ঘর-বাড়ি কেনা থেকে ব্যবসায় লক্ষ্মীলাভ! বিশ্বকর্মা পুজোয় এই তিন কাজে ফিরবে আর্থিক সমৃদ্ধি

বিশ্বকর্মা পুজো ২০২৬-এ আর্থিক উন্নতি, ব্যবসার বাধা দূর এবং নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করতে মেনে চলুন ৩টি বিশেষ ধর্মীয় আচার বা টোটকা।

Sep 19, 2026 - 15:55
0 0

বিশ্বকর্মা পুজো মানেই শুধু কলকারখানায় যন্ত্রপাতির পুজো নয়। কর্মের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সরঞ্জাম, যন্ত্র, গাড়ি থেকে শুরু করে ব্যবসার নানা উপকরণ—সবকিছুর প্রতিই কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন হিসেবে দেখা হয় এই উৎসবকে। নির্মাণ, কারিগরি, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিকের কাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাছে তাই বিশ্বকর্মা পুজোর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

২০২৬ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পড়েছে এবারের বিশ্বকর্মা পুজো। কন্যা সংক্রান্তির সঙ্গে এই পুজোর যোগ রয়েছে। এই দিন বিশ্বকর্মার আরাধনার পাশাপাশি অর্থ, ব্যবসা এবং নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণ নিয়েও বেশ কিছু প্রচলিত আচার পালন করেন অনেকে। তার মধ্যে তিনটি টোটকা বিশেষভাবে প্রচলিত।

অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য কী করবেন এদিন?

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, আর্থিক সমৃদ্ধির জন্য একটি পরিষ্কার কলসিতে জল ভরে তার মধ্যে কয়েকটি রুপোর কয়েন রাখতে পারেন। বিশ্বকর্মার মূর্তি বা ছবির সামনে সেটি রেখে লাল কাপড় দিয়ে ঢেকে দড়ি দিয়ে বেঁধে দেওয়ার রীতি রয়েছে। বাড়ির পূর্ব দিকে এই কলসি রাখাকে শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস, এতে ইতিবাচক শক্তির সঙ্গে আর্থিক অগ্রগতির যোগ তৈরি হয়।

ব্যবসার বাধা কাটাতে টোটকা

ব্যবসায় উন্নতির জন্য আরও একটি প্রচলিত আচার রয়েছে। লাল কাপড়ের উপর চারটি লবঙ্গ, চার টুকরো কর্পূর, চারটি রুপোর বা এক টাকার কয়েন এবং চার মুঠো চাল রাখতে হবে। সবকটি জিনিস কাপড়ে বেঁধে ছোট পুঁটলি তৈরি করে বিশ্বকর্মা পুজোর পর সেটি দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্যাশবাক্স কিংবা সিন্দুকে রাখার রীতি রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাসে, এই আচার ব্যবসার বাধা কাটিয়ে উন্নতির পথ মসৃণ করতে সাহায্য করে।

নিজের বাড়ি কেনা বা তৈরির ইচ্ছে?

নিজের বাড়ি কেনা বা তৈরির ইচ্ছা থাকলে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ধ্যান করে ‘ওঁ আধার শক্তয়ে নমঃ’ মন্ত্র জপ করার রীতি রয়েছে। এরপর ময়দা দিয়ে নিজের পছন্দের বাড়ির একটি ছোট প্রতিরূপ তৈরি করে পুজোর সময় বিশ্বকর্মার সামনে রাখার কথা বলা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, এই আচার বাড়ি কেনা বা নির্মাণের পথে বাধা দূর করার প্রার্থনা হিসেবে পালন করা হয়।

তবে এই তিনটি পদ্ধতিই মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও পারিবারিক রীতির অংশ। এগুলি পালন করলেই অর্থ বৃদ্ধি, ব্যবসায় সাফল্য বা বাড়ি পাওয়া নিশ্চিত—এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশ্বাস অনুযায়ী ভক্তি ও আচার পালনের মাধ্যমেই এগুলির গুরুত্ব নির্ধারিত হয়।

বিশ্বকর্মাকে হিন্দু ধর্মে দেবশিল্পী ও স্থপতি হিসেবে মানা হয়। তাই তাঁর পুজোয় যন্ত্রপাতি, মেশিন, গাড়ি এবং কাজের সরঞ্জামের আরাধনার রীতি তৈরি হয়েছে। জীবিকা নির্বাহে যে জিনিসগুলি প্রতিদিন সাহায্য করে, বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে সেগুলির প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান বহু মানুষ।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User