‘মা সবার, এটা আলাদা করে জানানোর প্রয়োজন নেই’, নৈহাটির বড়মা-র স্লোগান বদলের যুক্তি দিল মন্দির কমিটি

ধর্ম যার যার, বড়মা সবার’-এর বদলে নৈহাটি বড়মা মন্দিরে লেখা হয়েছে ‘বড় মায়ে ভক্তি, সনাতনের শক্তি’। কেন বদলানো হল পুরোনো স্লোগান? যুক্তি জানাল মন্দির কমিটি।

Nov 06, 2026 - 10:49
‘মা সবার, এটা আলাদা করে জানানোর প্রয়োজন নেই’, নৈহাটির বড়মা-র স্লোগান বদলের যুক্তি দিল মন্দির কমিটি

নৈহাটির বিখ্যাত ‘বড়মা’র মন্দির (Naihati Baroma Temple ) চত্বরে বহু বছর ধরে খোদাই করা যে চিরপরিচিত বাণী মানুষের মুখে মুখে ফিরত, রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই তাতে এল বড়সড় পরিবর্তন। এতদিন মন্দিরে বড় বড় অক্ষরে লেখা থাকত “ধর্ম যার যার, বড়মা সবার”—যা এত দিন অগণিত ভক্তের কাছে এক অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা বহন করত। তবে সেই পুরোনো ট্যাগলাইন বা স্লোগান পরিবর্তন করে বর্তমানে নতুন লাইন লেখা হয়েছে—“বড় মায়ে ভক্তি, সনাতনের শক্তি।” কালীপুজোর প্রাক্কালে বড়মার এই স্লোগান বদল ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ও ভক্তমহলে শুরু হয়েছে চর্চা।

মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে এককভাবে নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বহু ভক্ত এবং একাধিক হিন্দু সংগঠনের পক্ষ থেকে পুরোনো ক্যাচলাইনটি পরিবর্তনের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছিল। মন্দির কমিটির সদস্য অর্ণব রায় (যিনি হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নৈহাটির সদস্য হিসেবেও পরিচিত) জানিয়েছেন, “মা সবার—এই কথাটি আলাদা করে সর্বত্র জানানোর প্রয়োজন নেই। মসজিদ বা গির্জার মতো জায়গায় তো এমন কথা লেখা থাকে না। সনাতনী ধারণা ও চেতনাকে জাগ্রত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।” মন্দির কমিটির অন্য কর্তারাও সুর মিলিয়ে জানিয়েছেন যে, ভক্তদের দীর্ঘদিনের আবেগ ও সনাতনী ভাবনার মর্যাদাকে রক্ষা করতেই সর্বসম্মতভাবে এই নতুন স্লোগানটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এই স্লোগান বদলের নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগ থাকার কথা জোরালোভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এর সঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের কোনো সম্পর্ক নেই। নৈহাটিবাসী ও সনাতনীরা দীর্ঘদিন ধরে চেয়েছিলেন যে বড়মার মন্দিরে যেন সনাতনী ভাবনার প্রতিফলন ঘটে। সেই জনমতকে সম্মান জানিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেখানে কোনো তোষণের রাজনীতির স্থান নেই।

বড়মার এই নতুন স্লোগান প্রকাশ্যে আসার পর ভক্তদের মধ্যে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক মহিলা ভক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আগে যেখানে ভিড়ের কারণে মন্দিরে এক সেকেন্ডও দাঁড়ানো যেত না, সেখানে এখন অনেকক্ষণ ধরে শান্তিতে পুজো দেওয়া যাচ্ছে। সনাতনের শক্তি কতটা তা হয়তো এখনই বলা সম্ভব নয়, তবে পুজো দিয়ে তাঁর মন ভরে গেছে বলে জানান তিনি।

তবে এর বিপরীতে অন্য এক অংশের ভক্তরা কিছুটা নস্টালজিক। তাঁদের মতে, নামটাই যখন ‘বড়মা’, তখন তিনি সকলের—এই সার্বজনীন অনুভূতিটুকুই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল। তাঁদের একাংশের অভিমত, পুরোনো সেই চেনা লাইনটিই বড়মার মহিমার সঙ্গে বেশি মানানসই ছিল। সব মিলিয়ে, নৈহাটির বড়মা মন্দির চত্বরের এই নতুন বার্তা ও স্লোগান এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0