১৩৫ থেকে ৮৯ কেজি! ৪৬ কেজি ওজন কমানোর রহস্য জানালেন নিতিন গড়করি

কোনও ‘ক্র্যাশ ডায়েট’ বা দ্রুত রোগা হওয়ার কৌশল নয়—নিয়মিত ব্যায়াম, শৃঙ্খলা এবং জীবনযাপনের আমূল পরিবর্তনকেই নিজের এই রূপান্তরের মূল কারণ বলে জানিয়েছেন তিনি।

Aug 15, 2026 - 20:04
0 0
১৩৫ থেকে ৮৯ কেজি! ৪৬ কেজি ওজন কমানোর রহস্য জানালেন নিতিন গড়করি

একসময়ে তাঁর ওজন ছিল প্রায় ১৩৫ কেজি। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৯ কেজিতে। অর্থাৎ, প্রায় ৪৬ কেজি ওজন ঝরিয়েছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি (Nitin Gadkari)। কোনও ‘ক্র্যাশ ডায়েট’ বা দ্রুত রোগা হওয়ার কৌশল নয়—নিয়মিত ব্যায়াম, শৃঙ্খলা এবং জীবনযাপনের আমূল পরিবর্তনকেই নিজের এই রূপান্তরের মূল কারণ বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি চলচ্চিত্র পরিচালক ও কোরিয়োগ্রাফার ফারহা খানের ইউটিউব চ্যানেলে নিজের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে কথা বলেন গড়করি। তিনি জানান, কাজের ব্যস্ততা গভীর রাত পর্যন্ত চললেও সকালে উঠে শরীরচর্চা বাদ দেন না। কখনও রাত ১টা পর্যন্ত বৈঠক থাকলেও সকাল ৭টায় উঠে প্রায় দু’ঘণ্টা থেকে আড়াই ঘণ্টা ব্যায়াম করেন।

গড়করির কথায়, একসময়ে তাঁর জীবন ছিল অত্যন্ত অপরিকল্পিত এবং অনিয়ন্ত্রিত। কাজের চাপে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দিতেন না। কোভিড অতিমারি তাঁর সেই দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে দেয়।

অতিমারির সময়ে কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হারানোর পরে তিনি উপলব্ধি করেন, পেশাগত সাফল্য বা সামাজিক প্রতিষ্ঠার চেয়েও সুস্থ থাকা বেশি জরুরি। তখন থেকেই শরীরচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ করে তোলেন। তাঁর কথায়, “স্বাস্থ্যই সম্পদ।”

গড়করির ব্যায়ামের তালিকায় রয়েছে প্রাণায়াম, স্ট্রেচিং এবং পেশি শক্তিশালী করার বিভিন্ন অনুশীলন। প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানেই তিনি নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। এর পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও সামগ্রিক জীবনযাপনেও সচেতনতা এনেছেন তিনি।

তবে প্রতিদিন দু’ঘণ্টা বা তার বেশি ব্যায়াম করা কি সকলের পক্ষে বাস্তবসম্মত? স্বাস্থ্য ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, গড়করির রুটিন অনুপ্রেরণামূলক হলেও সেটি হুবহু অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। অধিকাংশ কর্মব্যস্ত মানুষের পক্ষে প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট পরিকল্পিত শরীরচর্চাই যথেষ্ট হতে পারে।

সপ্তাহজুড়ে নিয়মিত হাঁটা বা কার্ডিয়ো ব্যায়ামের সঙ্গে শক্তিবর্ধক অনুশীলন এবং শরীর সচল রাখার ব্যায়াম মিলিয়ে করা বেশি কার্যকর। কতক্ষণ ব্যায়াম করা হচ্ছে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল সেটি নিয়মিত এবং দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্রাণায়াম মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। স্ট্রেচিং শরীরের নমনীয়তা এবং অস্থিসন্ধির সচলতা বজায় রাখে। অন্যদিকে, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম পেশি সংরক্ষণ, বিপাকক্রিয়া সচল রাখা এবং রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

শুধু কম খেয়ে বা অতিরিক্ত কার্ডিয়ো করে দ্রুত ওজন কমাতে গেলে পেশির ক্ষয় এবং পরে আবার ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রাখাই দীর্ঘমেয়াদি ওজন নিয়ন্ত্রণের নিরাপদ পথ।

তবে গড়করির আড়াই ঘণ্টার ব্যায়ামের রুটিন সকলের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, অস্থিসন্ধির সমস্যা এবং অন্যান্য অসুস্থতার ভিত্তিতে ব্যায়ামের ধরন ও সময় আলাদা হওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পরে হঠাৎ কঠোর শরীরচর্চা শুরু না করে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

গড়করির ওজন কমানোর যাত্রা তাই শুধু ১৩৫ থেকে ৮৯ কেজিতে পৌঁছনোর গল্প নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি অসংযত জীবন থেকে নিয়মিত এবং স্বাস্থ্যসচেতন জীবনে ফিরে আসার ফল।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User