'সব সরকারের উচিত শিক্ষার্থীদের কথা শোনা', রাঁচির ছাত্র আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন রাহুল গান্ধী

রাঁচির ছাত্র আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন রাহুল গান্ধী। শিক্ষার্থীদের দাবি শোনার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দিলেন তিনি।

Aug 07, 2026 - 10:26
0 0
'সব সরকারের উচিত শিক্ষার্থীদের কথা শোনা', রাঁচির ছাত্র আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন রাহুল গান্ধী

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রতিটি সরকারের উচিত শিক্ষার্থীদের কথা শোনা এবং বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। ঝাড়খণ্ডের জেএমএম (JMM)-কংগ্রেস জোট সরকারের অংশ হওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেস স্পষ্ট করেছে যে, শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান এবং তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দলটি লড়াই চালিয়ে যাবে।

সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ‘আস্ক মি এনিথিং’ (Ask Me Anything) সেশনে এক অনুরাগী রাহুল গান্ধীকে ঝাড়খণ্ডের এই ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন করার আহ্বান জানান। জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, “দেশে চলা ছাত্র আন্দোলনগুলো আসলে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে। কোটা ও দেরাদুনেও আমি এটি পরিষ্কার করে বলেছি, এবং এলাহাবাদেও বলব—আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে; এটি এখন অত্যধিক ব্যয়বহুল এবং নিপীড়নমূলক। কেন্দ্রীয় সরকার, ঝাড়খণ্ড সরকার কিংবা কংগ্রেসের সরকার—সব সরকারেরই উচিত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়া।”

অন্যদিকে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, ক্ষমতায় জোটসঙ্গী থাকুক কিংবা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, কংগ্রেস সর্বদা শিক্ষার্থীদের দাবির পাশেই থাকবে। এ বিষয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী এবং আমরা সবাই শিক্ষার্থীদের পক্ষে, তা সে ঝাড়খণ্ড, পাঞ্জাব বা দিল্লি—যেখানেই হোক না কেন। কোথাও ভুল হয়ে থাকলে কেন তা হলো, আমরা তা যাচাই করব।” এরই মধ্যে এআইসিসি (AICC)-র ঝাড়খণ্ড ইনচার্জ কে রাজু এবং রাজ্য নেতারা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে দেখা করে শিক্ষার্থীদের দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। রাজু জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা ও স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি মন্ত্রীপর্যায় কমিটি গঠন করায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। ভারতীয় যুব কংগ্রেস (IYC) এবং এনএসইউআই (NSUI)-ও এই আন্দোলনে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-র পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’-এর ব্যানারে গত ২৫ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে এই প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়, যা ইতিমধ্যে ১৩ দিনে পদার্পণ করেছে। বর্তমানে ৬ জন আন্দোলনকারী অনশন ধর্মঘটে রয়েছেন। সংকট নিরসনে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য আন্দোলনকারীরা একটি ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল গঠন করেছেন।

শিক্ষার্থীরা মূলত ১৪তম ঝাড়খণ্ড পিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিল করা এবং সিবিআই (CBI) অথবা রাজ্যের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারকদের দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থাগুলো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। সরকার কেবল তদন্ত নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User