Meta ও ৮ রাজ্যের ডিজিপি-কে নোটিস মানবাধিকার কমিশনের! পকসোর অভিযোগ প্রমাণ হলেই এফআইআর-এর হুঁশিয়ারি
মানবাধিকার কমিশনের তরফে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষগুলির হাতে অন্তত ৫০টি নির্দিষ্ট ইউআরএল (URL) বা ওয়েবসাইটের লিঙ্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। কানুনগো সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, "প্রমাণ হিসেবে ৫০টি ইউআরএল সরবরাহ করার পরেও যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু না করে, তবে এনএইচআরসি সরাসরি ভারত সরকারের দ্বারস্থ হবে।
ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফি, বয়স-অনুপযোগী এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট (CSAM)-র রমরমা প্রচারের অভিযোগে এবার কড়া অবস্থান নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষসহ দেশের ৮টি রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের (DGP) নোটিস পাঠানো হয়েছে কমিশনের তরফে।
কমিশনের সদস্য প্রিয়ঙ্ক কানুনগো (Priyank Kanoongo)সিএনএন-নিউজ১৮ -কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে অর্থের বিনিময়ে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক সামগ্রী বা ছবি সরবরাহ করা ভারতের শিশু সুরক্ষা বা পকসো (POCSO) আইনের অধীনে গুরুতর এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি স্পষ্ট জানান, কনটেন্টগুলির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক তদন্ত প্রয়োজন এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করা উচিত।
রাজ্যগুলির পুলিশ প্রধানদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিবকেও এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ করা হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশনের তরফে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষগুলির হাতে অন্তত ৫০টি নির্দিষ্ট ইউআরএল (URL) বা ওয়েবসাইটের লিঙ্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। কানুনগো সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, "প্রমাণ হিসেবে ৫০টি ইউআরএল সরবরাহ করার পরেও যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু না করে, তবে এনএইচআরসি সরাসরি ভারত সরকারের দ্বারস্থ হবে। পুলিশ আধিকারিক এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা আমলাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করতে কেন্দ্রকে সুপারিশ করা হবে।"
কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে দুটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের চাঞ্চল্যকর তদন্তমূলক প্রতিবেদন:
১) বিবিসি (BBC)-র রিপোর্ট: গত মাসে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তদন্তে উঠে আসে, ভারতে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক ভিডিও ছড়ানোর জন্য ইনস্টাগ্রামে দেদার বিজ্ঞাপন চালানো হচ্ছে। 'রেপ ভিডিও' (Rape Video)-র মতো শব্দ ব্যবহার করে ইউজারদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট বিক্রি করা হচ্ছিল।
২) ওয়্যার্ড (WIRED)-এর রিপোর্ট: সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পত্রিকাটির তদন্তে দেখা গেছে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে, মেসেঞ্জার এবং থ্রেডস-এ এআই (AI) দিয়ে তৈরি নাবালকদের যৌন উস্কানিমূলক ছবি ও বিজ্ঞাপন অনুমোদন দিয়েছে মেটা। তদন্ত বলছে, এমন কিছু বিজ্ঞাপন সোশ্যাল মডিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার আগেই ইউরোপে বসবাসকারী হাজারেরও বেশি ইউজার দেখে ফেলেছেন। এমনকী প্রযুক্তি ব্যবহার করে পোশাক বিকৃত করার 'এআই নুডিফাই' (AI Nudify) টুলের বিজ্ঞাপনও রমরমিয়ে চলেছে মেটার প্ল্যাটফর্মে।
এই গুরুতর অভিযোগের জল গড়ালে সম্প্রতি মেটা প্রধান মার্ক জুকারবার্গ (Mark Zuckerberg) তাঁদের প্ল্যাটফর্মে শিশু নির্যাতন সামগ্রী, ডিপফেক কনটেন্ট এবং পরিচালনগত ব্যর্থতার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও তথ্যপ্রযুক্তি সচিবের সাথে মেটা শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিশেষ বৈঠকের পরেই এই ক্ষমা প্রার্থনার ঘটনা ঘটে।
যদিও মেটার দাবি, শিশু শোষণের বিরুদ্ধে তাঁদের 'জ়িরো টলারেন্স' নীতি রয়েছে এবং তারা ক্ষতিকারক বিজ্ঞাপন ও এআই কন্টেন্ট ব্লক করতে আরও উন্নত অ্যালগরিদম ও প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। তবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, স্রেফ ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ সুনিশ্চিত করতেই হবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)