তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, যোগ দেবেন ঋতব্রত শিবিরে?
জানা যায়, রদবদলের সময় চন্দ্রিমার নামে কিছু নেতার আপত্তি ছিল। বিশেষ করে বর্ষীয়ান বিধায়ক এবং সাংসদরা ঘনিষ্ঠ মহলে আপত্তি জানান। তাঁরা বলেন, যে নিজে ভোটে হেরে গিয়েছেন এবং যিনি রাজ্যের কোনও জেলার নেতার নাম বলতে পারবে না, তিনি কিভাবে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করবেন।
তৃণমূলের অন্দরে ডামাডোল থামার লক্ষণ নেই। রাজ্যে পালাবদলের পরে দলের অন্দরে বিদ্রোহের সুর শোনা যেতেই তৃণমূলের সব সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময় সাংসদদের একটা বড় টিম এনসিপিআই-তে যোগ দেয়। পাশাপাশি, বিধায়কদের একটা বড় অংশ আলাদা ব্লক তৈরি করে। তার পরেই কালীঘাটের এক বৈঠকের পরে তৃণমূলের সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর কথা ঘোষণা করা হয়। সেখানেই বলা হয় রাজ্য সভাপতি হচ্ছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। অসুস্থতার কারনে সুব্রত বক্সি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সেই সঙ্গে আরও কয়েকটি শাখা সংগঠনের পদাধিকারি বদল করা হয়।
জানা যায়, রদবদলের সময় চন্দ্রিমার নামে কিছু নেতার আপত্তি ছিল। বিশেষ করে বর্ষীয়ান বিধায়ক এবং সাংসদরা ঘনিষ্ঠ মহলে আপত্তি জানান। তাঁরা বলেন, যে নিজে ভোটে হেরে গিয়েছেন এবং যিনি রাজ্যের কোনও জেলার নেতার নাম বলতে পারবে না, তিনি কিভাবে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করবেন। সংগঠনে রদবদলের পর থেকেই চন্দ্রিমা প্রকশ্যে ছিলেন না বেশি। যদিও, শেষ একটি বৈঠকে তাঁকে দেখা যায়। এমন অবস্থায়, আজ জানা গেল চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে, তাঁর ছেলে যিনি কাউন্সিলর ছিলেন ঋতব্রত শিবিরের ডাকা বৈঠকে যোগ দেন। সেই সময় চন্দ্রিমা বলেন, তাঁকে বারণ করলেও তিনি কথা শোনেননি।
এই মুহুর্তে দলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেও, এখনও দল ছাড়ার প্রসঙ্গে তাঁর তরফে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছিলেন। এরপরেই, রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে এবার কি বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেবেন চন্দ্রিমাও?
ঠিক এখানেই জন্ম নিচ্ছে আরও অনেক প্রশ্ন। পদত্যাগ করে যে চিঠি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠিয়েছেন চন্দ্রিমা সেখা দ্বিতীয় প্যারাগ্রাফে রয়েছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। চন্দ্রিমা লিখেছেন তিনি দলের এবং অন্যান্য সংগঠনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সই করার ক্ষমতা ছেড়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি, তিনি আরও জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে যে অথরাইজ করা হয়েছিল সেই দায়িত্ব থেকেও তিনি অব্যাহতি নিচ্ছেন।
কিছুদিন আগেই দলের রাশ কার হাতে থাকবে সেই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় যুযুধান দুই শিবির। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক নির্বাচন এবং দলের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী (Authorised Signatories) কারা হবেন—তা নিয়ে গত কয়েক দিনে দুই শিবিরের তরফ থেকেই একাধিক দাবি ও পালটা দাবি জমা পড়েছে কমিশনের দফতরে। একদিকে দিল্লির ‘নির্বাচন সদন’-এ গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল নিজেদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার নথি জমা দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও দলের এই সমান্তরাল গোষ্ঠীর দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
এই আবহে চিঠি দিয়ে চন্দ্রিমার পদ ছাড়ার পাশপাশি, দলের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈটিক মহল।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)