জন্ম ত্রিপুরায়, উত্তরপ্রদেশে কর্মরত! যোগীরাজ্যে দেড় কোটির পুরস্কার জুটবে কি? সংশয়ে অস্মিতা

কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে প্রথম সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন অস্মিতা দে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ সরকারের দেড় কোটি টাকার পুরস্কার পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল সংশয়। জানুন কেন।

Aug 06, 2026 - 12:43
0 0
জন্ম ত্রিপুরায়, উত্তরপ্রদেশে কর্মরত! যোগীরাজ্যে দেড় কোটির পুরস্কার জুটবে কি? সংশয়ে অস্মিতা

কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games) দেশের হয়ে জুডোতে প্রথম সোনা। গ্লাসগোর ম্যাটে ইতিহাস গড়েছেন অস্মিতা দে।

কিন্তু ঐতিহাসিক এই সাফল্যের পরই শুরু অপ্রত্যাশিত বিতর্ক। উত্তরপ্রদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী তিনি বিপুল আর্থিক পুরস্কারের যোগ্য কি না, তা নিয়ে উঠেছে বড়সড় প্রশ্ন। সবুজ সংকেত মিললে দেড় কোটি টাকার বিশাল অর্থরাশি পাবেন। কিন্তু আইনি জটিলতায় সেই প্রাপ্তি এখন বিশ বাঁও জলে।

রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে অবিশ্বাস্য কামব্যাক

গ্লাসগোয় মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগের ফাইনালে অস্মিতার প্রতিপক্ষ কানাডার হেইডি কোয়াচ। লড়াইয়ের শুরুতেই বেশ চাপে পড়ে যান ২৩ বছর বয়সি এই ভারতীয়। একটি 'ইউকো' হজমের পাশাপাশি জোটে পেনাল্টি। ম্যাচের রাশ পুরোপুরি চলে যায় কানাডিয়ান তারকার হাতে। তবে হাল ছাড়ার পাত্রী ছিলেন না ত্রিপুরার (Tripura) এই কন্যা। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখেন ম্যাটে। চার মিনিটের বাউটের ঠিক মাঝপথে দুরন্ত আগ্রাসনে স্কোর ১-১ করেন।

নির্ধারিত সময়ে তীব্র লড়াইয়ের পরেও আর কেউ পয়েন্ট পাননি। ফলে ম্যাচ গড়ায় 'গোল্ডেন স্কোর' বা সাডেন ডেথে। নিয়ম অনুযায়ী এই পর্বে যিনি প্রথম পয়েন্ট পান, তিনিই বিজয়ী। আর সেখানেই বাজিমাত। চূড়ান্ত স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে আরেকটি ইউকো আদায় করেন অস্মিতা। ভারতের ঝুলিতে আসে জুডোর প্রথম ঐতিহাসিক সোনা (Asmita Dey)।

পুরস্কার নিয়ে কেন সংশয়?

সাফল্যের এই আনন্দ কিছুটা ফিকে হয়ে গিয়েছে পুরস্কার-বিতর্কে। অস্মিতার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ত্রিপুরায়। তবে জুডোর ম্যাটে দীর্ঘকাল ধরে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh)। ২০২৩ সাল থেকে ইউপি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত তিনি।

সমস্যা পাকিয়েছে ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে যোগীরাজ্যের ক্রীড়া নিয়মে আনা একটি নির্দেশিকা। সেই নিয়ম অনুযায়ী, নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কী বলছে নতুন নিয়ম?

সরকারি নির্দেশিকার বক্তব্য একেবারে স্পষ্ট। রাজ্যের আর্থিক পুরস্কার পাওয়ার জন্য অ্যাথলিটদের তিনটি প্রধান শর্ত পূরণ করা জরুরি।

এক, আবশ্যিকভাবে তাঁকে উত্তরপ্রদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

দুই, রাজ্যের কোনও স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত দু'বছর পড়াশোনা করার রেকর্ড থাকা চাই।

তিন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।

অস্মিতার ক্ষেত্রে এই শর্তগুলো পূরণ করা বেশ কঠিন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেও জন্মসূত্রে তিনি সে রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা নন। ফলে আদৌ দেড় কোটি টাকা নগদ পুরস্কার পাবেন কি না, তা নিয়ে বিস্তর ঘনিয়েছে।

কী জানাচ্ছে ক্রীড়া দফতর?

পুরস্কারপ্রাপকদের এই তালিকা নিয়ে মঙ্গলবার মুখ খোলেন উত্তরপ্রদেশের ক্রীড়া অধিকর্তা আরপি সিং। তাঁর বক্তব্য, 'গ্লাসগোয় সিডব্লিউজি ২০২৬-এ (CWG 2026) অংশগ্রহণকারী এবং পদকজয়ীদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ আপাতত চলছে।'

টুর্নামেন্টের প্রথম থেকেই দুর্দান্ত লড়াই করেছেন এই তরুণী। পিছিয়ে পড়েও কানাডিয়ান প্রতিপক্ষকে হারানো তাঁর মানসিক দৃঢ়তারই চূড়ান্ত প্রমাণ। ঐতিহাসিক সাফল্যের পর দেশের এই তারকা জুডোকার (Judo) পুরস্কার জট কবে মেটে, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে গোটা ক্রীড়ামহল।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User