বেজোসকে সঙ্গী করে বাজিমাত! ১৮ হাজার কোটিতে লিভারপুলের শেয়ার কিনলেন অমিত ভাটিয়া
অ্যামাজনের জেফ বেজোসকে সঙ্গে নিয়ে লিভারপুল ক্লাবের ৩০ শতাংশ মালিকানা কিনলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোগপতি অমিত ভাটিয়া। জানুন ১৮ হাজার কোটি টাকার চুক্তির খুঁটিনাটি।
বিশ্বফুটবলে বড়সড় চমক। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব লিভারপুলের (Liverpool FC) ৩০ শতাংশ মালিকানা কিনে নিল একটি নতুন কনসোর্টিয়াম। আর এই বিনিয়োগকারী দলের প্রধান মুখ এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত। উদ্যোগপতি অমিত ভাটিয়া। শুধু তিনি একা নন, গোটা উদ্যোগে তাঁর ছায়াসঙ্গী অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এডুয়ার্ডো সাভেরিন।
চুক্তির বিপুল আর্থিক অঙ্ক
'ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ' বা এফএসজি (Fenway Sports Group)-র হাতেই ছিল লিভারপুলের সিংহভাগ মালিকানা। তারা এই শেয়ার হস্তান্তরের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। বিখ্যাত ব্রিটিশ সংবাদপত্র 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, চুক্তির আর্থিক অঙ্ক প্রায় ১.৬৫ বিলিয়ন পাউন্ড। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা!
এই চুক্তির পর বিশ্ববাজারে লিভারপুল ক্লাবের মোট দর দাঁড়াচ্ছে ৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড। অর্থাৎ, প্রায় ৬০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গোটা প্রক্রিয়ায় এফএসজি-র সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন অমিত। খুব শিগগিরই লিভারপুলের সম্প্রসারিত বোর্ডে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে বসতে চলেছেন তিনি (Amit Bhatia)।
মালিকানায় '১৮৯২ হোল্ডিংস'
লিভারপুল ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৯২ সালে। সেই সালকে সম্মান জানিয়েই এই নতুন বিনিয়োগকারী সংস্থার নাম রাখা হয়েছে '১৮৯২ হোল্ডিংস'। এই কনসোর্টিয়ামে (1892 Holdings) বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল নাম—মিত্তল ফ্যামিলি ট্রাস্ট, কেফাইভ স্পোর্টস (যার প্রধান লগ্নিকারী জেফ বেজোস) এবং সাভেরিন পরিবারের 'ইই ক্যাপিটাল' টাকা ঢেলেছে। এডুয়ার্ডোর স্ত্রী এলেইন সাভেরিন এবং কেফাইভ গ্লোবালের ম্যানেজিং পার্টনার ব্রায়ান বাম ক্লাবের বোর্ডে যোগ দেবেন। তবে জেফ বেজোস (Jeff Bezos) সরাসরি বোর্ডে নেই। তিনি মূলত নিষ্ক্রিয় লগ্নিকারী হিসেবেই পিছনের সারিতে থাকবেন।
ফুটবল মাঠেও বদল?
সহজ কথায়, না। এই পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি শেষ হতে আরও প্রায় তিন মাস সময় লাগবে। তবে চুক্তি হলেও ফুটবল মাঠে বা লিভারপুলের দৈনন্দিন কাজকর্মে এখনই কোনও বদল আসছে না। এফএসজি-র হাতেই থাকছে ক্লাবের মূল নিয়ন্ত্রণ। দল গঠন, গ্রীষ্মকালীন দলবদল বা ট্রান্সফার বাজেট (Football Transfer News)—সবকিছু ঠিক আগের মতোই চলবে। এফএসজি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই লগ্নি মানেই ক্লাব বিক্রি নয়। আপাতত আমেরিকান মালিক গোষ্ঠীর আর কোনও শেয়ার বিক্রির বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আগামী দিনে তারা চাইলে ১৮৯২ হোল্ডিংস আরও শেয়ার কেনার রাস্তা খোলা রাখছে।
নজর ভারত ও এশিয়ার বাজারে
এই চুক্তির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল এশিয়া, বিশেষত ভারতের বাজার। প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক ব্যবসা এবং লগ্নির দুনিয়ায় এই জোট আরও বড় সুযোগ তৈরি করবে। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মাইক গর্ডন চুক্তির দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'লিভারপুল সবসময় এক মরসুমের গণ্ডি পেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের কথা ভাবে। এই সুযোগটা আসার পর দেখলাম, অমিত ও তাঁর কনসোর্টিয়াম আমাদের দর্শনের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যাচ্ছে।'
উচ্ছ্বসিত অমিতও। তাঁর কথায়, 'লিভারপুল ও এর নেতৃত্বের ওপর আমাদের অগাধ বিশ্বাস। সেই কারণেই এই লগ্নি। ক্লাবের ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে আমরা মুখিয়ে আছি।'
২০২৫ সালের মে মাসে শেষ হওয়া আর্থিক বছরে ক্লাবের মোট আয় ৭০৩ মিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ৭ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা। যা লিভারপুলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ক্লাবের এই রমরমা বাজারের মাঝেই ভারতীয় বংশোদ্ভূতের এই গ্র্যান্ড এন্ট্রি নিঃসন্দেহে বড় খবর (English Premier League)।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)