রান্নার গ্যাস সংযোগের ই-কেওয়াইসির সময়সীমা বাড়ল
প্রসঙ্গত, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা না থাকলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে বাজারদরে সিলিন্ডার কিনতে হবে। যা এখনকার ভর্তুকির ১৪.২ কেজির দামের (কলকাতায় ৯৬৮ টাকা) চেয়ে বেশি হবে বলেই খবর।
গৃহস্থ (domestic) গ্রাহকদের রান্নার গ্যাসের (এলপিজি, lpg) ইকেওয়াইসি (eKYC) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার সময়সীমা ফের বাড়াল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। সর্বশেষ সময়সীমা ছিল রবিবার, ২৩ অগস্ট। তার আগে তেল সংস্থাগুলি তাদের গ্রাহকদের জানিয়েছিল, ১৬ অগস্টের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। এবারে ফের গ্রাহকদের আরও কিছুদিন সময় দিচ্ছে তারা।
ইন্ডেন-এর বণ্টনকারীদের (distributor) সংগঠনের মুখপাত্র বিজনবিহারী বিশ্বাস জানান, তেল সংস্থাগুলি বণ্টনকারীদের ওই নির্দেশ পাঠিয়েছে। গ্রাহকদের স্বার্থে তাঁরাও সংস্থাগুলির কাছে সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছিলেন।
ইন্ডেন সূত্রের খবর, এখনও তাদের ১০% - এরও বেশি গৃহস্থ গ্রাহকের ওই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা বাকি।
প্রসঙ্গত, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা না থাকলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে বাজারদরে সিলিন্ডার কিনতে হবে। যা এখনকার ভর্তুকির ১৪.২ কেজির দামের (কলকাতায় ৯৬৮ টাকা) চেয়ে বেশি হবে বলেই খবর।
তবে বিভিন্ন সূত্রের জল্পনা, সেই দাম কতটা বাড়বে বা সিলিন্ডারের দাম কত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতেই দেশের দুই রাজ্যে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে এখনই বেশি দামের সিলিন্ডার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে কিনা, কেন্দ্রীয় সরকার ও শাসক দলের একাংশের মধ্যে তা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। তাই বিষয়টি খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছেও গিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থারই বহু গ্রাহক সময়সীমা শেষের দিকে হয় অ্যাপের মাধ্যমে বা এলপিজি বণ্টনকারীর দোকানে এটি সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করায় সিস্টেমে চাপ বাড়ে। পাশাপাশি বহু গ্রাহক অন্যের নামে থাকা এলপিজি সংযোগ এত দিন পর নিজের নামে বদলের জন্য আবেদন জানানোয় বাড়তি চাপ তৈরি হয়। অনেকে নিজের নামেই থাকা আগের কোনও সংযোগ ছেড়ে দিলেও এখনও তাঁর আধার সেটির সঙ্গে যুক্ত দেখাচ্ছে। ফলে টেক সংস্থা থেকে প্রযুক্তিগতভাবে তা আধার - মুক্ত না করায় তাঁরা বর্তমানে তাঁদের নতুন সংযোগের সঙ্গে আধার দিয়ে ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারছেন না। এক্ষেত্রে ইন্ডেনের মতো সংস্থার কর্তারা অবশ্য সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। তবে এ সবের মধ্যেও বহু গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে।
কম দামে গৃহস্থের জন্য বরাদ্দ রান্নার গ্যাস সঠিক গৃহস্থ গ্রাহকই যাতে পান, সে জন্য আধার ভিত্তিক ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নিয়মটি কিন্তু চালু হয়েছিল বছর তিনেক আগেই। সেই সময়ই অনেকে তা সেরে ফেললেও বাকিরা কাজটি ফেলেই রেখেছিলেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলের। এরপর বার কয়েক সময়সীমা বাড়ানো হয়। যদিও কখনওই তা সরাসরি গ্রাহকদের জানায়নি তেল সংস্থাগুলি। তাঁরা সিলিন্ডার বণ্টনকারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিত। সরাসরি না জানানোয় অনেক গ্রাহকই বিষয়টি অত গুরুত্ব দেননি। যা তেল সংস্থা বা কেন্দ্রের আগেই স্পষ্ট করা উচিত ছিল বলে মনে করেন গ্রাহকদের একাংশ।
তেল সংস্থাগুলির দাবি, গৃহস্থের জন্য বাজার দরের চেয়ে কম দামে রান্নার গ্যাস দেওয়া হয়। সেটি যাতে ঘরেই ব্যবহৃত হয়, হোটেল বা রেস্তোরাঁ, যেখানে বাজারদরের বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ব্যবহার করা কথা, সেখানে হস্তান্তর করা না হয় বা ভুয়ো গ্রাহক চিহ্নিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তা ছাড়া যাঁরা অন্যের নামে থাকা সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন, তাঁদেরও চিহ্নিত করা সহজ হবে যদি না তাঁরা আইনি পথে নিয়ম মেনে সেটি নিজেদের নামে বদলে না নেন। একটি তেল সংস্থার রাজ্যের কর্তা জানান, অন্যের নামে থাকা এলপিজি সংযোগের সিলিন্ডার ব্যবহার করা বেআইনি। তাছাড়া কোনও কারণে সিলিন্ডার থেকে দুর্ঘটনা ঘটলে গ্রাহকের নামে যে বিমার সুবিধা রয়েছে, তা তিনি পাবেন। কিন্তু সিলিন্ডারের সংযোগ অন্যের নামে থাকলে তা মিলবে না।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)