জঙ্গি যোগে অভিযুক্ত ব্রিটিশ সংস্থা মুসলিম এইডের উপর হাসিনা জমানার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন তারেক

হাসিনা সরকারের আপত্তির আরও একটি বড় কারণ ছিল সংস্থার ট্রাস্টি বোর্ডে একসময় চৌধুরী মঈনুদ্দীন নামে এক ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন, যিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার কারণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। ‌

Aug 26, 2026 - 16:11
0 0
জঙ্গি যোগে অভিযুক্ত ব্রিটিশ সংস্থা মুসলিম এইডের উপর হাসিনা জমানার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন তারেক

ব্রিটিশ ত্রাণ সহায়তাকারী সংস্থা মুসলিম এইড-ইউকে'কে (Muslim Aid-UK) ফের বাংলাদেশে কাজের সুযোগ করে দিল তারেক রহমানের সরকার। সরাসরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতর বিতর্কিত ওই প্রতিষ্ঠানটির উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সম্প্রতি। ‌ বাংলাদেশে যখন জঙ্গি তৎপরতা ফের মাথা ছাড়া দিচ্ছে তখন এমন বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে কাজের অনুমতি দেওয়া নিয়ে অনেকেই বিচলিত। গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং প্রশাসনিক কর্তাদের সিদ্ধান্ত খারিজ করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অফিসের এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও তৎপরতা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে সরকারের অন্দরে। কোন কোন মহলের ধারণা, চরম অর্থ সংকটে বিপর্যস্ত তারেক রহমানের সরকার রাষ্ট্রের নিরাপত্তার পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশে কাজের সুযোগ করে দিল। ওই সংস্থা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ত্রাণ সামগ্রী বিড়ির কাজ করবে।

ব্রিটিশ ওই সংস্থাটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে তহবিল তছরুপ, দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ বহুদিনের। অন্যদিকে, বাংলাদেশে সংস্থাটির কাজকর্ম নিয়ে মূলত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ এবং উগ্রবাদী কার্যকলাপে প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এই অভিযোগে বাংলাদেশের বিগত শেখ হাসিনা সরকার ব্রিটিশ সংস্থাটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওই সময় গোয়েন্দারা রিপোর্ট দিয়েছিল ব্রিটিশ সংস্থাটি শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিলি করছে তাই-ই নয়, তারা উগ্রবাদে উৎসাহ প্রদানে নানা ধরনের সহায়তা করছে।

হাসিনা সরকারের আপত্তির আরও একটি বড় কারণ ছিল সংস্থার ট্রাস্টি বোর্ডে একসময় চৌধুরী মঈনুদ্দীন নামে এক ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন, যিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার কারণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। ‌

বাংলাদেশের কক্সবাজারে ২০১২ সাল থেকে পড়শি দেশ মায়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হয়। অভিযোগ হল, মুসলিম এইড-ইউকে ওই সময় নথিপত্রহীন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাবার ও চিকিৎসার সুবিধা দিয়ে তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়। তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার তখন মুসলিম এইড ইউকে-সহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার উপর ত্রাণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সরকারের বক্তব্য ছিল, এই ধরনের সহায়তা অবৈধ অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করছে

এরপর ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট তীব্র হওয়ার পর তৎকালীন আওয়ামী লিগ সরকার মুসলিম এইড-ইউকের রোহিঙ্গা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময় অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, এই সংস্থার তহবিল কেবল মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্য খাতে বা প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের এনজিও সংক্রান্ত ব্যুরো ওই ব্রিটিশ সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথা জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এরপরই ওই সংস্থা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অফিসের দ্বারস্থ হয়। জানা গেছে পরিচালনা পর্ষদে কিছু পরিবর্তন সহ শর্তসাপেক্ষে ওই প্রতিষ্ঠানকে আবার বাংলাদেশে কাজ করার অনুমতি ফিরিয়ে দিয়েছে তারেক রহমানের অফিস।

তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেছিলেন সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর মহসিন সিদ্দিকী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিবন্ধন বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে তা পুনর্বহালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোকে নির্দেশ দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে জানিয়েছে। প্রসঙ্গত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে দারিদ্র দূরীকরণ এবং নানা ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তার জন্য ১৯৮৫ সালে ২৩টি ব্রিটিশ সংস্থা মিলে মুসলিম এইড গঠন করে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User