'বেশি এগোলে হাত কেটে দেব!' সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে সংঘাত চরমে, মোদীকে হুঁশিয়ারি পাক-মন্ত্রীর

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই আন্তর্জাতিক চুক্তি ভারত একতরফাভাবে বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তিনি জানান, জল নিয়ে পাকিস্তানের এই লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক মহলেরও প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে।

Jun 30, 2026 - 10:22
0 0
'বেশি এগোলে হাত কেটে দেব!' সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে সংঘাত চরমে, মোদীকে হুঁশিয়ারি পাক-মন্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও পাকিস্তানের (India Pakistan Relation) মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Water Treaty) নিয়ে বহুদিনের বিবাদ এবার এক নজিরবিহীন মোড় নিল। কাশ্মীর ইস্যুতে দুই প্রতিবেশীর কূটনৈতিক ঠান্ডা লড়াই তো লেগেই থাকে, কিন্তু এবার সেই লড়াই নেমে এল সরাসরি জলের অধিকার নিয়ে। পাকিস্তানের জলভাগ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্ট মহলের ‘হাত কেটে ফেলা হবে,’ ভারতকে কার্যত এই ভাষাতেই চরম হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক।

২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় (Pahalgam Terror Attack) ২৬ জনের মৃত্যু হয়। নয়াদিল্লির স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, এই হামলার পিছনে রয়েছে পাকিস্তান-ভিত্তিক মদদপুষ্ট জঙ্গিরা। এর প্রতিক্রিয়ায় মোদী সরকার ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু জলচুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা ‘অচল’ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের সাফ কথা, এক হাতে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাস ছড়ানো আর অন্য হাতে বন্ধুত্বের খাতিরে জলচুক্তির সুবিধা নেওয়া একসঙ্গে চলতে পারে না। ভারতের এই অনড় অবস্থানের পর থেকেই ইসলামাবাদের রক্তচাপ বাড়তে শুরু করেছে।

সম্প্রতি তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারকে পাশে নিয়ে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে গর্জে ওঠেন পাকিস্তানের জলবায়ু মন্ত্রী মুসাদিক মালিক। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে মালিক বলেন, “প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী যেন একটা জলের কল নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি বলছেন, পাকিস্তানে এক ফোঁটা জলও যেতে দেবেন না। কিন্তু আমরাও স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, যারা আমাদের জলের ভাগে হাত দিতে আসবে, আমরা তাদের হাত কেটে দেব।”

এদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, এই আন্তর্জাতিক চুক্তি ভারত একতরফাভাবে বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তিনি জানান, জল নিয়ে পাকিস্তানের এই লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক মহলেরও প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরও এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “জল আমাদের লাইফলাইন এবং এটাই আমাদের শেষ সীমারেখা (রেড লাইন)।” এমনকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফও হুমকি দিয়ে রেখেছেন যে, জলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে পাকিস্তানের সামনে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা ছাড়া আর কোনও পথ থাকবে না।

পাল্টা জবাবে ভারত অবশ্য তার অবস্থানে অনড়। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশনে ভারতের প্রতিনিধি অনুপমা সিং পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় বিঁধে বলেন, “১৯৬০ সালে সই হওয়া একটি চুক্তিকে চিরস্থায়ী অধিকার বলে গণ্য করা যায় না। সময়ের সাথে বাস্তব পরিস্থিতি বদলেছে।” ভারতের স্পষ্ট বার্তা, পাকিস্তান আগে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সামলাক এবং সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া বন্ধ করুক, তারপর যেন সহযোগিতার আশা রাখে। সব মিলিয়ে, সিন্ধু নদের জল নিয়ে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের এই বাগযুদ্ধ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিকে তপ্ত করে তুলেছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User