‘ডাক্তারকাকু’-র সব লুক প্রকাশ্যে, প্রসেনজিৎ থেকে ঋদ্ধি, কার চরিত্রে কী চমক?
প্রকাশ্যে এল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘ডাক্তারকাকু’-র লুক ও গল্পের বিস্তারিত। চিকিৎসা পেশার নৈতিকতা, পারিবারিক সম্পর্ক ও কর্পোরেট জগতের টানাড়েন নিয়ে তৈরি এই মানবিক ড্রামা।
একজন চিকিৎসকের কাছে তাঁর পেশা শুধু জীবিকা নয়, মানুষের প্রতি আজীবন দায়বদ্ধতা। সেই বিশ্বাসকে নিজের জীবনের নিয়ম করে নিয়েছেন ডা. দিলীপ সাহা। রোগীর চিকিৎসা থেকে পরিবারের দায়িত্ব, প্রতিটি জায়গাতেই তিনি নির্ভরতার অন্য নাম। ক্লান্তি, ব্যস্ততা কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার কাছে কখনও নিজের কর্তব্যকে ছোট হতে দেননি তিনি। তাঁর কাছে চিকিৎসা মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা।
এই মানুষটির পরিবারেই বড় হয়ে ওঠে তাঁর ছেলে পুষ্কিন। তবে পুষ্কিনের বেড়ে ওঠার গল্পে আরও একটি সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। পোচা নামের এক কিশোরকে নিজের আশ্রয়ে নেন ডা. দিলীপ। সময়ের সঙ্গে পুষ্কিন ও পোচার সম্পর্ক রক্তের ভাইয়ের মতো হয়ে ওঠে। একই ছাদের নিচে বড় হওয়া, একই স্বপ্ন দেখা এবং শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলা দুই তরুণের জীবন যেন একই সুতোয় বাঁধা।
কিন্তু স্বপ্ন পূরণের পর বাস্তব জীবন সবসময় সহজ থাকে না। চিকিৎসক হিসেবে পেশাদার জগতে পা রাখার পর পুষ্কিন ও পোচার সামনে খুলে যায় এক নতুন পৃথিবী। সেখানে শুধু দক্ষতা বা পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং পেশাগত নীতির মধ্যেও তৈরি হয় টানাপোড়েন।
এরই মধ্যে পুষ্কিনের জীবনে আসে শীতল দামানি। প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় শীতলের সঙ্গে, যিনি আবার একটি বেসরকারি হাসপাতাল চেনের মালিক মিস্টার দামানির মেয়ে। এই সম্পর্ক পুষ্কিনের সামনে খুলে দেয় চিকিৎসাজগতের আরও বড় পরিসরে পৌঁছনোর সুযোগ। পোচাও সেই নতুন পেশাগত পরিসরের অংশ হয়ে ওঠে। প্রথমে যা ভবিষ্যতের সাফল্যের দরজা বলে মনে হয়, ধীরে ধীরে সেটিই তাদের সামনে নিয়ে আসে একাধিক কঠিন প্রশ্ন।
কোথায় ব্যক্তিগত সম্পর্কের দায় শেষ হচ্ছে, আর কোথা থেকে শুরু হচ্ছে একজন চিকিৎসকের পেশাগত দায়িত্ব? কৃতজ্ঞতা কি সবসময় উচ্চাকাঙ্ক্ষার কাছে জায়গা করে দেবে? নিজের ভবিষ্যৎ, প্রিয় মানুষ এবং বিবেকের মধ্যে যখন বেছে নেওয়ার সময় আসে, তখন কোন পথটি সত্যিই সঠিক?
এই প্রশ্নগুলিকেই কেন্দ্র করে এগোয় ‘ডাক্তারকাকু’। পরিবার, বন্ধুত্ব, প্রেম এবং চিকিৎসা পেশার নৈতিকতার মতো একাধিক স্তরকে একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি হয়েছে এই মানবিক গল্প। এখানে কোনও সিদ্ধান্তই একেবারে সাদা বা কালো নয়। একজনের নেওয়া একটি সিদ্ধান্তের প্রভাব পৌঁছে যেতে পারে আরও অনেক মানুষের জীবনে।
দিলীপ সাহার (Prosenjit Chatterjee) দায়িত্ববোধ, পুষ্কিন ও পচার (Riddhi Sen, Pavel)বন্ধুত্ব, শীতলের (Ena Saha) সঙ্গে পুষ্কিনের প্রেম এবং পেশাগত জীবনের নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে ‘ডাক্তারকাকু’ আসলে খোঁজে মানুষের সেই লড়াইয়ের, যেখানে সাফল্যের থেকেও বড় হয়ে ওঠে নিজের কাছে সৎ থাকার প্রশ্ন।
কারণ চিকিৎসা শুধু রোগ সারানোর পেশা নয়, কখনও কখনও সেটি মানুষের জীবন, সম্পর্ক এবং বিবেকের পরীক্ষাও। আর সেই পরীক্ষায় সঠিক উত্তর খুঁজে পাওয়া সবসময় সহজ হয় না। ‘ডাক্তারকাকু’ সেই কঠিন সিদ্ধান্তের গল্পই বলবে, যেখানে দায়িত্ব, সম্পর্ক, কৃতজ্ঞতা আর উচ্চাকাঙ্ক্ষার ভিড়ে শেষ পর্যন্ত মানুষকে নিজের বিবেকের কাছেই ফিরে যেতে হয়।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)