‘এটা কোনও দলের টাকা নয়, সরকারের টাকা’, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে স্পষ্ট কথা মুখ্যমন্ত্রীর

টলিউডের টেকনিশিয়ানদের মধ্যে ফের চর্চার কেন্দ্রে সদস্যপদ কার্ড। বহু বছর আগে যে কার্ড হাতে তুলে দিয়ে হাজার হাজার কলাকুশলীকে একটি সংগঠনের ছাতার তলায় আনার দাবি করা হয়েছিল, সেই কার্ডই আজ নতুন করে প্রশ্নের মুখে। কারণ, সূত্রের খবর, এবার আবার EIMPCC-এর নামে নতুন সদস্যপদ কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Jul 01, 2026 - 15:00
0 0
‘এটা কোনও দলের টাকা নয়, সরকারের টাকা’, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে স্পষ্ট কথা মুখ্যমন্ত্রীর

টলিউডের টেকনিশিয়ানদের মধ্যে ফের চর্চার কেন্দ্রে সদস্যপদ কার্ড। বহু বছর আগে যে কার্ড হাতে তুলে দিয়ে হাজার হাজার কলাকুশলীকে একটি সংগঠনের ছাতার তলায় আনার দাবি করা হয়েছিল, সেই কার্ডই আজ নতুন করে প্রশ্নের মুখে। কারণ, সূত্রের খবর, এবার আবার EIMPCC (Eastern India Motion Pictures & Cultural Confedaretion)-এর নামে নতুন সদস্যপদ কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর সেই কার্ড পেতে সদস্যদের দিতে হতে পারে ৭০০ টাকা। স্বাভাবিকভাবেই যাঁরা কয়েক বছর আগে টাকা দিয়ে সদস্যপদ নিয়েছিলেন, তাঁদের মনে একটাই প্রশ্ন, পুরনো কার্ডের মূল্য তাহলে কোথায়?

দ্য ওয়ালের হাতে এসেছে ২০১৯ সালে ইস্যু হওয়া Tollywood TV & Cine Makers (Technicians) Union (TTCMU)-এর একটি সদস্যপদ কার্ড। কার্ডে সদস্যের নাম, পেশা, সদস্য নম্বর, সদস্যপদের বছর এবং ঠিকানার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, সংগঠনটি EIMPCC Affiliated। কার্ডে একটি Government Registration Number-ও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি কোনও সরকারি পরিচয়পত্র নয়, একটি সংগঠনের সদস্যপদ কার্ড।

এই কার্ড সামনে আসতেই শুরু হয়েছে আরও বড় আলোচনা। কারণ, Ministry of Corporate Affairs (MCA)-এর প্রকাশ্য নথি অনুযায়ী Eastern India Motion Pictures & Cultural Confederation (EIMPCC) একটি Private Company Limited by Shares, যা Companies Act, 2013-এর অধীনে নিবন্ধিত। সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কার্যকলাপ। নথিতে আরও দেখা যায়, ৪ অগস্ট ২০২১ সালে সুমিত রায় পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। সংস্থাটি বর্তমানে সক্রিয় থাকলেও, MCA-র তথ্য অনুযায়ী বার্ষিক কিছু নথি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব রয়েছে।

এখানেই তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি। কারণ, Companies Act-এর অধীনে নিবন্ধিত কোনও Private Limited Company নিজে থেকেই আইনগতভাবে Trade Union হয়ে যায় না। ভারতে ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট শ্রম আইন অনুযায়ী পৃথক নিবন্ধন প্রয়োজন। তবে একটি Private Limited Company তার Memorandum of Association (MOA) এবং Articles of Association (AOA)-এর আওতায় নিজস্ব ক্লাব, অ্যাসোসিয়েশন বা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যপদ দিতে পারে। কিন্তু সেই সদস্যপদকে আইনগতভাবে Trade Union Membership বলা যাবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনটি ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে নিবন্ধিত কি না, তার উপর। ফলে শুধু একটি Membership Card হাতে থাকলেই সেটি আইনগত ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যপদ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

অন্যদিকে, TTCMU-র কার্ডে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে ‘Affiliated to EIMPCC’। অর্থাৎ TTCMU নিজেকে একটি ইউনিয়ন হিসেবে তুলে ধরছে এবং EIMPCC-কে affiliating body হিসেবে দেখাচ্ছে। কিন্তু MCA-র প্রকাশ্য নথি থেকে EIMPCC-কে Registered Trade Union হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এই দুই তথ্যের মধ্যে পার্থক্য নিয়েই এখন নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্রের দাবি, আজ থেকে প্রায় আট বছর আগে TTCMU-র সদস্য সংগ্রহ শুরু হয়। প্রথমদিকে সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া হত প্রায় ১২০০ টাকা, পরে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ১৫০০ টাকা। ২০১৯ সালের দিকে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার টেকনিশিয়ানের হাতে এই কার্ড পৌঁছেছিল বলেও দাবি সূত্রের।

কিন্তু এত বছর পর আবার নতুন করে EIMPCC-র কার্ডের জন্য ৭০০ টাকা নেওয়ার প্রস্তুতির খবর সামনে আসতেই প্রশ্নের ঝড় উঠেছে। সূত্রের আরও দাবি, নতুন কার্ড করতে গেলে TTCMU অথবা ফেডারেশনের (Federation of Cine Technicians and Workers of Eastern India) কার্ডের জেরক্সও জমা দিতে বলা হচ্ছে।

সেখান থেকেই একের পর এক প্রশ্ন উঠে আসছে। যদি TTCMU-র সদস্যপদ কার্ড থেকেই EIMPCC-র affiliation দেখানো হয়ে থাকে, তাহলে আবার আলাদা করে EIMPCC-র কার্ড কেন? ২০১৯ সালে যে হাজার হাজার সদস্য ১৫০০ টাকা করে দিয়েছিলেন, সেই অর্থের হিসাব কী? পুরনো সদস্যপদের বর্তমান অবস্থান কী? আর যদি নতুন কার্ডই প্রয়োজন হয়, তাহলে আগের কার্ডের কার্যকারিতা কোথায়?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টেকনিশিয়ানের দাবি, যে কার্ড একসময় তৈরি করা হয়েছিল, তা কার্যত কোনওদিনই কাজে লাগেনি। তাঁর কথায়, কার্ডে তৎকালীন সভাপতি হিসেবে যাঁর নাম ছিল, তিনি বিজেপির নেতা হওয়ায় সংগঠনটি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।

এরই মধ্যে শিল্পীমহলের একাংশ প্রশাসনের কাছে একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, কারা এই ধরনের সদস্যপদ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তা তদন্ত করে দেখা হোক। সরকারি সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োর ঠিকানা কোনও Private Limited Company বা সংশ্লিষ্ট সংগঠন কীভাবে ব্যবহার করছে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, কোম্পানির রেজিস্টার্ড অফিসের ঠিকানা, বিভিন্ন সরকারি নথির ঠিকানা এবং সদস্যপদ কার্ডে ব্যবহৃত ঠিকানা যদি এক না হয়, তার কারণ কী?

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ অবশ্য অন্য জায়গায়। যাঁরা বিশ্বাস করে এই সদস্যপদ নিয়েছেন, ভবিষ্যতে যদি কোনও আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে সেই হাজার হাজার কলাকুশলীর দায়িত্ব কে নেবে? তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করবে কে?

শিল্পীমহলের একাংশের বক্তব্য, তাঁদের লড়াই কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়। তাঁদের একমাত্র চাওয়া, এমন একজন নিরপেক্ষ নেতৃত্ব, যিনি রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে প্রযোজক ও কলাকুশলীদের মধ্যে সুস্থ সমন্বয় বজায় রাখবেন। যাতে একদিকে প্রযোজকদের কাজ বাধাগ্রস্ত না হয়, অন্যদিকে টেকনিশিয়ানরাও তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক, অধিকার এবং সম্মান থেকে বঞ্চিত না হন।

এত প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। ২০১৯ সালে যে সদস্যপদের জন্য হাজার হাজার টেকনিশিয়ান অর্থ ব্যয় করেছিলেন, সেই কার্ডের বর্তমান মূল্য বা কার্যকারিতা কী, আবার কেন নতুন করে সদস্যপদ কার্ডের প্রয়োজন পড়ল, আর এই প্রক্রিয়ার শেষ পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে। টলিউডের আলো ঝলমলে পর্দার আড়ালে নিরলস পরিশ্রম করা কলাকুশলীদের একটাই প্রত্যাশা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে তাঁদের বিশ্বাস নিয়ে আর কোনও বিভ্রান্তি তৈরি হবে না।

এর মধ্যেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে অন্য একটি কারণে। অভিযোগ, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর নাকি এমন কোনও সংগঠনের অস্তিত্বই স্বীকার করছেন না। অথচ সেই সংগঠনের নামেই সদস্যপদের ফর্ম বিক্রি হচ্ছে এবং অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরস্পরবিরোধী পরিস্থিতিই টলিউডের টেকনিশিয়ান মহলে নতুন করে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User