কিডনি ভাল রাখতে খাচ্ছেন তো এই মাছগুলো? ওমেগা-৩ এর গুণে এড়ানো যাবে বড় বিপদ!
শরীরের অন্যতম প্রধান অঙ্গ কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সচল রাখতে ডায়েটে বড় বদল আনা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, স্যালমন, ম্যাকারেল, ট্রাউট বা টুনার মতো ফ্যাটি ফিশ বা তেলযুক্ত মাছ কিডনির কার্যক্ষমতা বাড়াতে দারুণ সাহায্য করে।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিডনি আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ, অতিরিক্ত জল ও বিষাক্ত উপাদান ছেঁকে বের করা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা— সবই কিডনির গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD)-এর ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর সেই তালিকায় অন্যতম উপকারী খাবার হল ফ্যাটি ফিশ বা তেলযুক্ত মাছ।
কেন কিডনির জন্য উপকারী ফ্যাটি ফিশ?
স্যালমন, ম্যাকারেল, ট্রাউট, টুনার মতো তেলযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। এগুলি শুধু হৃদ্যন্ত্রের জন্যই নয়, কিডনির সুস্থতাও বজায় রাখতে সাহায্য করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে ওমেগা-৩
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন কিডনির ক্ষতির অন্যতম কারণ। ফ্যাটি ফিশে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ফলে কিডনির উপর চাপ কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনির কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা নিয়মিত মাছ খান, তাঁদের কিডনির স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সূচক তুলনামূলকভাবে ভাল থাকে।
হৃদ্যন্ত্র ভাল থাকলে কিডনিও সুস্থ থাকে
উচ্চ রক্তচাপ কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। আবার কিডনির সমস্যা থাকলে হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। ফ্যাটি ফিশ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে, ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে এবং রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। ফলে পরোক্ষভাবে কিডনির উপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন সপ্তাহে অন্তত দু’বার (প্রতি বার প্রায় ৩ আউন্স) ফ্যাটি ফিশ খাওয়ার পরামর্শ দেয়।
উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস
শরীরের পেশি, টিস্যু এবং কোষের স্বাভাবিক কাজের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ফ্যাটি ফিশে থাকা প্রোটিনে শরীরের প্রয়োজনীয় সব ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে। প্রক্রিয়াজাত মাংসের তুলনায় মাছ অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর বিকল্প, কারণ এতে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও ক্ষতিকর চর্বি থাকে না।
ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর
ফ্যাটি ফিশে শুধু ওমেগা-৩ নয়, আরও বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। যেমন—
ভিটামিন ডি, যা হাড় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে
ভিটামিন বি১২, যা স্নায়ু ও লোহিত রক্তকণিকার জন্য জরুরি
সেলেনিয়াম, যা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে
বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অনুযায়ী পটাশিয়াম ও ফসফরাসও পাওয়া যায়।
কিডনি রোগ প্রতিরোধে কতটা কার্যকর?
কোনও একটি খাবার একা কিডনি রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না। তবে মাছ, শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস ক্রনিক কিডনি ডিজিজের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি ফিশ স্থূলতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মতো ঝুঁকির কারণগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।
কারা সতর্ক থাকবেন?
যাঁদের ইতিমধ্যেই অগ্রসর পর্যায়ের কিডনি রোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত মাছ খাওয়া উচিত নয়। কারণ কিছু মাছের মধ্যে ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে, যা নির্দিষ্ট রোগীদের জন্য সীমিত রাখতে হয়। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
কীভাবে খাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছ রান্নার পদ্ধতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই—
গ্রিল, স্টিম, বেক বা এয়ার-ফ্রাই করে খাওয়াই সবচেয়ে ভাল
ডিপ ফ্রাই করা মাছ এড়িয়ে চলুন
মাছের সঙ্গে শাকসবজি ও গোটা শস্য রাখুন
অতিরিক্ত নুন, প্রক্রিয়াজাত মশলা বা উচ্চ-সোডিয়াম সস ব্যবহার করবেন না।
কিডনিকে সুস্থ রাখতে শুধু ওষুধ নয়, প্রয়োজন সঠিক জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন ফ্যাটি ফিশ খেলে শরীর ও হৃদ্যন্ত্রের পাশাপাশি কিডনিও উপকৃত হতে পারে। তবে যাঁদের আগে থেকেই কিডনির জটিল সমস্যা রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই নেফ্রোলজিস্ট বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)