কারণে অপমান ও মানসিক নির্যাতনের কথা জানিয়েছিল বলে দাবি করেন সাহিলের মা সোনালি ওয়াকোড়ে। পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যাপক দুল্লার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির উপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের ধারায় মামলা হয়। অভিযোগগুলির তদন্ত চলছে।
পরিবার অধ্যাপক দুল্লার পাশাপাশি আইআইটি বম্বের ডিরেক্টর শিরীষ কেদারেরও গ্রেফতার দাবি তুলেছে। অন্যদিকে, আইআইটি বম্বের শিক্ষক মহলের একাংশ দুল্লার পাশে দাঁড়িয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। আইআইটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনও দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পক্ষে সওয়াল করেছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও ব্যক্তিকে নিয়ে অনুমান বা ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ না করার আবেদন জানিয়েছে।
ছাত্রদের একাধিক দাবিতে সাড়া
সাহিলের মৃত্যুর পর ক্যাম্পাসে পড়ুয়ারা আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তদন্ত এবং ছাত্রকল্যাণ সংক্রান্ত একাধিক দাবি কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়। পরিচালন পর্ষদ জানিয়েছে, অধিকাংশ দাবিই বিবেচনা করা হয়েছে। তবে অধ্যাপক দুল্লার পদত্যাগের দাবি নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আইআইটি বম্বে। পাশাপাশি মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চও সিসিটিভি, ডিজিটাল তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান খতিয়ে দেখছে। ফলে সাহিলের মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)