ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, জেল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ পাক সুপ্রিম কোর্টের
দীর্ঘ তিন বছর জেলবন্দি থাকার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
দীর্ঘ তিন বছর ধরে জেলে বন্দি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানোর নির্দেশ দিল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার সেখানকার শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৭৩ বছরের ইমরানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলবে।
ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে চিকিৎসা দ্রুত প্রয়োজন। এর জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন করা হবে। সেই বোর্ডে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং তাঁর বোন ডক্টর আলিমা খানকে রাখার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতাল বদলের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সরকারের আপত্তি থাকলেও তা খারিজ করেছে শীর্ষ আদালত।
আদিয়ালা জেলে বন্দি ইমরানের চোখের সমস্যা নিয়েও সম্প্রতি একাধিক দাবি সামনে এসেছে। সোমবার জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, চিকিৎসার পর তাঁর দৃষ্টিশক্তির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। তবে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং তাঁর পরিবার সেই দাবিতে আস্থা রাখেনি। ছয় মাস আগে তাঁর আইনজীবী দাবি করেছিলেন, ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার।
আদালতে জমা দেওয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে অবশ্য অন্য ছবি উঠে এসেছে। সেখানে ইমরানের রক্তচাপের ওঠানামা, হৃদস্পন্দন এবং প্রবল মানসিক চাপের উল্লেখ রয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্টে তাঁর রক্তচাপ ছিল ১৪০/৮০ এবং পালস রেট ৫৪ বিট প্রতি মিনিট। ফেব্রুয়ারিতে রক্তচাপ ছিল ১২০/৮০।
ইমরানের সর্বশেষ মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি। তবে প্রাক্তন পাক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, আগামী তিন মাস ইমরানের শারীরিক অবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৩ সাল থেকে আদিয়ালা জেলে রয়েছেন ইমরান। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। বারবার ইমরানের দল অভিযোগ করেছে, পরিবার এবং দলের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও মিলছে না।
ইমরানের দল পরিচালিত খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি চিকিৎসায় তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের যুক্ত করার দাবি তুলেছেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভেও যোগ দেন তিনি। ইমরানকে দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে দেশজুড়ে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
আফ্রিদির দাবি, ইমরানের দীর্ঘ বন্দিদশা ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার দলের সকল সাংসদ জেলে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাক্ষাতের অনুমতি না মিললে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)