১২ হাজার মাইনেতে ২৫ লাখের প্রাসাদ! রাম মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনায় ধৃতের সম্পত্তি নজরে
প্রায় ১,০০০ বর্গফুট জায়গার ওপর লবকুশের সেই দুই তলা বাড়ির কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষের মুখে। এমনকি ভেতরের বৈদ্যুতিক সংযোগ বা ওয়্যারিং-এর কাজও দ্রুত গতিতে চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ এই বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অযোধ্যার রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Temple Theft) কোটি কোটি টাকার অনুদান ও গয়না চুরির ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই প্রকাশ্যে আসছে ধৃতদের চোখ ধাঁধানো সম্পত্তির হদিশ। এই কেলেঙ্কারিতে ধৃত অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত লবকুশ মিশ্রের আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তি ক্রয়ের খতিয়ান খতিয়ে দেখতে গিয়ে এবার পিলে চমকানো তথ্য হাতে পেল বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিআইটি (SIT)। জানা যাচ্ছে, রাম মন্দির ট্রাস্টের টাকা গোনার সাধারণ কর্মী হিসেবে যোগ দেওয়ার ঠিক পরেই রাতারাতি কয়েক লক্ষ টাকার জমি কিনে সেখানে বিশাল বাড়ি তৈরি করা শুরু করেছিল এই লবকুশ, যা তাঁর মাসিক বেতনের তুলনায় আকাশছোঁয়া।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, মাত্র এক বছর আগে রাম মন্দিরের টাকা গোনার কাজে বহাল হয়েছিল ২৭ বছর বয়সী লবকুশ মিশ্র। আর সেখানে যোগ দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই অযোধ্যা-লখনউ হাইওয়ের পাশে সাহাদাতগঞ্জ-বনবীরপুর এলাকায় একটি বিলাসবহুল প্লট বা জমি কেনা হয়। আইনি জটিলতা এড়াতে জমিটি নিজের স্ত্রী সুপ্রিয়া মিশ্রের নামে নথিভুক্ত করিয়েছিল লবকুশ। সরকারি খাতায় ওই জমির মূল্য মাত্র ৮.৮ লক্ষ টাকা দেখানো হলেও, বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ওই জমি এবং তার ওপর তৈরি হওয়া বহুতলটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা!
প্রায় ১,০০০ বর্গফুট জায়গার ওপর লবকুশের সেই দুই তলা বাড়ির কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষের মুখে। এমনকি ভেতরের বৈদ্যুতিক সংযোগ বা ওয়্যারিং-এর কাজও দ্রুত গতিতে চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ এই বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। কাজ শুরুর আগে রীতিমতো ধুমধাম করে ‘ভূমি পুজো’র আয়োজন করেছিল লবকুশ ও তার পরিবার। রাজকুমার পান্ডে নামে এক প্রতিবেশী জানান, “এটা লবকুশ মিশ্রেরই বাড়ি। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এখানে কাজ শুরু হয়। ও প্রায়ই এখানে তদারকি করতে আসত, আমাদের সঙ্গে দেখাও হত।”
এলাকাবাসীরা আরও জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন আগেও ওই নির্মাণস্থলে রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকরা পুরোদমে কাজ করছিলেন। কিন্তু রাম মন্দিরের অনুদান চুরির চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারিটি ফাঁস হওয়া এবং লবকুশের গ্রেফতারির খবরটি চাউর হতেই রাতারাতি সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে বাড়ির কাজ। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “রবিবারের আগে পর্যন্ত এখানে শ্রমিকরা কাজ করছিল। কিন্তু ও ধরা পড়ার পর থেকে শ্রমিক তো দূরস্ত, লবকুশের পরিবারের কোনও সদস্যকেও আর এই তল্লাটে দেখা যায়নি।”
লবকুশের এই রকেটের গতিতে আর্থিক উত্থান নিয়ে এখন তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে অযোধ্যা জুড়ে। কারণ, রাম মন্দির ট্রাস্টের হয়ে অনুদান গোনার কাজের বিনিময়ে লবকুশ মাসে মাত্র ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা বেতন বা মাইনে পেতেন। প্রতিবেশীদের কথায়, লবকুশের পরিবার অত্যন্ত সাধারণ মধ্যবিত্তের মতো জীবনযাপন করত এবং যাতায়াতের জন্য একটি সাধারণ মোটরবাইক ব্যবহার করত। হঠাৎ করে এত টাকা সে কোথায় পেল, তা ভেবেই কূল পাচ্ছেন না প্রতিবেশীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, গর্ভগৃহে ভক্তদের দেওয়া সোনা-দানা ও নগদ টাকা গোনার মূল দায়িত্বে ছিলেন এই লবকুশ। সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে হানা দিয়ে নগদ প্রায় ১২ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা। প্রাথমিক অনুমান, রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে অন্তত ৭ কোটি টাকার নগদ ও গয়না সুপরিকল্পিতভাবে গায়েব করেছে এই চক্রটি, যার পরিমাণ আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। এই মামলার তদন্তে গঠিত এসআইটি এ পর্যন্ত লবকুশ সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে এবং বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই বিপুল চুরির কেলেঙ্কারির জেরেই ইতিপূর্বে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং সদস্য অনিল মিশ্রের মতো হেভিওয়েট কর্তাদের পদত্যাগ করতে হয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)