World Cup 2026: ‘রাখে হ্যারি মারে কে!’ দলকে জেতালেন, পেলেকে টপকালেন, তবু ইংরেজ স্ট্রাইকারের পা মাটিতেই
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড। জোড়া গোল করে কিংবদন্তি পেলের রেকর্ড ভাঙলেন হ্যারি কেন। মেসি-রোনাল্ডোর সঙ্গে তুলনা নিয়ে কী বললেন ইংরেজ অধিনায়ক? জানুন বিস্তারিত।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঠে জোড়া গোল। বিশ্বকাপে মোট ১৩ গোল করে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের রেকর্ডও ছাপিয়ে গেলেন (Harry Kane Goals)। উঠতে শুরু করল লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে তুলনাও (FIFA World Cup 2026)। কিন্তু ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন স্তুতিবাক্যে ভেসে যাওয়ার বান্দাই নন! বরং, আবেগহীন গলায় জানালেন, আধুনিক ফুটবলে মেসি ও রোনাল্ডো—এই দুজন এখনও সর্বোচ্চ মানদণ্ড (Messi vs Ronaldo Comparison)। তাঁদের মতো দীর্ঘ সময় ধরে সেরার পর্যায়ে থাকার লক্ষ্যেই তিনি প্রতিদিন নিজেকে তৈরি করে চলেছেন।
শেষ বত্রিশের ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় উঠেছে ইংল্যান্ড (England vs DR Congo)। বলতে হ্যারি কেনের কাছে পরাস্ত হয়েছে আফ্রিকার লড়াকু টিম (World Cup Knockout Stage)। জোড়া গোলে কঙ্গোর আশাভঙ্গের একমাত্র কারণ তিনি। দিনের শেষে কেনের বিশ্বকাপে মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৩। সর্বকালের বিশ্বকাপ গোলদাতাদের তালিকায় পেলেকে (১২) পিছনে ফেলেন ইংরেজ অধিনায়ক (Harry Kane Surpasses Pele)।
‘মেসি আর রোনাল্ডোই সবার শীর্ষে’
ম্যাচের পরে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেন (Harry Kane Interview)। তাঁকে জানানো হয়, সতীর্থ অ্যান্থনি গর্ডন তাঁর পারফরম্যান্স দেখে মেসি ও রোনাল্ডোর সঙ্গে তুলনা টেনেছেন! এতে বিগলিত হওয়ার বদলে ইংল্যান্ড অধিনায়কের সটান জবাব, ‘পর্দার আড়ালে আমরা যে পরিশ্রম করি, আপনারা তার অনেকটাই দেখতে পান না। অনুশীলনে, বাড়িতে ফিরে রিকভারি, আইস বাথ, চিকিৎসা—সব মিলিয়ে ছোট ছোট বিষয়গুলোই দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে সাহায্য করে।’এরপরই যোগ করেন, ‘মেসি আর রোনাল্ডো সেই জায়গাতেই সবার শীর্ষে। ওরাই সেই মানদণ্ড। আমি আজও নিজেকে যতটা সুস্থ, সতেজ অনুভব করছি, এমনটা আগে খুব কমই করেছি। মাঠে নামার আগে জানতাম, পর্দার আড়ালে করা পরিশ্রম আমাকে বড় মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত করেছে। আজ সেটাই হয়েছে।’
‘নেতৃত্ব মানে আগে নিজে করে দেখানো’
ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে কেনের দ্বিতীয় গোল ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান দিকের ওপরের কোণে জোরালো শটে বল জড়ান তিনি। এই গোল নিয়ে কেনের মন্তব্য, ‘শটটা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গিয়েছিলাম, বল জালে যাবে। তখনই উদ্যাপন শুরু করে দিই। আমি নিজের সেরা ভার্সন হওয়ার চেষ্টা করি। উদাহরণ তৈরি করে নেতৃত্ব দেওয়া আমার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। এই নীতিই মেনে চলি!'
‘এই ম্যাচ ইংল্যান্ডের জার্সিতে আমার অন্যতম প্রিয়’
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইংল্যান্ডের জন্য সহজ ছিল না। ডিআর কঙ্গো এগিয়ে যাওয়ার পর একাধিক সুযোগ নষ্ট করে টমাস টুখেলের দল। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক প্রথমার্ধে কয়েকটি দুর্দান্ত সেভে দলকে বাঁচান। শেষ পর্যন্ত কেনের জোড়া গোলই ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের মূল্যায়নে নায়কের বক্তব্য, ‘এটা সত্যিই কঠিন ম্যাচ ছিল। ওরা খুব গোছানো দল। প্রথমার্ধে ওদের গোলরক্ষক কয়েকটা অবিশ্বাস্য সেভ করেছে। আমাদের শুধু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়েছে। জানতাম, আমাদের মুহূর্ত আসবে!’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কথা বলেছিলাম, নায়ক যে কেউ হতে পারে। আমি হতে পারি, পিকার্স একটা সেভ করতে পারে, ডিফেন্ডাররা গুরুত্বপূর্ণ ব্লগ করতে পারে। আজ মুহূর্তটা আমার জন্য তোলা ছিল। যেভাবে ফিরে এসেছি, তাতে দলের জন্য গর্বিত। ইংল্যান্ডের জার্সিতে এটাই আমার অন্যতম প্রিয় ম্যাচ হয়ে থাকবে। দুটো গোল করে দলকে জেতাতে পারা সত্যিই দারুণ অনুভূতি।’
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)