'ইন্ডি' জোটের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি! মোদী সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনের রূপরেখা
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা বিতর্কের মাঝেই বুধবার দিল্লিতে বৈঠকে বসলেন বিরোধী 'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোটের শীর্ষ নেতারা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে সংসদে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা এবং দেশজুড়ে যৌথ আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি এবং নির্বাচন কমিশনের (ECI) নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা বিতর্কের মাঝেই বুধবার দিল্লিতে বৈঠকে বসলেন বিরোধী 'ইন্ডি' (INDIA) জোটের শীর্ষ নেতারা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে সংসদে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা এবং দেশজুড়ে যৌথ আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য প্রধান শরিক দলের শীর্ষ নেতারা এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। সপা প্রধান অখিলেশ যাদব উত্তরপ্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে সমাজবাদী পার্টির দুই সাংসদ হরেন্দ্র মালিক ও মৌলানা মহিবুল্লাহ নদভিকে পাঠিয়েছেন।
এছাড়া বৈঠকে তেজস্বী যাদব (আরজেডি), ওমর আবদুল্লা (জেকেএনসি), মেহবুবা মুফতি (পিডিপি), হেমন্ত সোরেন (জেএমএম), উদ্ধব ঠাকরে (শিবসেনা-ইউবিটি), সুপ্রিয়া সুলে (এনসিপি-এসপি), এম এ বেবি (সিপিআইএম) এবং সাংসদ কপিল সিব্বল উপস্থিত ছিলেন।
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) সাম্প্রতিক প্রস্তাবের পরই এই বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়। খাড়্গে সুর চড়িয়ে অভিযোগ করেছেন যে, বিগত ১২ বছরে বিজেপি সরকার দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে এবং নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের 'পুতুল'-এ পরিণত করেছে।
বিরোধী জোট মূলত পাঁচটি প্রধান দাবি সামনে রেখে আন্দোলনে নামছে বলে সূত্রের খবর -
ভোটের তালিকার ডেটা প্রকাশ: ভোটার তালিকায় যাবতীয় সংযোজন ও ছাঁটাইয়ের ডেটা জনসমক্ষে আনতে হবে।
আপিলের সুযোগ: যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে আইনি পুনর্বিবেচনা বা আপিলের সুযোগ দিতে হবে।
সহজ ফর্ম্যাটে তালিকা: সমস্ত রাজনৈতিক দলকে সময়মতো এবং সহজ ফর্ম্যাটে সংশোধিত ভোটার তালিকা হস্তান্তর করতে হবে।
স্বাধীন তদন্ত: যে সব কেন্দ্রে বড় মাপের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি: কমিশনকে পুরোপুরি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কাজ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মনের আশঙ্কা দূর হয়।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ এক বাক্যে খারিজ করে দিয়েছে। কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো, মৃত বা ঠিকানা বদল করা ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা নির্ভুল করাই এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য। এটিকে সম্পূর্ণরূপে একটি আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই কাজ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তবে বিরোধীরা তাদের দাবিতে অনড় থেকে সংসদের ভিতরে ও বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াইয়ের সঙ্কেত দিয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)