১০ বাসিন্দার নিঝুম গ্রামে প্রকৃতির বিরল কারসাজি! যেখানে একদিনেই দু’বার নামবে ‘রূপকথার রাত’
স্পেনের মাত্র ১০ জন বাসিন্দার গ্রাম আভেলিয়ানোসা দে মুিনোতে ১২ আগস্ট দেখা যাবে বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, 'ডাবল ডার্কনেস' এবং পারসেইড উল্কাবৃষ্টি। জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের নজর এখন এই ছোট্ট গ্রামে।
মাত্র ১০ জন স্থায়ী বাসিন্দার এক নিঝুম গ্রাম, যেখানে বছরের অধিকাংশ সময় কাটে নীরবতায়। অথচ সেই গ্রামই এখন ইউরোপের কোটি মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু! প্রকৃতির এক বিরল নকশায় একই রাতে জোড়া মহাজাগতিক বিস্ময়ের সাক্ষী হতে চলেছে স্পেনের এই ছোট্ট জনপদ, যা প্রত্যক্ষ করতে জড়ো হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর স্পেনের বুর্গোস প্রদেশের ‘আভেলিয়ানোসা দে মুিনো’ (Avellanosa de Muno) নামের গ্রামটি এবার এক ঐতিহাসিক ঘটনার মুখোমুখি। আগামী ১২ আগস্ট সূর্যগ্রহণের পূর্ণগ্রাস পথ বা ‘পাথ অব টোটালিটি’র একদম কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এই গ্রামটি। ১৯১২ সালের পর এই প্রথম স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে এবং ১৯৯৯ সালের পর সমগ্র ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে কোনও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। ফলে কয়েক দশকের মধ্যে ইউরোপের সবচেয়ে বড় জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক ঘটনা হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে।
তবে এই ঘটনাকে যা সবচেয়ে বেশি অনন্য করে তুলেছে, তা হলো এর সময়। সূর্যগ্রহণটি ঘটবে ঠিক সূর্যাস্তের কিছু আগে, যার ফলে দর্শনার্থীরা প্রত্যক্ষ করবেন এক বিরল ‘দ্বিগুণ অন্ধকার’ বা ‘ডাবল ডার্কনেস’। প্রথমে চাঁদ যখন সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে দেবে, তখন কয়েক মুহূর্তের জন্য দিনের আলো পুরোপুরি উধাও হয়ে যাবে। এর কিছু পরেই আবার আলো ফিরে আসবে এবং কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক সূর্যাস্তের মাধ্যমে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ঘনিয়ে আসবে রাতের অন্ধকার। আর সেই একই রাতে আকাশে ডানা মেলবে বিখ্যাত ‘পারসেইড’ (Perseid) উল্কাবৃষ্টি, যা এক অদ্ভুত ও মায়াবী পরিবেশ তৈরি করবে।
কোনও বড় হোটেল, রেস্তোরাঁ কিংবা পর্যটন পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও মহাকাশপ্রেমীদের কাছে এই গ্রামটি পছন্দের শীর্ষে। গমক্ষেত ও পাহাড়ঘেরা খোলা আকাশ এবং কোনও কৃত্রিম আলোর দূষণ না থাকায় এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য একদম নিখুঁত। এমনকি আশেপাশের সমস্ত হোটেল বছরের পর বছর ধরে বুক হয়ে গেছে। যেমন নিকটবর্তী ঐতিহাসিক হোটেল 'প্যারাডোর দে লেরমা' (Parador de Lerma) ২০২২ সাল থেকেই সম্পূর্ণ বুকড হয়ে রয়েছে।
পর্যটন কর্মকর্তাদের মতে, জাঁকজমকপূর্ণ ভিড় এড়িয়ে পরিষ্কার আকাশ পাওয়ার জন্যই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বেছে নিয়েছেন এই অপরিচিত গ্রামটিকে। বহু বছর আগে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়া পুরোনো বাসিন্দারাও ঐতিহাসিক এই রাতের সাক্ষী হতে ফের ঘরে ফিরছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সারা আলভারেজ রদ্রিগেজ পর্যটকদের জন্য একটি বিশেষ পরামর্শও দিয়েছেন—গ্রামের কাছের গুহাটির ওপরে উঠলে আশপাশের পুরো প্রান্তরজুড়ে এক মনোরম ও অনাবিল দৃশ্যের সাক্ষী হওয়া যাবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)