রাম মন্দির ট্রাস্টে চম্পত রাই তাদের প্রতিনিধি ছিলেন না, দাবি ভিএইচপি'র, সঙ্ঘের নিশানায় কি মোদী
প্রসঙ্গত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সাধু-সন্তদের সংগঠন ভিএইচপি গত শতকের আটের দশকের গোড়ায় অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির তৈরির আন্দোলন শুরু করেছিল। পরে সেই আন্দোলনে বিজেপি সহ সঙ্ঘ পরিবারের সব সংগঠন যোগদান করে।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অযোধ্যার রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) চুরির ঘটনায় সেখানকার ট্রাস্টের ভূমিকা নিয়ে আগেই অভিযোগ উঠেছে। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক তথা বিশ্বহিন্দু পরিষদের সহ-সভাপতি চম্পত রাই (Champat Rai ) পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর বিশেষ তদন্তকারী দল তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
অন্যদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে ওই ট্রাস্টে চম্পত রাই তাঁদের প্রতিনিধি ছিলেন না। ভিএইচপি 'র আন্তর্জাতিক সভাপতি অলোক কুমার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তের পর তাঁরা মনে করেন রাম মন্দিরের চুরির ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না চম্পত রাই। তাঁর গাফিলতি ছিল বলে মনে করেন অলোক কুমার। তিনি বলেন, তারা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, চম্পত রাই বিশ্বহিন্দু পরিষদের সহ-সভাপতি। তাহলে তাঁকে রাম মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক কারা করেছিল? অলোক কুমার বলেছেন, রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রকাশের পর থেকেই ভিএইচপি'র কর্তব্য শেষ হয়ে গিয়েছিল। মন্দির নির্মাণের সঙ্গে তাঁরা সংগঠনগতভাবে যুক্ত ছিলেন না। শীর্ষ আদালতের রায় ঘোষণার পর একই কথা বলেছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবতও। রাম মন্দির আন্দোলনের মতো আর কোনও এই জাতীয় লড়াই সংগ্রামে তারা যোগ দেবেন না বলেও ঘোষণা করেছিলেন ভাগবত। তবে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের শিলান্যাস এবং উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশেই ছিলেন সঙ্ঘ প্রধান।
প্রসঙ্গত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সাধু-সন্তদের সংগঠন ভিএইচপি গত শতকের আটের দশকের গোড়ায় অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির তৈরির আন্দোলন শুরু করেছিল। পরে সেই আন্দোলনে বিজেপি সহ সঙ্ঘ পরিবারের সব সংগঠন যোগদান করে।
সেই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে আইনি লড়াইয়ে। ২০১৯ এর নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বিতর্কিত জমি রাম মন্দির নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করার পাশাপাশি মন্দির তৈরির জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের কথা বলে। ট্রাস্ট তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারকে। মোদী সরকার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সহকর্মী তথা বিশ্বস্ত ব্যক্তি নৃপেন্দ্র মিশ্রকে। কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে ট্রাস্ট সদস্যদের নাম ঘোষণা করে। তাতে দেখা যায় বিশ্বহিন্দু পরিষদের সহ-সভাপতি চম্পত রাইকে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যদিও অযোধ্যার রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র নির্মাণের জন্য পৃথক একটি ট্রাস্ট দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কাজ করছিল। সেই ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে মন্দির নির্মাণের জন্য ইট পাথর এবং অন্যান্য সামগ্রী অযোধ্যার কর সেবক পূরণে জড় করা হয়েছিল। ট্রাস্টের বাকি সদস্যরাও কেন্দ্রীয় সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলে একাধিক সুত্রের খবর। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, চম্পত রাই ট্রাস্টে তাদের প্রতিনিধি ছিলেন না বলে ভিএইচপি'র সভাপতি অলোক কুমারের মন্তব্য চলতি পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর অফিসকেই ইঙ্গিত করার শামিল।
চম্পত রাই অযোধ্যায় রাম মন্দিরের দানপাত্রের অর্থ-অলংকার আত্মসাতের দায় এড়াতে পারেন না এবং তাঁর গাফিলতি ছিল বলে বিশ্বহিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সভাপতি অলোক কুমার প্রকাশ্যে মন্তব্য করার পর জল্পনা শুরু হয়েছে যে সহ-সভাপতি থেকে রাইকে এরপর সরিয়ে দেওয়া হবে কিনা। অলোক কুমারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল গাফিলতিও এক ধরনের ফৌজদারী অপরাধ। তাঁরা কি চম্পত রাইয়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চান?
জবাবে অলোক কুমার বলেছেন, বিশেষ তদন্তকারী দলের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার পর এই বিষয়টি স্পষ্ট করা সম্ভব হবে। তাঁর কথায়, আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশাসনই যা করার করবে। এর আগে উত্তর প্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সরকারের তরফেও নানাভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয় মন্দির নির্মাণ এবং পরিচালনায় রাজ্য সরকারের কোন ভূমিকা নেই।
এইসব প্রতিক্রিয়া থেকে অনেকেই মনে করছেন রাম মন্দিরের ঘটনায় বিজেপি সহ সঙ্ঘ পরিবারের অন্দরে তোলপাড় চলছে। সাক্ষাৎকারে অলোক কুমার বলেছেন রাম মন্দিরের ঘটনা গোটা বিশ্বের হিন্দু সমাজকে আঘাত করেছে। এই ঘটনা খুবই অস্বস্তিদায়ক, বিব্রতকর। তারা চান প্রকৃত অপরাধীদের সাজা হোক।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)