কলকাতার ৫৮টি ক্রসিংয়ে হকার নিয়ন্ত্রণ শুরু, এসআইআরে নাম না থাকলে মিলবে না ভেন্ডিং লাইসেন্স
কলকাতার ফুটপাত ও ব্যস্ত রাস্তা পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করতে কড়া নির্দেশিকা জারি করল কলকাতা পুরসভা। শহরের ৫৮টি বড় ক্রসিংয়ের ৪৫ ফুটের মধ্যে কোনও হকার বসা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ধর্মতলা, পার্ক স্ট্রিটসহ ১৮৯২টি রাস্তাকে ‘নো-হকিং জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও ফুটপাতকে পথচারীদের জন্য মুক্ত করতে একগুচ্ছ কড়া সিদ্ধান্ত নিল পুরসভা ও পুলিশ। শহরের ৫৮টি বড় ক্রসিংকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে সেখানে ৪৫ ফুটের মধ্যে কোনও হকার না রাখার নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশকে, যাতে মহানগরের প্রধান সড়কগুলিতে নতুন করে দখল না বসে।
পুর কমিশনার ও প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, শহরের সমস্ত স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, সরকারি দফতর, শপিং মল ও পুর মার্কেটের প্রবেশপথের দু’পাশ থেকে হকারদের সরতে হবে। যদিও এখনই বড়মাপের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হচ্ছে না, তবে শহরের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ জোরদার করা হচ্ছে।
ভেন্ডিং লাইসেন্স ও ভোটার তালিকা সংযোগ
টাউন ভেন্ডিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে না, তাঁদের আর ভেন্ডিং লাইসেন্স দেওয়া হবে না। আগে প্রস্তুত হওয়া ৮৭২৭ জনের ভেন্ডিং সার্টিফিকেট তালিকার ক্ষেত্রেও ফের এসআইআর সংক্রান্ত নথি যাচাই বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু ইউনিয়ন নেতার বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিকদের বেআইনিভাবে হকারির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও উঠছে, যা খতিয়ে দেখা হবে।
শহরজুড়ে ‘নো-হকিং জোন’ সম্প্রসারণ
প্রথম ধাপে ধর্মতলা, পার্ক স্ট্রিট ও বিবাদী বাগ-সহ মোট ১৮৯২টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ‘নো-হকিং জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও প্রায় ২০০০ ব্যস্ত রাস্তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ১৫ দিনের মধ্যে যৌথ সমীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, 'কলকাতার সরু রাস্তায় যানজট কমাতে হকারদের নিজ উদ্যোগেই সরে যাওয়া উচিত।' অন্যদিকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে তিনি ধর্মতলার ‘শ্রী ফেরানোর’ প্রসঙ্গ তোলেন।
হকার সংগঠনের অবস্থান
হকার সংগ্রাম কমিটির নেতা শক্তিমান ঘোষ জানিয়েছেন, সমীক্ষার দিনক্ষণ ঠিক হলে তাঁরা অংশ নেবেন। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের সমীক্ষায় ৫৬ হাজার হকারের তালিকা থাকলেও তার মধ্যে বহু ভুয়ো নাম রয়েছে, যদিও হকারদের দাবি প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার।
পুরসভা ও পুলিশের এই নতুন উদ্যোগকে কেন্দ্র করে শহরের রাস্তাঘাটের ভবিষ্যৎ বিন্যাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)