অবসর ভেঙে ১১ বছর পর মাঠে ফিরছেন রোনাল্ডিনহো! সই করলেন ইতালির এই ক্লাবে
অবসর ভেঙে ১১ বছর পর মাঠে ফিরছেন রোনাল্ডিনহো। ইতালির তৃতীয় ডিভিশনের ক্লাব রাভেনার মালিকানার পাশাপাশি খেলোয়াড় হিসেবেও সই করলেন ৪৬ বছরের কিংবদন্তি।
বয়স এখন ৪৬ বছর। পেশাদার ফুটবলকে পাকাপাকিভাবে বিদায় জানিয়েছেন পাক্কা ১১ বছর আগে। কিন্তু খিদে এখনও সম্পূর্ণ ফুরোয়নি!
আর তাই দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর ফের বুটজোড়া পায়ে গলাবেন রোনাল্ডিনহো (Ronaldinho)। ইতালির তৃতীয় ডিভিশনের ক্লাব রাভেনার হয়ে সই করতে চলেছেন এই কিংবদন্তি। ক্লাবের নতুন তারকা হিসেবে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
বিপুল উন্মাদনা ও মালিকানার চমক
কিংবদন্তির আগমন ঘিরে অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলের সৈকতে এক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে অন্তত ছয় হাজার সমর্থকের জমায়েত হওয়ার কথা। পুরোটাই হবে ব্রাজিলীয় তারকার চেনা স্টাইলে। তবে শুধু খেলোয়াড় হিসেবে নয়। এই চুক্তির নেপথ্যে রয়েছে আরও একটি বড় চমক। ইতালীয় ক্লাব রাভেনার (Ravenna FC) মালিকানা গোষ্ঠীর অন্যতম অংশীদার এখন ব্রাজিলের প্রাক্তন ব্যালন ডি'অর জয়ী।
এই মালিকানা গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন ইগনাজিও চিপ্রিয়ানি (Ignazio Cipriani)। তিনি ইতালির বিলাসবহুল হোটেল ব্যবসার অন্যতম কর্ণধার ও ভেনিসের বিখ্যাত হ্যারিস বারের প্রতিষ্ঠাতা জিউসেপ্পে চিপ্রিয়ানির নাতি। ফুটবল এবং ব্যবসার এই যুগলবন্দি ইতালীয় ফুটবলে (Italian Football) নতুন উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে। তৃতীয় ডিভিশনের একটি ক্লাবের পক্ষে এমন একজন মহাতারকাকে যুক্ত করা রীতিমতো অভাবনীয় ঘটনা।
আড়ালে বিপণন নাকি নিখাদ রোমান্স?
অনেকেই মনে করছেন, গোটা বিষয়টি আসলে একটি বড়সড় মার্কেটিং স্টান্ট। কিন্তু এই তত্ত্ব সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ চিপ্রিয়ানি। তিনি স্পষ্ট জানান, 'এটা কোনও লোকদেখানো বা বিপণন স্টান্ট নয়। রোনাল্ডিনহো রাভেনা এফসি-র একজন শেয়ারহোল্ডার হবেন। এটাই এই চুক্তির আসল বিষয়।'
মাঠে ফেরার আসল কারণ ব্যাখ্যা করে চিপ্রিয়ানি আরও যোগ করেন, 'তিনি শহর এবং তাঁর নতুন ক্লাবকে একটি অসাধারণ উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একটি আনুষ্ঠানিক পেশাদার ম্যাচে রাভেনার হয়ে মাঠে নামবেন। এর পেছনে একটি পরিষ্কার এবং রোমান্টিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তা হল, নিজের কেরিয়ারের চূড়ান্ত গোলটি করার চেষ্টা করা।'
ফিটনেস ও অতীত পরিসংখ্যান
চলতি সপ্তাহেই রেজিয়ানার বিরুদ্ধে মরসুমের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে রাভেনা (Serie C)। তবে সেই ম্যাচে তিনি আদৌ খেলবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। কোচ আন্দ্রেয়া ম্যান্ডোরলিনির প্রাক-মরসুম অনুশীলনে ব্রাজিলীয় মহাতারকা একেবারেই অংশ নেননি। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর ম্যাচ-ফিটনেস ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই।
২০১৫ সালে ফ্লুমিনেন্সের হয়ে শেষবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন রোনাল্ডিনহো। ইতালির ঘরোয়া ফুটবলে তাঁকে শেষবার দেখা গিয়েছিল ২০১০-১১ মরসুমে। সেবার এসি মিলানের হয়ে আড়াই বছর কাটানোর পর ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ফ্ল্যামেঙ্গোতে যোগ দেন। নিজের বর্নময় কেরিয়ারে পিএসজি, বার্সেলোনা, অ্যাটলেটিকো মিনেইরো এবং কোয়েরেতারোর মতো ক্লাবের হয়ে নেমে পায়ের জাদুতে একসময় গোটা বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন। বার্সেলোনার জার্সিতে তাঁর সেই অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন।
ব্রাজিলের জার্সিতে ৯৭টি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগর এই জাদুকর। এবার কেরিয়ারের গোধূলিবেলায় ইতালির মাটিতে তাঁর সেই কাঙ্ক্ষিত 'ফাইনাল গোল' দেখার অপেক্ষায় ফুটবলবিশ্ব।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)