'টাকা দিন, নাহলে পদ ছাড়ুন!' চেক বাউন্স ইস্যুতে হুমায়ুন কবীরকে নোটিস ধরাল মহামেডান স্পোর্টিং

পর পর তিন বার চেক বাউন্স করার পরও দমে যাননি হুমায়ুন কবীর। ঘটনা জানাজানি হতেই ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তিনি পুনরায় আশ্বাস দেন এবং খুব শীঘ্রই বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার কথা জানান। কিন্তু সূত্রের খবর, চতুর্থবারের সেই মুখের আশ্বাসও কাজের কাজ কিছুই করতে পারেনি।

Aug 05, 2026 - 18:18
0 0
'টাকা দিন, নাহলে পদ ছাড়ুন!' চেক বাউন্স ইস্যুতে হুমায়ুন কবীরকে নোটিস ধরাল মহামেডান স্পোর্টিং

সম্প্রতি ময়দানের অতি পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব মহামেডান স্পোর্টিংয়ের (Mohamedan Sporting Club) সভাপতির কুর্সিতে বসেছিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, মহামেডানের সমস্ত আর্থিক সংকট দূর করে দেবেন তিনি। কিন্তু সমাধান হওয়া তো দূর অস্ত, উল্টে তাঁর দেওয়া চেক বাউন্স করার অভিযোগে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন খোদ সভাপতি। এবার সেই আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগে হুমায়ুন কবীরকে কড়া আইনি নোটিস পাঠাল মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিশ্রুত টাকা না মেটালে বিধায়কের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি জোড়া মামলা দায়ের করা হবে বলে সাফ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় তুঙ্গে উঠেছে কলকাতার ফুটবল ময়দানের পারদ।

প্রতিশ্রুতি দিয়ে সভাপতির আসন, তারপরই চেক বাউন্স!

বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মহামেডান ক্লাবের পরিচালন সমিতিতে বড় ধরনের রদবদল ঘটানো হয়েছিল। সেই নতুন পরিকাঠামোর অধীনেই ক্লাবের সর্বোচ্চ পদ অর্থাৎ সভাপতির আসনে বসানো হয় বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে। দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই তিনি মহাসমারোহে ঘোষণা করেছিলেন যে, ক্লাবের জমতে থাকা প্রায় ১৩ কোটি টাকার মাথার ওপর থাকা দেনা মেটাতে তিনি ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিকভাবে সাহায্য করবেন।

তবে সেই আশার আলো খুব দ্রুতই ফিকে হতে শুরু করে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আর্থিক সমস্যা মেটাতে ক্লাবের হাতে মোট দেড় কোটি টাকার একটি চেক তুলে দিয়েছিলেন নওদার এই বিধায়ক। কিন্তু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় সেই চেক এক বার বা দুই বার নয়, পর পর তিন-তিন বার বাউন্স করে!

চতুর্থবারের আশ্বাসও ব্যর্থ, তিতিবিরক্ত ক্লাব কর্তারা

পর পর তিন বার চেক বাউন্স করার পরও দমে যাননি হুমায়ুন কবীর। ঘটনা জানাজানি হতেই ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তিনি পুনরায় আশ্বাস দেন এবং খুব শীঘ্রই বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার কথা জানান। কিন্তু সূত্রের খবর, চতুর্থবারের সেই মুখের আশ্বাসও কাজের কাজ কিছুই করতে পারেনি। বিধায়কের এই ধরনের ধারাবাহিক দায়সারা মনোভাব ও মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে চরম বিরক্ত হয়ে পড়েন মহামেডান কর্তারা।

তাঁদের ক্ষোভের মূল কারণ হল, আর্থিক সংকট কাটানোর বার্তা দিয়েই ক্লাবের প্রথম সারির চেয়ারটি অধিকার করেছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু এখন বিপদের দিনে ক্লাবের ভাবমূর্তি যেভাবে নষ্ট হচ্ছে, তাতে কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন যে আর কোনো মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, এবার সরাসরি আইনি পথই বেছে নেওয়া হবে।

চরম হুঁশিয়ারি মহামেডান শিবিরের

হুমায়ুন কবীরকে পাঠানো ওই আইনি নোটিসের সারমর্ম অত্যন্ত স্পষ্ট ও কড়া। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, সভাপতির সই করা চেক থেকে কোনও অর্থ মেলেনি, যা আইনত চরম অপরাধ। এই ঘটনার পর মহামেডান ক্লাবের প্রতি তাঁর সদ্ব্যবহার ও আসল উদ্দেশ্য নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন কর্তারা। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির এই বিধায়কের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।

তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে আপাতত কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়ে তাঁকে শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নোটিস পাওয়ার পর থেকে ঠিক ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ করার শর্ত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত এই দিনগুলির মধ্যে যদি টাকা না মেটানো হয়, তবে বিধায়কের বিরুদ্ধে দেওয়ানি (Civil) এবং ফৌজদারি (Criminal) - দুই আইনি ধারাতেই বড় মামলা দায়ের করা হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে মহামেডান শিবির। এই নোটিস প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে কলকাতার ময়দানী রাজনীতিতে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User