‘হোমিওপ্যাথির একটা ডোজেই কাজ করেছে...’ এসআরসিসি-র মঞ্চে ‘দিমাগি নকশাল’দের নিয়ে কটাক্ষ মোদীর
SRCC-র শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। GDP বৃদ্ধির হার নিয়েও জবাব দিলেন তিনি।
স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার অলিন্দ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচ্চারিত ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি নিয়ে রাজনীতির ময়দানে শোরগোল কম হয়নি। শনিবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্সের (SRCC) শতবার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে সেই প্রসঙ্গের পুনরাবৃত্তি করে বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী। নাম না করে তিনি জানান, লালকেল্লার ভাষণ থেকে তাঁর দেওয়া সেই মন্তব্যটি মূলত একটি ‘হোমিওপ্যাথি ওষুধ’-এর মতো কাজ করেছে। যার প্রভাবে আত্মগোপন করে থাকা আসল ‘দিমাগি নকশাল’ এবং তাঁদের মদতদাতাদের মুখোশ খসে আসল রূপ জনসমক্ষে চলে এসেছে।
গত ১৫ অগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছিলেন যে, দেশে সশস্ত্র মাওবাদ বা নকশালবাদ প্রায় শেষ হয়ে এলেও ‘দিমাগি নকশাল’ বা উগ্র মানসিকতার কিছু মানুষ ভারতের অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সেই মন্তব্যের জের টেনে এসআরসিসি-র অনুষ্ঠানে মোদী বলেন, “যেই আমি ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে একটা হোমিওপ্যাথির গুলি বা ডোজ় দিলাম, অমনি তারা একে একে নিজেদের গর্ত থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে শুরু করল। শুধু তাই নয়, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই মানসিকতার ব্যাধিকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছিল, দেশের জনগণ এখন তাদেরও আসল চেহারাটা চিনে নিতে পেরেছে।”
সম্প্রতি ঘোষিত এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে দেশের ৭.৮ শতাংশ জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার কড়া জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, ৭.৮ শতাংশের এই বিকাশ দেশের আত্মবিশ্বাসকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। যাঁদের আমলে ভারত একসময় ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ (Fragile Five)-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য কুখ্যাত হয়েছিল, স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের পক্ষে দেশের এমন সাফল্য মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চরম অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতীয় অর্থনীতির এই অভাবনীয় ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
২০১৩ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই একই কলেজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘অর্ধেক ভরা গ্লাস’-এর একটি বিশেষ উপমা তুলে ধরেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফের সেই উপমার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে কিছু মানুষ গ্লাসটিকে অর্ধেক খালি বলতেন, অনেকে আবার বলতেন অর্ধেক ভর্তি। কিন্তু তাঁর মতে গ্লাসটি সবসময়ই সম্পূর্ণ পূর্ণ— যার এক অর্ধাংশে থাকে জল এবং বাকি অর্ধাংশে বাতাস। ২০১৩ সালে যাঁরা গ্লাসটিকে অর্ধেক খালি দেখেছিলেন, তাঁরা আজ আজও একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশকে দেখে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, “তাঁদের কাছে গ্লাসটি সবসময়ই অর্ধেক খালি থেকে যাবে। তবে আমি শুধুমাত্র গ্লাসটির কথাই বলছি, অন্য কোনও কিছু খালি থাকার কথা বলছি না।”
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)