স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে হোঁচট! মোদীকে ‘নার্ভাস’ বলে কটাক্ষ বিরোধীদের, ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যেও খোঁচা

গত চার বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, যার সময়সীমা ছিল প্রায় ৭৫ মিনিট। তবে এই নির্দিষ্ট সময়ের ভাষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, নকশালবাদ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), উচ্চশিক্ষা এবং কোচিং ক্লাসের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেয়েছিল।

Aug 15, 2026 - 18:53
0 0
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে হোঁচট! মোদীকে ‘নার্ভাস’ বলে কটাক্ষ বিরোধীদের, ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যেও খোঁচা

স্বাধীনতা দিবসে (Independence Day 2026) লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) দেওয়া ভাষণকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানাল বিরোধী দলগুলি। ভাষণের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর থমকে যাওয়া থেকে শুরু করে ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্য - একাধিক বিষয়ে মোদীকে নিশানা করেছে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি (AAP)।  

২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতের ‘বায়োইকোনমি’ বা জৈব-অর্থনীতির অগ্রগতি নিয়ে কথা বলার সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে কিছুটা ইতস্তত করতে এবং কাগজের নোট দেখতে দেখা যায়। সেই অংশের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। তিনি লেখেন, "টেলিপ্রম্পটার ছাড়া সুপারহিউম্যান"। অন্যদিকে, ওই একই ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল মন্তব্য করেন, "একজন আত্মবিশ্বাসহীন, নার্ভাস এবং কাঁপতে থাকা প্রধানমন্ত্রী"।  

উল্লেখ্য, গত চার বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, যার সময়সীমা ছিল প্রায় ৭৫ মিনিট। তবে এই নির্দিষ্ট সময়ের ভাষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, নকশালবাদ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), উচ্চশিক্ষা এবং কোচিং ক্লাসের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেয়েছিল। যেখানে ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৯০ মিনিট দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রেখেছিলেন।

লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে মোদী বলেন, সশস্ত্র মাওবাদী হিংসা যখন ‘শেষ নিঃশ্বাস ফেলছে’, তখন কিছু প্রতিষ্ঠানে আদর্শগত নকশাল মানসিকতা এখনও রয়ে গিয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়া থেকে আটকাতে এই ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে একঘরে করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে সস্তা রাজনীতি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ। বিজেপির পুরনো ‘আরবান নকশাল’ শব্দবন্ধের সঙ্গে এর তুলনা টেনে তিনি বলেন, "দুই বা তিন বছর আগে তিনি বিরোধীদের 'আরবান নকশাল' বলে ডাকতেন। সে সময়ে সংসদে প্রশ্ন উঠেছিল যে 'আরবান নকশাল'-এর নির্দিষ্ট সংজ্ঞা কী? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাবে জানিয়েছিলেন যে 'আরবান নকশাল' বলে কোনও কিছুর অস্তিত্বই নেই এবং এর কোনও সংজ্ঞাও নেই। আর আজ প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লা থেকে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের জন্য 'দিমাগি নকশাল' শব্দ ব্যবহার করছেন"।

কেন্দ্রকে বিঁধে জয়রাম রমেশ আরও অভিযোগ করেন যে, প্রথমে সমালোচকদের নির্দিষ্ট কিছু দাবি তোলার জন্য আক্রমণ করা হয় এবং পরবর্তীতে সরকার নিজেই সেই দাবি গ্রহণ করে। তিনি বলেন, "এক সময় জাতিভিত্তিক গণনার (Caste Census) ভাবনাকে উনি 'আরবান নকশাল' চিন্তাধারা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, অথচ এক বছর আগে নিজেই জাতিভিত্তিক গণনার কথা ঘোষণা করেছেন"। তিনি যোগ করেন, ১২ বছর পর ওঁর রাজনৈতিক ভাষণে নতুন কিছু ছিল না।

নারী সংরক্ষণ আইনের বাস্তবায়ন এবং প্রস্তাবিত আসন সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকেও ‘অসৎ ও কপট’ বলে খোঁচা দিয়েছে কংগ্রেস। জয়রাম রমেশ মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরেই সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে নারী সংরক্ষণ বিল পাস হয়েছিল। কিন্তু মোদী সরকারের দ্বিচারিতার কারণেই ২০২৪ সালের নির্বাচন থেকে এটি কার্যকর করা হয়নি। অনেক দেরিতে, ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল রাতে তড়িঘড়ি ও চুপিসারে এই নিয়ম সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

রাজনীতিতে নারীদের প্রতিনিধিত্বের শক্ত ভিত গড়ার প্রকৃত কৃতিত্ব কংগ্রেস এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে দিয়ে জয়রাম রমেশ মনে করিয়ে দেন, ৭৩ ও ৭৪ নম্বর সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপর সূচনা হয়েছিল।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User