ভোটের আগে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৫০ লক্ষ টাকার লেনদেন! দেবরাজ-কাণ্ডে আরও তথ্য পেল সিট
তদন্তকারীদের দাবি, বিপুল পরিমাণ কালো টাকার মাধ্যমে জমি কেনাবেচার তথ্যও সামনে এসেছে। বিশেষ করে বেনামী সম্পত্তি এবং অন্যের নামে জমি কেনার অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। এই কারণেই দেবরাজকে শুক্রবার রাতের জেরায় আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির উৎস নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হয়।
বিপুল আর্থিক লেনদেন, বেনামী সম্পত্তিতে কালো টাকা বিনিয়োগ এবং কম দামে অন্যের জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে (Debraj Chakraborty Arrest) ঘিরে তদন্ত আরও গভীর হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় ৩০ জনেরও বেশি জনপ্রতিনিধির ভূমিকা খতিয়ে দেখছে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)। এবার দেবরাজকে জেরা করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা বলে সূত্রের খবর।
শুক্রবার রাতে টানা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে দেবরাজ চক্রবর্তীকে (Debraj Chakraborty) জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিটের আধিকারিকরা। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত তাঁর বয়ানে অসঙ্গতি এবং আয়ের প্রকৃত উৎস খুঁজতেই এই দীর্ঘ জেরা চালানো হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ঘোষিত আয়ের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির পরিমাণের বিস্তর ফারাক রয়েছে।
এর আগে দেবরাজের বাড়ি এবং একাধিক ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস পেয়েছিল সিট। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে বিপুল অর্থ নেই। তবে গত মে মাসে, অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচনের আগে, অন্তত ৫০ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছিল বলে তথ্য মিলেছে। সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছিল এবং কোথায় গিয়েছে, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের দাবি, বিপুল পরিমাণ কালো টাকার মাধ্যমে জমি কেনাবেচার তথ্যও সামনে এসেছে। বিশেষ করে বেনামী সম্পত্তি এবং অন্যের নামে জমি কেনার অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। এই কারণেই দেবরাজকে শুক্রবার রাতের জেরায় আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির উৎস নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হয়।
এই মামলার তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে গত ১১ জুনের একটি ঘটনা। সেদিন বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দেবরাজ-ঘনিষ্ঠ এক কাউন্সিলরের অফিসের গোডাউনে হানা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে বস্তাভর্তি জমির নথি এবং একাধিক ডায়েরি উদ্ধার হয়েছিল বলে জানা যায়।
এবার সেই সমস্ত ডায়েরি এবং জমির নথি খতিয়ে দেখছে সিট। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই নথিগুলির মধ্যে জমি কেনাবেচা এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। বিশেষ করে কোনও জমি চাপ সৃষ্টি করে বা কম দামে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী মহলের মতে, এই মামলার মূল সূত্র এখন জমি ব্যবসা এবং আর্থিক নেটওয়ার্কের দিকে এগোচ্ছে। কোন কোন জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাও খুঁজে দেখছে সিট। ইতিমধ্যেই একাধিক কাউন্সিলর এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম তদন্তের আওতায় এসেছে। তাঁদের সঙ্গে দেবরাজের যোগাযোগ, আর্থিক সম্পর্ক এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত যোগসূত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে দেবরাজ চক্রবর্তীকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া তোলাবাজির তদন্ত এখন বৃহত্তর আর্থিক দুর্নীতি, জমি দখল এবং কালো টাকার সম্ভাব্য চক্রের দিকে মোড় নিচ্ছে। আগামী দিনে এই তদন্তে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)