ক্যানসারের ধাক্কা সামলে ৫৭-তে ৮০ কেজির ডেডলিফ্ট, জিমেই নতুন জীবন পেলেন জাবিত্রী
উন্নত পর্যায়ের মুখগহ্বরের ক্যানসার জয় করে জিমকেই নতুন জীবনের আশ্রয় বানালেন ৫৭ বছরের জাবিত্রী শাক্য। শারীরিক সমস্ত দুর্বলতা কাটিয়ে ছেলের সমর্থনে তিনি এখন অনায়াসে তুলে নিচ্ছেন ৮০ কেজির ডেডলিফ্ট।
কয়েক বছর আগেও জাবিত্রী শাক্যকে বিছানা থেকে উঠে বসতে অন্যের সাহায্য নিতে হত। উন্নত পর্যায়ের মুখগহ্বরের ক্যানসারের চিকিৎসার পর তাঁর শরীর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়াও করতে পারতেন না। তরল খাবারের উপর নির্ভর করতে হয়েছে দিনের পর দিন, পায়ের পেশির একটা অংশ হারাতে হয়েছে। এভাবে বেঁচে থাকা তাঁর কাছে একটা চ্যালেঞ্জ ছিল।
কিন্তু ৫৭ বছরের এই মহিলা ক্যানসারের ভয়ে হার মানেননি। মারণ রোগকে নিজের জীবনের শেষ পরিচয় বানাতে চাননি কখনওই। ছেলের নিরন্তর সমর্থনে ধীরে ধীরে শরীরের শক্তি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। দ্রুত ফলের আশা না করে, ধৈর্য এবং নিয়মিত অনুশীলনকে সঙ্গী করেন প্রৌঢ়া। ছোট ছোট সাফল্য তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগায়।
প্রথমে যা ছিল চিকিৎসার পর সেরে ওঠার অংশ, সময়ের সঙ্গে তা পরিণত হয় পাওয়ার লিফ্টিংয়ের নেশায়। ক্যানসার যে শরীর থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছিল, সেই শরীরকেই নতুন করে গড়ে তুলতে বর্তমানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করেছেন প্রৌঢ়া। ধীরে ধীরে তিনি আবিষ্কার করেন নিজের অজানা শক্তিকে। যিনি একসময় নিজে থেকে সোজা হয়ে বসতেও পারতেন না, তিনি এখন এমন ওজন তোলেন যা অনেক সুস্থ মানুষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ৮০ কেজির ডেডলিফ্টও রয়েছে ঝুলিতে।
এই যাত্রায় যা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, তা হল তাঁর ছেলের ভূমিকা। কঠিন সময়ে ছেলের উৎসাহ কখনও কমেনি। প্রতিটা ছোট অগ্রগতিতে সে মাকে আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। আর তিনিও চেষ্টা করে গেছেন।
জাবিত্রীর গল্প শুধু পাওয়ারলিফ্টিংয়ে সাফল্যের গল্প নয়। এটি জীবনের অপ্রত্যাশিত আঘাতের পর আবার নতুন করে শুরুর গল্প। অসুস্থতাকে নিজের পরিচয় হতে না দেওয়া এবং ভেঙে পড়া জীবনকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলার গল্প। ৫৭ বছর বয়সে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, শক্তি শুধু কত ওজন তোলা যায় তা দিয়ে মাপা ঠিক নয়। সত্যিকারের শক্তি হল প্রতিবার পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানো।
তথ্য সূত্র: ইনস্টাগ্রাম
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)